Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীত পড়লেও ম্যালেরিয়ার দাপট নদীয়ায়, জেলাজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০

শীত পড়লেও ম্যালেরিয়ার দাপট নদীয়ায়, জেলাজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: শীতের মরশুমেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ মাথাচাড়া দিচ্ছে নদীয়া জেলায়। ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে ২৫০ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। যার মধ্যে শেষ একমাসেই আক্রান্তের সংখ্যা ৫০জন। রানাঘাট, হাঁসখালি, নাকাশিপাড়া ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। কোথাও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর হদিশ পেলে তার আশেপাশের ৫০টি পরিবারে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে নতুন করে কেউ জ্বরে আক্রান্ত হলেই তাঁর চিকিৎসা শুরু করা যায়। যদিও স্বাস্থ্যদপ্তরের দাবি, আক্রান্তদের অধিকাংশের ট্রাভেল হিস্ট্রি রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা সেইভাবে ঘটছে না। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, ‘বিগত একমাসে ম্যালেরিয়ার আক্রান্তের গ্রাফ বেশকিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আমরা গোটা বিষয়টি মনিটরিং করছি। কোথাও জ্বরে আক্রান্তের কথা জানা গেলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সমীক্ষার কাজ করা হচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেরই ট্রাভেল হিস্ট্রি থাকছে। তবে আমরা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।’
Advertisement
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নদীয়া জেলার তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। সকাল ও রাতের দিকে শীতের আমেজ ভালোই অনুভব করা যাচ্ছিল। যদিও এখনও জাঁকিয়ে শীত পড়েনি। সচরাচর বর্ষাকালে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের গ্রাফ উর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু এবার এই ঠান্ডার সময় ম্যালেরিয়া রোগের দাপট স্বাস্থ্য মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সেই সঙ্গে নদীয়া জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের গ্রাফটাও ঊর্ধ্বমুখী। বিগত কয়েক সপ্তাহে নদীয়া জেলার সাপ্তাহিক গড় আক্রান্ত ৩৫ থেকে ৪৫জনের মধ্যে ওঠানামা করছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর উদ্বেগে রয়েছে। 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, নদীয়া জেলার রানাঘাট-২ ও হাঁসখালি ব্লকে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সর্বাধিক। ২২ থেকে ২৫ জন ম্যালেরিয়ার আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। এর পাশাপাশি শান্তিপুর, রানাঘাট-১, চাকদহ, কল্যাণী, নবদ্বীপ,‌ তেহট্ট-১, তেহট্ট-২ ব্লকগুলিতে ১০ থেকে ১৫জন করে ম্যালেরিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে। 
উল্লেখ্য, পারদ পতনের সঙ্গে পতঙ্গবাহিত রোগের বাড়া-কমা অনেকটা নির্ভর করে। চিকিৎসক মহলের দাবি, টানা কয়েকদিন কম তাপমাত্রা স্থায়ী হলেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো পতঙ্গবাহিত রোগের দাপট কমে। তাঁরা বলছেন, তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নীচে নামলে মশারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, ধাক্কা খায় বংশবিস্তার। কমে যায় মশাবাহিত রোগ সংক্রমণ। তাপমাত্রা ১৮-১৯ ডিগ্রির বেশি হলে সেই ‘নিষ্ক্রিয় মশা’ ফের সক্রিয় হয়ে রোগ ছড়ায়।
সম্পর্কিত সংবাদ