Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীতের তীব্রতা বাড়লেও গ্রামাঞ্চলে লেপ তৈরি করার এখনও ধুম পড়েনি

শীতের তীব্রতা বাড়লেও গ্রামাঞ্চলে লেপ তৈরি করার এখনও ধুম পড়েনি
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ চলছে। শীতের ছোঁয়া লেগেছে গ্রাম বাংলায়। রাত বাড়লেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। তবে আগের মতো গ্রামে গ্রামে লেপ তৈরির ধুম পড়েনি। তুলো ধোনার টুং টাং শব্দ আর শুনতে পাওয়া যায় না গ্রাম বাংলায়। তাই কাজ না পেয়ে বাড়িতেই বসে থাকতে হয় লেপ তৈরির কারিগর বা ধুনকরদের। কাজ না পেয়ে অনেকেই সংসার চালাতে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। যাঁরা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন, আগামী মরশুমে তাঁদেরকে দেখা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ লেপের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন ধরনের ব্ল্যাংকেট বাজার দখল করেছে।মালদহের চাঁচল মহকুমা এলাকায় শীত শুরু হলেও লেপ তৈরির তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। লেপ ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। পাশাপাশি কাজ না পেয়ে বাড়িতে বসে থাকতে হয় ধুনকরদের। তাই এনিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন লেপ ব্যবসায়ী ও ধুনকররা। এই প্রসঙ্গে  হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সায়রা গ্রামের ধুনকর বাবলু মিয়াঁ বলেন, আমি দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। আগে শীতের শুরুতেই লেপ তৈরির অর্ডার আসত। দোকানে বসে তখন কাজ করতাম, ফুরসত পেতাম না। এখন দোকানে বসে থাকি কিন্তু তেমন কাজের বরাত আসে না। কাজ না হলে মালিক টাকা দেয় না। তখন কাজের জন্য গ্রামে গ্রামে ঘুরি। কখনও সারাদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে একটা বরাতও পাওয়া যায় না। এভাবে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে বুঝতে পারছি না। হতাশার সুরে সায়রা গ্রামের ধুনকর সাহাবুদ্দিন মিয়াঁ, মোবারক মিয়াঁরা বলেন, এক সময় দিনে পাঁচটা করে লেপের অর্ডার পেতাম। এখন মাঝেমধ্যে এক দু’টি আসে। বেশির ভাগ দিন বসে থাকতে হয়। চাহিদা কমে গেছে বলে মজুরিও তুলনামূলক কমে গিয়েছে। এই কাজ করে সংসার চালানো দায়। এই পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সাহায্যের দাবি করছি। এপ্রসঙ্গে রতুয়া-১ ব্লকের সামসির পাইকারি লেপ ব্যবসায়ী মঞ্জুর আলম বলেন, বছর দশেক আগে শীত পড়লেই লেপ তৈরির ধুম পড়ত। লেপ তৈরির সামগ্রী নিতে খুচরো ব্যবসায়ীরা দোকানে ভিড় জমাত। বাজারে লেপের তুলনায় ব্ল্যাংকেটের চাহিদা বৃদ্ধিতে লেপ ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ