সংবাদদাতা, মায়াপুর: পৌষের শীতের ঠান্ডা আমেজ গায়ে মেখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটক ভিড় জমাচ্ছেন নবদ্বীপের কোলেরডাঙা শ্রীচৈতন্য সারস্বত মঠে। জলপূর্ণ বাঁধানো সরোবরের মাঝে গিরিরাজের মন্দির থাকায় এই মন্দির ‘জলমন্দির’ হিসেবেই পরিচিত। তবে এখানকার বিশেষ আকর্ষণ মৃগকানন। মন্দির সংলগ্ন জাল দিয়ে ঘেরা মাঠে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় চল্লিশটি হরিণের বিশাল পরিবার। তবে শুধু হরিণ নয়, পাশাপাশি এখানে আছে বেশ কিছু খরগোশ, রাজহাঁস। তাই একে ‘মিনি চিড়িয়াখানা’ বললেও নেহাৎ ভুল হবে না।
Advertisement
এ প্রসঙ্গে মঠের আবাসিক নিমাই প্রভু জানান, এখানে আগে মাত্র কয়েকটি হরিণ ছিল। পরবর্তীতে বংশবৃদ্ধির ফলে ইদানীং হরিণের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে। আর এদের দেখতেই সকাল থেকে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। ওদের দেখভাল করার জন্য নির্দিষ্ট পরিচারকও আছেন। আরেক আবাসিক বামন মহারাজ বললেন, আশা করা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সময়ে পর্যটকদের ভিড় আরও বাড়বে। জলমন্দিরের পাশাপাশি মূলত হরিণ দেখতেই এখানে প্রচুর মানুষ আসেন। সাধারণত একসঙ্গে এত হরিণ কোনও মঠ-মন্দিরে দেখা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দা, হরিণের খাবার বিক্রেতা সমীর সেন জানালেন, এখন ছুটির মরশুম শুরু হয়েছে। বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে মানুষজন এখানে আসছেন। আর হরিণগুলো আছে বলেই তো হরিণের খাবারও বিক্রি হচ্ছে। প্রায় একই কথা শোনা গেল জলমন্দিরের প্রবেশদ্বারের পাশে রকমারি মূর্তির পসরা সাজিয়ে বসা বছর আটাত্তরের গৌতম দাসের গলাতেও। তাঁর কথায়, সিজন শুরু হল। চলবে একদম দোল পর্যন্ত। হরিণ দেখতে এখানে বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ আসছেন। শীতের এই সময়ে মোটামুটি সারাদিনই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকছে। দুপুরের দিকে একটু কম হলেও বিকেল চারটের পর থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত প্রতিদিনই বেশ ভালো ভিড় হচ্ছে। হরিণের দৌলতে আমাদের বিকিকিনিও অনেকটাই বেড়ে গেছে। নদীয়ার বেথুয়াডহরির বাসিন্দা যুবক গৌরাঙ্গ সাহা, প্রৌঢ়া নিরুপমা সাহারা জানালেন, এখানে এত হরিণ আছে জানতে পেরেই দেখতে এসেছি। পরিবারের সকলকে নিয়ে এখানে এসেছি। হরিণের খাবার কিনলাম। পরিবারের খুদে সদস্যটি নিজের হাতে হরিণকে খাবার খাইয়ে খুব আনন্দ পেয়েছে।



