Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীতে সার্কাসে ফাঁকা দর্শকাসন, সমস্যায় শিল্পীরা

শীতে সার্কাসে ফাঁকা দর্শকাসন, সমস্যায় শিল্পীরা
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: হারিয়ে যেতে বসেছে শীতকালীন সার্কাস। গ্রামেগঞ্জে তাঁবু ফেললেও দর্শকাসন ফাঁকাই থাকে। কলাকুশলীদের সংসার টানতে হিমশিম খেতে হয়। রঙ মেখে, জীবন বাজি রেখে খেলা দেখালেও দুঃখের জীবন তাঁদের। কাটোয়ায় সার্কাস ময়দান নামটাই রয়ে গিয়েছে। তবে সেখানে এখন সার্কাসের তাঁবুর বদলে উঠেছে বহুতল।
Advertisement
কাটোয়া-২ ব্লকের কড়ুই-কৈথন গ্রাম লাগোয়া জমিতে সার্কাসের তাঁবু পড়েছে। সেখানেই ঢুঁ মেরে পরিচয় হল মণিপুর, অসমের কলাকুশলীদের সঙ্গে। নানা সমস্যার কথা জানালেন তাঁরা।
একসময় সার্কাসে হাতি, বাঘ, সিংহের খেলা দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমাতেন। এখন সার্কাসে পশুর খেলা দেখানো নিষিদ্ধ করেছে সরকার। শুধু জিমন্যাস্টিক, জাগলিং, স্টান্ট দেখিয়েই দর্শকদের মন জয় করছেন সার্কাসের কলাকুশলীরা। কিন্তু এখন সার্কাস দেখতে মানুষের উৎসাহে ভাটা পড়েছে। যে কয়েকজন আসেন, তাঁদের অনেকেরই লক্ষ্য সার্কাসের রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা। ফলে সার্কাস চালানোর খরচ উঠছে না। তাঁবুর ভিতর আলুসেদ্ধ ভাত খেয়েই পড়ে থাকছেন মণিপুর, অসম থেকে আসা কলাকুশলীরা।
অসমের ওই সার্কাসের মালিক মদন কার্জি বলেন, সারা রাজ্য ঘুরেও এখন শিল্পীদের পারিশ্রমিক জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়। বছরের পর বছর ধরে আমরা সার্কাস শিল্পটাকে টিকিয়ে রেখেছি। জাগলিং মাস্টার আজাদ শেখ বলেন, ছোটবেলা থেকেই সার্কাসে রয়েছি। এটা ছাড়া আমরা অন্য কাজ করতে পারব না। সরকারের এবার আমাদের নিয়ে কিছু ভাবা উচিত। সার্কাস শিল্পটা বাঁচানো দরকার। এখন তো সার্কাস কেউ দেখে না। তবু যেখানেই তাঁবু ফেলছি, সেখানেই প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া উচিত। আমরা আছি বলেই এখনও অনেকে এসে আমাদের নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন।
সার্কাসের ম্যানেজার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ছোটবেলায় আমার বাবা নিখোঁজ হয়ে যান। মা সেই শোকে মারা যান। সংসার টানতে ছোটবেলা থেকেই সার্কাসে রয়েছি। খেলা দেখাতে গিয়ে বহু দুর্ঘটনা ঘটতে স্বচক্ষে দেখেছি। তবু সার্কাস ছাড়া আমরা অন্য কিছু ভাবতে পারি না। এখন দর্শকদের চেয়ার ভর্তি হয় না। সার্কাস মানেই বাঘ-সিংহ-এই ধারণা বদলাতে হবে।
রংচং মেখে সবার সামনে দিনে তিনবার ‘মাস্টারজি’র ব্যাটের মার খেতে হয়। তবু অভাব নিত্যসঙ্গী। এমনটাই জানালেন রাজ্জাক শেখ। তিনি বলেন, আগে ওড়িশায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সবার কটূক্তি শুনতে হয়েছে। শেষে পেট চালাতে লোক হাসানোর কাজের ভার নিলাম। সার্কাসে জোকারের কাজ করি। আমি চাই, সবাই আবার সার্কাস দেখতে আসুন। সিনেমা বা টিভির পর্দায় নায়কের কেরামতি দেখে এখনও মানুষ হাততালি দেন। সার্কাসে এলে তাঁরা নানা কেরামতি চাক্ষুষ দেখতে পাবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ