সংবাদদাতা, করিমপুর: নভেম্বর মাস শেষ হতে চলল। হাল্কা শীতের ছোঁয়া লাগতেই বিভিন্ন শহরে রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকানে রঙ বেরঙের কম্বল বিক্রি শুরু হয়েছে। বড় বড় কাপড়ের দোকানের সামনেও কম্বলের পসরা সাজিয়ে রাখছেন দোকানিরা। আর এই কারণেই ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন লেপ ব্যবসায়ীরা। কারণ বর্তমানে শীতের সময় তুলোর তৈরি লেপের তুলনায় কম্বলের ব্যবহার অনেক বেড়ে দিয়েছে। কমেছে লেপ তৈরির কাজ। ফলে ব্যবসায় মন্দার সম্মুখীন হচ্ছেন বিহার থেকে আসা ও স্থানীয় লেপ ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, আগে শীতের শুরুতে নভেম্বর মাসে মূলত বিহার থেকে তুলোর তৈরি লেপ প্রস্তুতকারকরা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আসতেন। বাজারের দোকান ছাড়াও তারা এলাকার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে লেপ তৈরি কিংবা তৈরি লেপ ফেরি করতেন। কিন্তু এখন বাজারে কম্বল এসে যাওয়ায় লেপ তৈরির কাজ কয়েক গুণ কমে গিয়েছে। করিমপুরের লেপ প্রস্তুতকারক মহঃ আব্বাস বলেন, আগে তিন মাসের জন্য বিহার থেকে এখানে আসতেন এবং এলাকায় প্রায় তিন মাস লেপ তৈরি করতেন। বছর দশ বারো আগেও দিন রাত এই কাজের চাপ থাকত। প্রতিদিন প্রায় দশটি লেপ তৈরি করতে হত অথচ এখন সেই সংখ্যা পাঁচের নিচে নেমে গিয়েছে। আর এক লেপ ব্যবসায়ী বলেন, একটি লেপ তৈরি করতে প্রায় এক হাজার থেকে আঠারোশো টাকা খরচ হয়। ওই দামে এখন অনেকেই ওজনে হাল্কা ও শৌখিন এই কম্বল কিনছেন। বস্ত্র প্রতিষ্ঠান বা অন্য দোকানেও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ী গঙ্গা শাহ বলেন, আগে বিহারের লোক একচেটিয়া লেপ তৈরি ও ব্যবসা করলেও বর্তমানে এখানকার বহু ব্যবসায়ী লেপ তৈরি করছেন এবং গ্রামে গ্রামে বিক্রি করছেন। যে কারনে বাজারের দোকানে ক্রেতারা আসছেন না। লেপের পরিবর্তে ব্ল্যাঙ্কেটের বিক্রি বেশি হওয়ায় অনেক লেপ প্রস্তুতকারক একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাদের দোকানে লেপের পাশাপাশি কম্বলও বিক্রি করছেন। একইভাবে লেপের মত অনেক ব্যবসায়ী পাড়ায় পাড়ায় সাইকেল বা বাইকের পিছনে করে কম্বল ফেরি করছেন। লেপের ব্যবসা খারাপ হওয়ার জন্য বিহারের কয়েকজন ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।



