Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই আজ বৈঠক শুভেন্দুর

বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপর রয়েছে বিপুল প্রত্যাশা পূরণের চাপ

কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই আজ বৈঠক শুভেন্দুর
  • ১১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই তাদের উপর রয়েছে বিপুল প্রত্যাশা পূরণের চাপ। এই প্রেক্ষাপটে আজ, সোমবার নবান্ন সভাঘরে দফায় দফায় বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, প্রথম দিনের বৈঠকে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে নারীসুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে। ইতিমধ্যে শপথ নেওয়া পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে আজ বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ নবান্ন সভাঘরে বৈঠক করবেন শুভেন্দু। তারপর সেখানেই রাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর বিকাল ৪টায় সমস্ত জেলাশাসক এবং ৫টায় পদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাঁর। 

Advertisement

রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে বাংলার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে শিল্পদপ্তর। উন্নত শিল্প পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোন কোন কাজ আটকে রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছে তাজপুর বন্দর। রাজ্যের প্রশাসনিক মহল মনে করছে, কেন্দ্রের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়। তাই আদানিরা দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর একাধিকবার দরপত্র ডেকেও তাজপুর বন্দর নির্মাণ এবং পরিচালনার বরাত দেওয়া সম্ভব হয়নি। বাংলায় এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। ফলে এক্ষেত্রে আর তেমন সমস্যা হবে না বলেই আশাবাদী সংশ্লিষ্ট আমলারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রাজ্য সরকারের প্রকল্প হলেও বন্দর পরিচালনা বাবদ শুল্ক নির্ধারণ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন্দ্র বা তাদের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থার হাতে রয়েছে। তাই কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে ফাঁক থাকলে এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যত অসম্ভব। ২৫ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প চালু হলে অন্তত ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কর্মসংস্থানের প্রশ্নে নতুন সরকারের কাছে তাজপুর বন্দর অগ্রাধিকার পেতে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।  
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে সব ধরনের শিল্পেই ‘উৎসাহমূলক ছাড়’ প্রত্যাহার করেছিল পূর্বতন সরকার। এই সিদ্ধান্তে অখুশি হয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা। প্রশাসনিক মহলও মনে করছে, তিন যুগ ধরে চলা সমস্ত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনসেনটিভ স্কিম’ তুলে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারিয়েছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর এই ইনসেনটিভ স্কিমগুলি পুনর্বহাল করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে মুখ্যমন্ত্রীর আজকের বৈঠকে। এক অভিজ্ঞ আমলার কথায়, ‘আগের রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ আইন তুলে দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের সরাসরি জমি কিনতে হত। তবে তার বাইরেও বিনিয়োগকারীদের জন্য যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা আছে। বিনিয়োগের ইচ্ছা থাকলেই উপায় হবে।’ সেক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বার্থে রাজ্যের শিল্পনীতির আমূল পরিবর্তন করা হবে কি না, সেই দিশা মিলতে পারে আজকের বৈঠকেই। সূত্রের খবর, রাজ্যে অন্তত চারটি বৃহৎ শিল্পতালুক তৈরির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে আজকের বৈঠকে। রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগমের হাতে থাকা বন্ধ হিন্দমোটর কারখানার প্রায় ৩৪০ একর জমিতে দ্রুততার সঙ্গে শিল্পতালুক গড়ে তোলার বিষয়ে মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকালে বৈঠক করবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার সিপি সহ উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে। নারীসুরক্ষার জন্য প্রস্তাবিত ‘দুর্গা বাহিনী’ গঠন, পুলিশি নিরাপত্তার সুবন্দোবস্ত, অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ ইত্যাদি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন। সেই সঙ্গে রাজ্যের হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, শূন্যপদ পূরণ সহ সার্বিক পরিষেবা উন্নয়নে বাড়তি নজর দিতে চলেছে নয়া সরকার। সব মিলিয়ে আজ রাজ্যবাসীর নজর থাকবে নবান্ন সভাঘরে।

সম্পর্কিত সংবাদ