লন্ডন: এজবাস্টনে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের উচ্ছ্বাস সঙ্গে নিয়েই লর্ডস টেস্টের ভাবনা শুরু টিম ইন্ডিয়ার। উৎসবের আবহেও আত্মতুষ্টির ব্যাপারে সতর্ক শিবির। সিরিজে সমতা ফেরানোর পরই অধিনায়ক শুভমান গিল তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এই টেস্ট শুরুর আগেই বলেছিলাম, পরিসংখ্যান বা ইতিহাস মাথায় রাখছি না। গত ৫০-৬০ বছরে এজবাস্টনে আমরা সাতটা টেস্ট হেরেছি। কিন্তু মাথায় রাখা দরকার, সময় অনেক বদলেছে। আমার বিশ্বাস, ইংল্যান্ডে আসা এটাই সেরা ভারতীয় দল। দক্ষতার পূর্ণ প্রতিফলনে এবার সিরিজ জেতার ক্ষমতা রয়েছে। ছন্দ পেয়ে গিয়েছে দল। লড়াকু মানসিকতা বজায় রাখতে পারলে এই সিরিজ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ বার্তা পরিষ্কার, অ্যান্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি জেতাই লক্ষ্য তরুণ অধিনায়কের। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর টিম ইন্ডিয়া সোমবারই পৌঁছে গেল লন্ডনে। বৃহস্পতিবার লর্ডসে শুরু তৃতীয় টেস্ট।
হেডিংলেতে অপ্রত্যাশিত হারের ধাক্কা কাটিয়ে বার্মিংহামে ৩৩৬ রানের জয়ে রচিত হয়েছে ইতিহাস। দুই ইনিংস মিলিয়ে গিলের ব্যাটে এসেছে ৪৩০ রান। ম্যাচে দাঁড়িও পড়েছে তাঁর ধরা ক্যাচে। গর্বিত ক্যাপ্টেন বলেছেন, ‘এই জয় তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করব সারা জীবন। অবসরের সময় এটাই সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির স্মৃতি হবে। এই মাঠে অতীতে আমরা কখনও টেস্ট জিতিনি বলেই সাফল্যটা এত মধুর।’ সতীর্থদের প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত গিল বলেন, ‘ব্যাটে-বলে প্রত্যেকে অবদান রেখেছে। এটাই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাদা আলাদা ক্রিকেটার পারফর্ম করেছে। সাফল্য পেতে গেলে এমটাই দরকার। এভাবেই চ্যাম্পিয়ন দল গড়ে ওঠে।’
জেতার পর ড্রেসিং-রুমে ছিল উৎসবের বাতাবরণ। তারমধ্যেই গিল বাকি তিন টেস্টের জন্য উদ্দীপ্ত করেন ক্রিকেটারদের। তৃতীয় টেস্টের প্রথম এগারো নিয়েও শুরু হয়েছে চিন্তাভাবনা। যশপ্রীত বুমরাহ ফিরছেনই। সেক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণাই সম্ভবত বাদ পড়বেন। প্রশ্ন উঠছে করুণ নায়ার ও নীতীশ রেড্ডিকে নিয়ে। চর্চায় কুলদীপ যাদবের বসে থাকাও। এই প্রসঙ্গে স্বয়ং গিল বলেছেন, ‘কুলদীপের মতো বোলারকে বসিয়ে রাখা সহজ সিদ্ধান্ত নয়। অনেক ভেবেচিন্তে ওয়াশিংটন সুন্দরকে খেলিয়েছি এজবাস্টনে। তার কারণ ব্যাটিংয়ে গভীরতার প্রয়োজন ছিল। প্রথম ইনিংসে সুন্দরের সঙ্গে আমার জুটি ম্যাচের প্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই জুটি না হলে বড়জোর ৯০ রানের লিড পেতাম। ১৮০ রানের মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা মিলত না।’
ম্যাচে দশ উইকেট নেওয়া আকাশদীপের কণ্ঠে উচ্ছ্বাসের সুর। বাংলার পেসারটি বলেছেন, ‘দল জিতেছে বলেই ভালো লাগছে। ম্যাচ ড্র হলে এত আনন্দ পেতাম না।’ সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থের মন্তব্য, ‘গতবার এখানে জিততে পারিনি। এই সাফল্যের স্বাদ সেজন্যই আলাদা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’