Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীতেও জব্দ নয় এডিস! পূর্ব বর্ধমানে এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫৭ জন 

শীতেও জব্দ নয় এডিস! পূর্ব বর্ধমানে এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৫৭ জন 
  • ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শীতেও জব্দ হচ্ছে না এডিস। গত এক সপ্তাহে জেলায় ৫৭জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের মধ্যে কালনা ও ভাতারে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কালনা-১ ব্লকে নতুন করে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন। এই ব্লকে মোট ১৪২জন ডেঙ্গুতে ভুগেছেন। জেলায় চলতি মরশুমে ১০৫২জন আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তর সংখ্যা বাড়লেও কারো মৃত্যু হয়নি। জেলাজুড়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। জ্বর হলে রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিকে ডেঙ্গু ধরা পড়লে বাড়িতে থেকে সুস্থ হওয়া যায়। অনেকেই ৭ থেকে ৮ দিন জ্বরে ভুগলেও রক্ত পরীক্ষা করান না। তাঁরাই সমস্যায় পড়েন। এছাড়া বাড়ির কোথাও জল জমতে না দেওয়ার শপথ নিতে হবে বাসিন্দাদের। মানুষ সচেতন হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সহজ হবে।
Advertisement
স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, নভেম্বর মাসের শেষের দিক থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে। কিন্তু এবার সেই লক্ষ্মণ এখনও দেখা যায়নি। বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকার কারণেই মশার লার্ভা জন্মাচ্ছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, পুরকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। কোথাও জল জমে থাকলে তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এছাড়া কোনও বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বর্ধমান শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কম। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কালনা মহকুমায় গত ২ বছর ধরে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। নদীয়া জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তর সংখ্যা বেশি হয়। কালনা নদীয়ার পাশেই অবস্থিত হওয়ার কারণে সেখানেও অক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে পাশের জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। তাঁদের রেকর্ডও নেওয়া হচ্ছে। হুগলি জেলা থেকেও আক্রান্ত হয়ে পূর্ব বর্ধমানে অনেকেই আসছেন।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ডেঙ্গু মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছিল। তাঁরা প্রতিটি এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করেছিলেন। সেই কারণে কালনা বাদ দিয়ে অধিকাংশ এলাকাতেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আধিকারিকদের দাবি। মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, এই সময় অনেকে ‘ভাইরাল ফিভার’ এ ভুগছেন। তাই জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রক্ত পরীক্ষায় জোর দিতে হবে। অধিকাংশ সময় বাড়িতে থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে জ্বর না কমলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে। আশা করা যায়, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আক্রান্তর সংখ্যা কমতে থাকে। এবছর ঝিরঝিরে বৃষ্টি হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় জল জমে ছিল। মশার লার্ভা নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গায় গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়েছিল। তবে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। সেটা হলেই এডিস দাপট দেখাতে পারবে না। 
সম্পর্কিত সংবাদ