Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীত পড়তেই হাজির পরিযায়ী পাখির দল

শীত পড়তেই হাজির পরিযায়ী পাখির দল
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মালদহ: ক্রমশ নিম্নগামী হচ্ছে তাপমাত্রা। চারপাশে হাল্কা শীতের আমেজ। ঋতু পরিবর্তনের এই মুহূর্তে মালদহে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখির ঝাঁক। কিন্তু তাদের জীবনহানির আশঙ্কায় রীতিমতো আতঙ্কিত পক্ষীপ্রেমীরা। প্রতি বছরই চোরা শিকারিদের আক্রমণে প্রাণ হারায় শতশত পরিযায়ী পাখি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বন বিভাগ গত কয়েক বছর ধরেই এই মরশুমে কড়া নজরদারি শুরু করেছে। পাশাপাশি সচেতন করা হয়েছে বিশেষত নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। এবারও শীত জাঁকিয়ে পড়ার আগেই সতর্ক বনদপ্তর। পরিযায়ী পাখিদের অকালমৃত্যু রুখতে সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থারও।
Advertisement
উকালিয়াচক-২ ব্লকের পঞ্চানন্দপুরের পাগলা নদী সংলগ্ন চরে নভেম্বরের শেষের দিক থেকেই আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখির দল। জলা এলাকায় থাকতে শুরু করে তারা। আবার এই সময় তাদের প্রজননকালও। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই পরিযায়ী পাখির দলকে নিশানা করে চোরা শিকারিরা। 
বছরের বিভিন্ন সময় পাখিদের ছবি তুলতে এবং তাদের জীবনযাত্রা খুঁটিয়ে দেখতে ছুটে বেড়ান ব্যস্ত চিকিৎসক সুদীপ্ত রায়। তিনি বলেন, প্রতিবছর চোরা শিকারিদের লোভের বলি হয় পরিযায়ী পাখিগুলি। সাধারণত বিষ মাখানো আটার গুলি অথবা মৃত ছোট মাছের গায়ে বিষ মাখিয়ে এই পাখিগুলিকে হত্যা করা হয়। কখনও ফাঁসগিটও ব্যবহার করা হয় পাখি মারার জন্য।বিষয়টি নিয়ে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
আরেক পক্ষীপ্রেমী তথা সাহাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক কিশোর বণিক বলেন, রাশিয়া সহ বেশ কিছু শীতপ্রধান দেশ থেকে পাখিগুলি পঞ্চানন্দপুরে চলে আসে। এলাকাটি নির্জন হওয়ায় তাদের বেশ পছন্দ। এই সময় তাদের প্রজনন ঋতুও বটে। কিন্তু ছোট পরিযায়ী পাখি যেমন বালিহাঁস, বুনোহাঁস শিকারিদের প্রথম লক্ষ্য। 
কিশোরবাবু বলেন, ঝাড়খণ্ড থেকে এসে অনেকে পরিযায়ী পাখি হত্যা করে। পঞ্চানন্দপুরের স্থানীয় বাসিন্দা বা মাঝিরা অবশ্য এই ধরনের পাখি শিকারের বিরোধিতা করেন।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, বিষ দিয়ে যে পাখিগুলিকে হত্যা করা হয় সেগুলির মাংসেও ওই বিষ সঞ্চারিত হয়। ফলে সেই মাংস খাওয়াও শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর।
মালদহের বিভাগীয় বন আধিকারিক জিজু জেসপার বলেন, আমরা শীতের মরশুম শুরুর আগেই পরিযায়ী পাখি শিকার আটকাতে আধিকারিক ও কর্মীদের সতর্ক করেছি। বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকেও মানুষকে সচেতন করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবছর এখনও পর্যন্ত পরিযায়ী শিকারের অভিযোগ নথিবদ্ধ হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ