নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কংগ্রেসের সঙ্গে কি তৃণমূল কংগ্রেস মিশে যাচ্ছে? ঠিক এই প্রশ্নে দিল্লির রাজনৈতিক মহল যখন তপ্ত, তখন সেই আঁচ এসে পড়েছে বাংলায়। বুধবার দুপুরের পর থেকে কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে অনেকের প্রশ্ন, আগামী দিনে কি হবে? যদি কংগ্রেস ও তৃণমূল মিশে যায়, তাহলে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কীভাবে এগবে কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচি কি হবে, সেসব নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।
তবে সবটা জল্পনা এবং চর্চার স্তরে রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে দু’রকম মত উঠে এসেছে। বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের কথায়, রাজনীতি হচ্ছে সম্ভাবনাময় শিল্প। রাজনীতি কখন, কোন দিকে বাঁক নেয়, কি অবস্থান তৈরি হয়, তা সময়ের উপর নির্ভর করে। বিজেপির অরাজকতার বিরুদ্ধে দেশের সংবিধানকে রক্ষা করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব হল দেশ বাঁচানোর লড়াই। রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী করার লক্ষ্য নিয়ে কংগ্রেস কর্মীরা এগিয়ে চলেছেন। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থে যাঁরা কংগ্রেসের লড়াইয়ের অংশিদার হতে চান, তাঁদের স্বাগত। দরজা খোলা আছে। কিন্তু বিজেপির মত আমাদের কাছে কিন্তু ওয়াশিং মেশিন নেই।
তবে তৃণমূলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর প্রতিক্রিয়া, এখন কি হচ্ছে, কে কার কাছে আসছে-যাচ্ছে তারা জানে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে হেরেছেন বলেই আসছেন, আগে তো আসেননি। দিল্লিতে কি বৈঠক হচ্ছে, কোনো সমঝোতা কি না, আমার জানা নেই। দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলে, তখন সব বিষয় বলতে পারব। কংগ্রেস-তৃণমূলের সমঝোতা নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, দিল্লিতে মিটিং, ইটিং অনেক কিছুই হয়। শেষটা কি হয়, সেটা দেখা যাক। তারপর মন্তব্য করব। রাজনীতিতে যদি দিয়ে কিছু হয় না, সবটা দেখে তারপর বলা যাবে।