নিজস্ব প্রতিনিধি, মুকুটমণিপুর: বাঁকুড়ায় জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। বর্তমানে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। এইসময় জঙ্গলমহলের এই জেলা পর্যটকের ভিড়ে ঠাসা থাকে। তবে এবার জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মুকুটমণিপুর এখনও ফাঁকা ফাঁকা রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে হোটেল মালিক থেকে ছোট ব্যবসায়ী, কার্যত সকলের মাথায় হাত। চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের আধিকারিকদের কপালেও।
Advertisement
খাতড়ার মহকুমা শাসক শুভম মৌর্য বলেন, রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগে মুকুটমণিপুরকে গত কয়েক বছরের ঢেলে সাজা হয়েছে। প্রতিবার শীত পড়তেই মুকুটমণিপুরে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়ে যায়। এবার এখনও পর্যন্ত কেন পর্যটক আসছে না তা আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।
মুকুটমণিপুর হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তাপসকুমার মণ্ডল বলেন, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মুকুটমণিপুরে ১৭টি লজ, হোটেল রয়েছে। ওইসব লজ, হোটেলে প্রায় ২০০ রুম রয়েছে। অন্যান্য বছর পুজোর পর থেকে রুমের বুকিং হয়ে যায়। ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই হোটেল ভর্তি হয়ে যায়। এইসময় মুকুটমণিপুরে কার্যত তিলধারণের জায়গা থাকে না। হোটেলের জন্য পর্যটকরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান। তবে এবার চিত্রটা পুরোপুরি আলাদা। এখনও অধিকাংশ হোটেলের ঘর ফাঁকা পড়ে রয়েছে। হোটেলের লোকজন পর্যটকদের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছেন। গত ১০ বছরে এরকম ঘটনা ঘটেনি।
শীতের পড়ন্ত বেলায় মুটমণিপুর জলাধারে শিকারা নিয়ে বসেছিলেন শ্রাবণ সর্দার। ওই মাঝি বলেন, জঙ্গলমহলবাসী যখন শীতে জবুথবু হয়ে পড়েন, তখন নৌকোর দাঁড় টেনে আমরা কার্যত ঘেমে-নেয়ে যাই। আমার নৌকোয় চড়ে অনেকে জলাধারের চারপাশে ঘুরে আশপাশের পাহাড়-জঙ্গল চাক্ষুষ করেন। আমি কুলের কাছাকাছি ভিড়তেই পর্যটকরা শিকারায় ওঠার জন্য জলাধারের পাড়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন। কিন্তু, এবার তেমন ভিড় হচ্ছে না। দিনভর অপেক্ষা করেও আশানুরূপ রোজগার হচ্ছে না।
শ্রাবণের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সঞ্জয় রাম বলেন, পর্যটনের মরশুমে আমরা দৈনিক অন্তত হাজারখানেক টাকা রোজগার করি। কিন্তু, এবার ভরা শীতেও দিনমজুরিতে পাওয়া পারিশ্রমিকটুকুও জুটছে না। এমন পরিস্থিতি শেষ কবে হয়েছিল তা মনে করতে পারছি না।
হাতেগোনা যে কয়েকজন পর্যটক মুকুটমণিপুরে পৌঁছেছেন তাঁদের মধ্যে বেলেঘাটার বাসিন্দা মামনি সেনগুপ্ত, সোদপুরের বিল্বদল সরকার বলেন, আমরা এই প্রথম জঙ্গলমহলে এসেছি। আগে এখানে ভীতির পরিবেশ ছিল। কিন্তু, এখন সেসব নেই। পুলিস ছাড়াই সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছি। চারিদিকে ঝাঁ চকচকে রাস্তা। খুব কম সময়ে কলকাতা থেকে গাড়িতে মুকুটমণিপুরে পৌঁছনো যাচ্ছে। এখন ভিড় কম রয়েছে। দ্রুত মুকুটমণিপুর কালো মাথায় ভরে যাবে বলো আশা করছি।
প্রসঙ্গত, মুকুটমণিপুর ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম মাটির বাঁধ হিসেবে পরিচিত (তেলেঙ্গনার শ্রীরাম সাগর প্রকল্পের পরেই)। খাতড়া মহকুমায় অবস্থিত ওই জলাধার পিকনিক স্পট ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতি বছর বাঁকুড়া ও কলকাতা সহ ভিনজেলার অনেকে সেখানে ভিড় জমায়। জলাধার সংলগ্ন ডিয়ার পার্ক, অম্বিকানগর রাজবাড়ি সহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের প্রিয় জায়গা। ফলে শীতের মরশুমে মুকুটমণিপুর তাঁদের বারবার হাতছানি দেয়।
মুকুটমণিপুর হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক তাপসকুমার মণ্ডল বলেন, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মুকুটমণিপুরে ১৭টি লজ, হোটেল রয়েছে। ওইসব লজ, হোটেলে প্রায় ২০০ রুম রয়েছে। অন্যান্য বছর পুজোর পর থেকে রুমের বুকিং হয়ে যায়। ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই হোটেল ভর্তি হয়ে যায়। এইসময় মুকুটমণিপুরে কার্যত তিলধারণের জায়গা থাকে না। হোটেলের জন্য পর্যটকরা হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান। তবে এবার চিত্রটা পুরোপুরি আলাদা। এখনও অধিকাংশ হোটেলের ঘর ফাঁকা পড়ে রয়েছে। হোটেলের লোকজন পর্যটকদের জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করছেন। গত ১০ বছরে এরকম ঘটনা ঘটেনি।
শীতের পড়ন্ত বেলায় মুটমণিপুর জলাধারে শিকারা নিয়ে বসেছিলেন শ্রাবণ সর্দার। ওই মাঝি বলেন, জঙ্গলমহলবাসী যখন শীতে জবুথবু হয়ে পড়েন, তখন নৌকোর দাঁড় টেনে আমরা কার্যত ঘেমে-নেয়ে যাই। আমার নৌকোয় চড়ে অনেকে জলাধারের চারপাশে ঘুরে আশপাশের পাহাড়-জঙ্গল চাক্ষুষ করেন। আমি কুলের কাছাকাছি ভিড়তেই পর্যটকরা শিকারায় ওঠার জন্য জলাধারের পাড়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দেন। কিন্তু, এবার তেমন ভিড় হচ্ছে না। দিনভর অপেক্ষা করেও আশানুরূপ রোজগার হচ্ছে না।
শ্রাবণের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সঞ্জয় রাম বলেন, পর্যটনের মরশুমে আমরা দৈনিক অন্তত হাজারখানেক টাকা রোজগার করি। কিন্তু, এবার ভরা শীতেও দিনমজুরিতে পাওয়া পারিশ্রমিকটুকুও জুটছে না। এমন পরিস্থিতি শেষ কবে হয়েছিল তা মনে করতে পারছি না।
হাতেগোনা যে কয়েকজন পর্যটক মুকুটমণিপুরে পৌঁছেছেন তাঁদের মধ্যে বেলেঘাটার বাসিন্দা মামনি সেনগুপ্ত, সোদপুরের বিল্বদল সরকার বলেন, আমরা এই প্রথম জঙ্গলমহলে এসেছি। আগে এখানে ভীতির পরিবেশ ছিল। কিন্তু, এখন সেসব নেই। পুলিস ছাড়াই সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছি। চারিদিকে ঝাঁ চকচকে রাস্তা। খুব কম সময়ে কলকাতা থেকে গাড়িতে মুকুটমণিপুরে পৌঁছনো যাচ্ছে। এখন ভিড় কম রয়েছে। দ্রুত মুকুটমণিপুর কালো মাথায় ভরে যাবে বলো আশা করছি।
প্রসঙ্গত, মুকুটমণিপুর ভারতের দ্বিতীয় দীর্ঘতম মাটির বাঁধ হিসেবে পরিচিত (তেলেঙ্গনার শ্রীরাম সাগর প্রকল্পের পরেই)। খাতড়া মহকুমায় অবস্থিত ওই জলাধার পিকনিক স্পট ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। প্রতি বছর বাঁকুড়া ও কলকাতা সহ ভিনজেলার অনেকে সেখানে ভিড় জমায়। জলাধার সংলগ্ন ডিয়ার পার্ক, অম্বিকানগর রাজবাড়ি সহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থান পর্যটকদের প্রিয় জায়গা। ফলে শীতের মরশুমে মুকুটমণিপুর তাঁদের বারবার হাতছানি দেয়।
সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে শিকারা। যাত্রী নেই। নিজস্ব চিত্র



