সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: শীতের মরশুমে শিবনিবাসে পর্যটকদের ঢল নামছে। শীতের রোদ মেখে বাগান ও কটেজে জমিয়ে পিকনিক চলছে। শুধু শিবনিবাস নয়, গোটা কৃষ্ণগঞ্জের একাধিক এলাকায় দর্শনীয় স্থানে ঘোরা ও পিকনিক চলছে। জেলাজুড়ে প্রচুর দর্শনীয় স্থান রয়েছে। জেলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ধর্ম নিয়ে চর্চার কারণে বরাবরই এই জেলা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়। কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে থাকার জন্য জেলায় প্রথম হোম স্টে তৈরি হয়েছিল। একসময় অনেকে শিবনিবাসের সঙ্গে কাশীর তুলনা করতেন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে শিবনিবাস সরিয়ে আনেন। গ্রামের নামকরণ করেছিলেন শিবনিবাস। এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ ও কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট রয়েছে। ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে কৃষ্ণচন্দ্রর প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে পুরনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। এমনকী এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গ বলে অনেকে মনে করেন। মন্দির দেখতে আসেন ভক্তরা, পুজোও দেন। পাশেই রয়েছে রাম-সীতা মন্দির সহ একাধিক মন্দির। শীতের মরশুম এলেই পর্যটকরা মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজধানী দেখতে আসেন। ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের রোজগার হয়। চা, খাবার, ফুল, ফল, হোটেল লজ ব্যবসায়ীরা সারা বছর শীতের মরশুমের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অটো ও টোটোচালকরাও এইসময় বেশি আয় করেন। টোটো অটোতে করে শিবনিবাস থেকে মাজদিয়া থেকে মাটিয়ারি বানপুরের ৩৬০ বছরের বেশি পুরনো রুদ্রেশ্বরের শিবমন্দির যাওয়া যায়। দক্ষিণমুখী চারচালা বিশিষ্ট পোড়ামাটির ভাস্কর্যের শিবমন্দিরটি জেলার অন্যতম প্রাচীন শিবমন্দির বলে মনে করা হয়। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে টেরাকোটার কাজ রয়েছে। মন্দিরের গায়ে থাকা পোড়ামাটির মূর্তির মধ্যে নৌকাবিলাস, গোপিনীদের বস্ত্রহরণ, কৃষ্ণলীলা, অশ্বারুঢ় যোদ্ধা, হাতির পিঠে মোঘল যোদ্ধাদের ফলকগুলি আলাদা ঐতিহ্য বহন করে। মন্দিরে মার্বেল পাথরের শিবলিঙ্গ রয়েছে। রুদ্রেশ্বর মন্দিরের শিবলিঙ্গ নিত্যপুজো করা হয়। কাছেই রয়েছে বহু পুরনো মালেক উল গাউস সাহেবের বিখ্যাত দরগা। এর ভিতরে রয়েছে পুকুর। এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ আসেন।



