Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শীতে ভাগীরথীতে জালে উঠছে না মাছ, বিপাকে মৎস্যজীবীরা

শীতে ভাগীরথীতে জালে উঠছে না মাছ, বিপাকে মৎস্যজীবীরা
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: শীতে নদী থেকে মাছ জালে উঠছে না। ভাগীরথী যেন মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাগীরথীর বুকে নৌকা ঠেলে শূন্য জাল মৎস্যজীবীদের বারবার হতাশ করছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। পরপর কয়েকদিন জালে মাছ না ওঠায় মৎস্যজীবীদের সংসারে টান পড়তে শুরু করেছে। জেলে সম্প্রদায়ের দাবি, শীতে জালে মাছ কম ওঠে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এবার শীতের নদীতে যেন মাছ শুকিয়ে গিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সংসারে অনটন জাঁকিয়ে বসবে। বিকল্প আয়েরও কোনও পথ খোলা নেই। এরপর ঋণ করেই ছেলে মেয়েদের মুখে খাবার তুলে দিতে হবে। 
Advertisement
মুর্শিদাবাদ জেলায় ভাগীরথী নদী কয়েক হাজার মৎস্যজীবীর সংসারে খাবার জোগায়। ভাগীরথী নদীর দুপাড়ে কয়েক’শো মৎস্যজীবীর বাস। সকাল হলেই চার- পাঁচ জন মৎস্যজীবীর দল করে নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বেরিয়ে পড়েন। নদীর বুকে নৌকার উপরই দিনের আহারপর্ব চলে। ভাগীরথী নদীতে মাছ শিকারে কাউকে এক পয়সাও মাশুল দিতে হয় না। কোনও কোনও সময় এক একজনের দৈনিক উপার্জন হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। একমাত্র পেশার উপর নির্ভর করেই সংসার চলে।
মৎস্যজীবীদের দাবি, ডিসেম্বরের শুরুর দিকেও ভাগীরথী নদী থেকে জালে প্রচুর মাঠ উঠেছে। রুই, কাতলা, রিঠা, পাঙাস সহ নানা প্রজাতির মাছ উঠেছে। প্রচুর ইলিশও জালে উঠেছে। সেই মাছের সাইজও দু’তিন কেজি ছাড়িয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে জালে মাছের পরিমাণ কমতে শুরু করে। বছরের শেষ সপ্তাহ থেকে ভাগীরথী হাত গুটিয়ে নিয়ে মৎস্যজীবীদের নিরাশ করতে শুরু করেছে। এখন ছোট ডিঙি নৌকায় কয়েকজন কুচো চিংড়ি শিকার করছেন। 
বহরমপুর কুঞ্জঘাট এলাকার মৎস্যজীবী রথীন হালদার বলেন, শীত পড়তেই নদী থেকে মাছ যেন উধাও হয়ে গিয়েছে। দিনমান নদীতে জাল ফেলেও মাছ দূরের কথা পোকাও ওঠেনা। গত এক সপ্তাহ মাছের দেখা মেলেনি। হরিদাসমাটি এলাকার জেলে কানাই হালদার বলেন, শীতকালে আমাদের আয় তলানিতে এসে ঠেকে। জমানো টাকায় সংসার চালাতে হয়। এবার শীতে উপার্জনহীন হয়ে পড়েছি। গত এক সপ্তাহ জালে মাছ না উঠলেও আশা ছাড়েননি জেলেরা। সকাল হলেই জাল নিয়ে নদীতে নৌকা ভাসাচ্ছেন। মৎস্যজীবীদের একাংশের দাবি, সরকারি উদ্যোগে ছোট ফুটোর নাইলন জাল আর ফাঁস জাল নদীতে ফেলা বন্ধ করতে না পারলে মৎস্যজীবীদের সংসার চালাতে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ