সংবাদদাতা, কালনা: শীত পড়তেই পর্যটন কেন্দ্র কালনা শহরের রাজবাড়ি চত্বর ও ১০৮ শিবমন্দির সহ অন্যান্য মন্দির সেজে উঠেছে। আসতে শুরু করেছেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। শহরে শীতকালীন উৎসব বইমেলা হচ্ছে জানুয়ারির ১৭ থেকে ২৩ পর্যন্ত।
Advertisement
কালনা শহরের বুকে রয়েছে পাঁচশো থেকে দু’-তিনশো বছরের প্রাচীন মন্দির মসজিদ ও চার্চ সহ নানা স্থাপত্য। শহরের মধ্যস্থলে রাজবাড়ি চত্বরে রয়েছে ১০৮ শিবমন্দির। ৭৪ ও ৩৪ দু’টি বৃত্তাকারে রয়েছে মন্দিরগুলি। ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ তেজচন্দ্র বাহাদুরের আমলে নির্মিত এগুলি। সাদা ও কালো পাথরের শিবলিঙ্গ প্রত্যেকটি উত্তর দিক নিদিষ্ট করে স্থাপন করা হয়েছে। সুউচ্চ ২৫ চূড়াবিশিষ্ট লালজি মন্দির ১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। মন্দিরের সম্মুখভাগে রয়েছে নাটমন্দির ও পর্বতাকৃতি মন্দির। এটি গিরিগোবর্ধন পর্বত নামে পরিচিত। পাশেই রয়েছে প্রতাপেশ্বর মন্দির। রাজবাড়ি চত্বরে রয়েছে বৃহৎ একটি শিবলিঙ্গ। প্রতাপেশ্বর দেউল নামে তা খ্যাত। পাশেই আরও একটি সুউচ্চ পঁচিশ চূড়াবিশিষ্ট কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির রয়েছে। এছাড়াও রাসমঞ্চ, রূপেশ্বর মন্দির ও পঞ্চরত্ন মন্দির রয়েছে। এই সবই এক-দেড়শো মিটারের মধ্যে। স্থাপত্যগুলি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের অধীন। এছাড়াও শহরজুড়ে রয়েছে প্রাচীন ২৫ চূড়া গোপালবাড়ি মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, বাসুদেব মন্দির, সাধক ভবাপাগলার ভবার ভবানী মন্দির, সাধক ভগবানদাস বাবাজির পাতাল গঙ্গা, সাধক কমলাকান্তের বাস্তুভিটা, পাঁচশো বছরের প্রাচীন মহাপ্রভু মন্দির, শ্যামসুন্দর মন্দির সহ আরও নানা প্রাচীন স্থাপত্য। এছাড়াও মুসলিম নিদর্শন দাঁতনকাঠিতলা মসজিদ, হাবসি মসজিদ। জাপট মিশন সংলগ্ন খ্রিস্টীয় প্রাচীন উপাসনাস্থল চার্চ।
ব্যান্ডেল-কাটোয়া রেল রুটে অম্বিকা কালনা স্টেশনে নেমে ও কালনা বাসস্ট্যান্ড থেকে অটো বা টোটোয় ১০ মিনিটের পথ। অন্যদিকে নদীয়া জেলা থেকে আসার কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাট পেরিয়ে পাঁচ মিনিটের পথ।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েল বলেন, রাজবাড়ি চত্বর এলইডি আলো দিয়ে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবটাই এখন পুরাতত্ত্ব বিভাগের অনুমতির অপেক্ষায়।
কালনার ইতিহাস গবেষক শিক্ষক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কালনার প্রাচীন স্থাপত্য মন্দিরগুলি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখলে হবে না। মন্দির গাত্রে ভাস্কর্যের শিল্প নৈপুণ্য ও মন্দিরগুলির গঠন শৈলী, তৎকালীন জীবন চর্চা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট স্থাপত্য পর্যটকদের মন ভরাবে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি অনেক গুণ বেড়েছে। সাধারণ পর্যটকরাও ভিড় করছেন। এটা ভালো দিক। তবে, পর্যটকদের জন্য থাকার আরও ভালো গেষ্ট হাউস থেকে হোটেল, লজ দরকার। সরকার বা বেসকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। রাজবাড়ি চত্বরে বেশ কিছু আলো খারাপ হয়ে আছে। সেগুলি সারাইয়ের ব্যবস্থা করলে রাতের পর্যটকদের কাছে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
ব্যান্ডেল-কাটোয়া রেল রুটে অম্বিকা কালনা স্টেশনে নেমে ও কালনা বাসস্ট্যান্ড থেকে অটো বা টোটোয় ১০ মিনিটের পথ। অন্যদিকে নদীয়া জেলা থেকে আসার কালনা-শান্তিপুর ফেরিঘাট পেরিয়ে পাঁচ মিনিটের পথ।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েল বলেন, রাজবাড়ি চত্বর এলইডি আলো দিয়ে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষনীয় করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবটাই এখন পুরাতত্ত্ব বিভাগের অনুমতির অপেক্ষায়।
কালনার ইতিহাস গবেষক শিক্ষক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কালনার প্রাচীন স্থাপত্য মন্দিরগুলি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গীতে দেখলে হবে না। মন্দির গাত্রে ভাস্কর্যের শিল্প নৈপুণ্য ও মন্দিরগুলির গঠন শৈলী, তৎকালীন জীবন চর্চা ও সামাজিক প্রেক্ষাপট স্থাপত্য পর্যটকদের মন ভরাবে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি অনেক গুণ বেড়েছে। সাধারণ পর্যটকরাও ভিড় করছেন। এটা ভালো দিক। তবে, পর্যটকদের জন্য থাকার আরও ভালো গেষ্ট হাউস থেকে হোটেল, লজ দরকার। সরকার বা বেসকারি ভাবে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। রাজবাড়ি চত্বরে বেশ কিছু আলো খারাপ হয়ে আছে। সেগুলি সারাইয়ের ব্যবস্থা করলে রাতের পর্যটকদের কাছে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।



