জয়পুর: বিজয় হাজারে ট্রফিতে হিমাচল প্রদশের বিরুদ্ধে ৫৩ বলে ঝোড়ো ৮২ করে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন শ্রেয়স আয়ার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে ভারতীয় স্কোয়াডে জায়গা পেলেও তাঁর ফিটনেস নিয়ে শর্ত চাপানো হয়েছিল। অর্থাৎ, কিউয়িদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য তাঁর প্রয়োজন ছিল বিজয় হাজারে ট্রফিতে রান পাওয়া। সেই লক্ষ্যে সফল শ্রেয়স। তাছাড়া চোট সারিয়ে দীর্ঘদিন পর তিনি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে মাঠে নামলেন। ভালো পারফর্ম করে মনোবল বাড়িয়ে নিতেও সফল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে মুম্বই। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ব্যর্থ। ১৫ করে মাঠ ছাড়েন তিনি। ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে থাকা সরফরাজ খানও হতাশ করেছেন। ১০ বলে তাঁর সংগ্রহ ২১। রানের খরা অব্যাহত সূর্যকুমার যাদবের ব্যাটে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে তাঁর অফ ফর্ম নিয়ে চিন্তা দেখা দিয়েছিল। বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৫০ ওভারের ম্যাচেও ছন্দ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন সূর্য (২৪)। তবে শ্রেয়সের দুরন্ত কামব্যাকে মুম্বইয়ের টপ অর্ডার ব্যাটারদের ব্যর্থতা ঢাকা পড়ে গিয়েছে। তৃতীয় উইকেটে সরফরাজের ভাই মুশির খানের (৭৩) সঙ্গে বড় পার্টনারশিপ গড়েন ভারতের ওয়ান ডে দলের ভাইস-ক্যাপ্টেন। শ্রেয়সের ৮২ রানের মধ্যে রয়েছে ১০টি চার ও তিনটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ১৫৪.৭২।
গত বছর অক্টোবরে চোট পেয়েছিলেন শ্রেয়স। তিন মাস সময় লেগেছে সুস্থ হতে। রিহ্যাবের ধকলে কমেছে ওজনও। তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত ছিলেন। তবে ব্যাট হাতে মাঠে ফিরেই শ্রেয়স বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি আগের ফর্মেই আছেন। শ্রেয়সের কামব্যাকের দিনে মুম্বই নাটকীয়ভাবে জিতল ৭ রানে। তবে ২৯৯ রান তাড়া করতে নেমে হিমাচল প্রদেশ একটা সময় জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছিল। শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ১২ রান। হাতে ২ উইকেট। কিন্তু শিবম দুবের (৪-৬৮) অনবদ্য বোলিং জেতায় মুম্বইকে।
শ্রেয়সের মতোই নজর ছিল শুভমান গিলের উপর। বহু টালবাহানার পর অবশেষে পাঞ্জাবের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফিতে নেমেছিলেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের আগে ছন্দ ফিরে পাওয়াই ছিল তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু গিল হতাশ করলেন। পাঞ্জাব ৬ উইকেটে গোয়াকে হারালেও গিলের ব্যাটে ঝড় দেখা গেল না। ওপেন করতে নেমে মাত্র ১১ রানে আউট হলেন তিনি। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজেও চাপে থাকবেন ক্যাপ্টেন।