Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শতাব্দীর চেষ্টায় ভোগান্তির অবসান নলহাটিতে পাকা রাস্তা রেলের

শতাব্দীর চেষ্টায় ভোগান্তির অবসান নলহাটিতে পাকা রাস্তা রেলের
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সাংসদ শতাব্দী রায়ের উদ্যোগের পরই নড়েচড়ে বসল রেল। অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়নের ইতি। সোমবার থেকে নলহাটি ২ ব্লকের লোহাপুর থেকে কুমারসান্ডা, শালিসান্ডা হয়ে মোড়গ্রাম পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা পাকা করার কাজে হাত লাগাল রেল। খুশিতে মুখমিষ্টি করলেন এলাকার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে চলায় সাংসদকে ধন্যবাদ জানালেন এলাকার মানুষ।
Advertisement
কুমারসান্ডা, শালিসান্ডা সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ রেল লাইনের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তা ধরে লোহাপুর আসেন। ব্লক অফিস, বাজারহাট, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সরকারি কার্যালয় সবই লোহাপুরে হওয়ায় নিত্যদিন তাঁদের আসা যাওয়া করতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে কৃষকরা মাঠ থেকে বাড়িতে ফসল আনেন। স্বাধীনতার এত বছর পরও সংস্কার না করায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল। তাই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বহুবার রাস্তা পাকা করার দাবিতে আন্দোলন থেকে পোলিও বয়কট করেও ফল পাননি গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ব্লক প্রশাসন বলছে রেলের জায়গা। আর রেলের পক্ষ থেকে কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। বর্তমানে রাস্তা এতটাই বেহাল যে, অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আসতে চায় না। রোগী ও গর্ভবতী মহিলাদের হাঁটিয়ে লোহাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়। কৃষিজ পণ্য ভ্যান রিকশ করে বাজারে নিয়ে যেতে অসুবিধা হচ্ছে। কাছাকাছি লোহাপুর স্টেশনে এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায় না। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে কোনওভাবে মোড়গ্রামে পৌঁছে সেই ট্রেন ধরতে হয়। এর আগে বেশ কয়েকবার চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কার করেছেন গ্রামবাসীরা। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার রাস্তাটির সংস্কার চেয়ে রেলকে চিঠি দিলেও উত্তর পর্যন্ত মেলেনি। মাস চারেক আগে লোকসভায় এই এলাকার মানুষের দুর্দশা তুলে ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হন শতাব্দী রায়। অবশেষে সোমবার থেকে রাস্তাটি পাকা করার কাজ শুরু হল। আর শুভারম্ভে উপস্থিত থাকলেও রেলের কর্তারা। 
জানা গিয়েছে, সাত কিমি লম্বা ও প্রায় সাড়ে তিন মিটার চওড়া রাস্তাটি পিচের করা হবে। সেই সঙ্গে রাস্তার ধারে রেল লাইন বরাবর ফেন্সিং দেওয়া হবে। স্বভাবতই খুশি এলাকার মানুষ। এদিন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা একে অপরের পাশাপাশি পথচলতি মানুষদের মিষ্টিমুখ করান। তৃণমূলের এই ব্লকের ফাইভ ম্যান কমিটির সদস্য আবু জাহের রানা বলেন, রেলের এই রাস্তাটি স্বাধীনতার পর থেকেই কাঁচা অবস্থায় ছিল। প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা অনেক চেষ্টা করেছি পাকা করার। কিন্তু রেল অনুমতি দেয়নি। সাংসদ লোকসভার অধিবেশনে রাস্তাটি পাকা করে দেওয়ার জন্য সোচ্চার হয়েছিলেন। অবশেষে রেল রাস্তাটি পাকা করার কাজ শুরু করল। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটতে চলেছে। এর জন্য সাংসদকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর প্রতি আমাদের আস্থা আরও বেড়ে গেল।  এব্যাপারে শতাব্দী রায় বলেন, ওই রাস্তাটি পাকা করার জন্য বহুবার রেলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হেলদোল ছিল না। খুবই কষ্টের মধ্যে ছিলেন এলাকার মানুষ। আমি তাঁদের কথা দিয়েছিলাম চেষ্টা করব। সেই মতো লোকসভায় বিষয়টি তুলেছিলাম। রেল রাস্তাটি পাকা করার কাজ শুরু করায় সাধারণের মানুষের খুবই উপকার হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ