Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীতে ডেঙ্গু জব্দে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, দ্রুত প্রকল্প রূপায়নে জোর রাজ্যের

শীতে ডেঙ্গু জব্দে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট, দ্রুত প্রকল্প রূপায়নে জোর রাজ্যের
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: শীতের‌ মরশুমে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। নদীয়ার পাশাপাশি গোটা রাজ্যেই কমবেশি একই ছবি। মূলত বিভিন্ন এলাকায় জমা জলা থেকেই এই রোগ ছড়াচ্ছে। যার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্টে জোর দেওয়া হয়েছে। নদীয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক জেলাতেই এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অঙ্গনওয়াড়ি, মার্কেট কমপ্লেক্সেগুলোতে লিচ পিট তৈরি করতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জায়গা চিহ্নিতকরণ, প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি সহ যাবতীয় কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফ থেকে। সেইমতো ব্লকগুলোতে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প নিয়ে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। 
Advertisement
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘নবান্ন থেকে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ এসেছে। একদিনে গোটা রাজ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বহু কাজের টেন্ডার হবে।’
সম্প্রতি নবান্নের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের তরফ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গা চিহ্নিত করা, তার কাজের রূপরেখা তৈরি সহ যাবতীয় কাজ সেরে ফেলতে হবে। প্রত্যেক গ্রামে জমে থাকা ধূসর জল বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পুকুল, নালা, নদীকে চিহ্নিত করতে হবে। আর যদিও কোথাও সেই জমা জল বেরনোর জায়গা না থাকে, তাহলে সেখানে লিচ পিট তৈরি করতে হবে। সেইমতো ডিসেম্বরের ওই ১০ তারিখেই গোটা রাজ্যে গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট কাজের টেন্ডার ডাকা হবে। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যেক কাজের ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করতে হবে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির মধ্যে কাজে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্ন থেকে। 
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘বিভিন্ন জায়গায় জমা জল থেকে রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। দেখা যায়, অধিকাংশ গ্রামেই সেই জমা জলে স্নান করা, পোশাক ও বাসন ধোওয়া হচ্ছে। 
মানুষের ব্যবহৃত কম দূষিত জলকে ‘গ্রে ওয়াটার’ বা ধূসর জল বলা হয়। নিকাশি নালা, সোক পিট, লিচ পিট ইত্যাদি তৈরি করে সেই ধূসর জল দিয়ে ভূগর্ভে জলের সঞ্চয় বাড়ানো যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, ঠান্ডার সময়েই রাজ্যজুড়ে হঠাৎ ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো ভেক্টর ডিজিজ মাথাচাড়া দিয়েছে। যেমন নদীয়া জেলায় ডেঙ্গু রোগের সাপ্তাহিক গড় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। চলতি বছরের সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ লাগোয়া ব্লকগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। একই অবস্থা ম্যালেরিয়া নিয়েও। নদীয়া জেলায় চলতি বছরে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ২৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় জমা জলা থেকেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। নদীয়া জেলা এমনিতেই ‘গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের কাজের জন্য মোট ১৭৭ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৬২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার টেন্ডার ইতিমধ্যেই করা গিয়েছে। সেই কাজের ১৫৩ কোটি ৩১ লক্ষ টাকার ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ১০৫ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার কাজ নদীয়া জেলায় শেষ হয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ