Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেষদিনে বাড়তি ছাড়, বহরমপুরে  জেলা বইমেলায় উপচে পড়ল ভিড়

শেষদিনে বাড়তি ছাড়, বহরমপুরে  জেলা বইমেলায় উপচে পড়ল ভিড়
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অভিষেক পাল, বহরমপুর: কে বলে বর্তমান প্রজন্ম মোবাইলে মুখ গুঁজে? বহরমপুরের ৪৪ তম বইমেলা অবশ্য সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে না। কলকাতা বইমেলার সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে টেক্কা দিয়ে প্রতিদিনই গ্রন্থকীটেরা ভিড় জমিয়েছেন। মঙ্গলবার ছিল শেষদিন। বারাকা স্কোয়ার ময়দানে ভিড়ও ছিল কানায় কানায়। আর বিক্রি? উদ্যোক্তাদের থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, সোমবার পর্যন্ত এক কোটি ১৩ লক্ষ টাকার বই। শেষ দিনে আবার বই প্রেমীদের মন জয় করতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল একাধিক প্রকাশনী সংস্থা। তাতে বিক্রি আরও বেড়েছে। সেটা ধরলে বই বিক্রির আর্থিক পরিমাণ দেড় কোটি ছাপিয়ে যেতে পারে বলে আন্দাজ। 
Advertisement
দিনের সারাক্ষণ স্মার্ট ফোনে বুঁদ থাকে বলে বর্তমান প্রজন্ম একটা বদনাম বয়ে বেড়াচ্ছে। কেই রিলস দেখায় মগ্ন। কেউ রিলস বানাতে ব্যস্ত। সেই সঙ্গে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামে চ্যাট তো রয়েইছে। ফলে, বই পড়ার ফুরসৎ কোথায় আজকের ছেলে-মেয়েদের? এমন ধ্যানধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে প্রবীণদের মধ্যে। এবারের বহরমপুর বইমেলা সেই ধারণা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে মাইলস্টোন স্থাপন করল কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। অনেক শিক্ষাবিদ থেকে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে বর্তমান প্রজন্ম এখন একঘেয়েমিতে আক্রান্ত। তাই হয়তো নতুন করে ঝোঁক বাড়ছে বই পড়ার। আবার ভিন্ন মতও পোষণ করেছেন অনেকেই। তাঁরা বক্তব্য, শখে বই কেনা আর খুঁটিয়ে বই পড়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক। 
যাইহোক, এই বিতর্ক চলতে থাক। কিন্তু বহরমপুর বইমেলার সাফল্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই কারও। এদিন দুপুর থেকেই মেলায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিছু কিছু প্রকাশনী সংস্থার স্টলে সন্ধ্যা নামতেই দীর্ঘ লাইন। অনেক স্টলে বেশ কিছু প্রিয় লেখকের বই শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হন বইপ্রেমীরা। তার পরও যে হারে বই বিক্রি হয়েছে তাতে বেজায় খুশি বিক্রেতারা। 
আপ্লুত জেলা গ্রন্থাগার আধিকারিক মানঞ্জয় রায়ও। তিনি এদিন বলেন, ‘এ বছর জেলা বইমেলায় প্রচুর মানুষ এসেছেন। সোমবার পর্যন্ত ১ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি স্টলেই ভিড় ছিল। এবার মেলাটিকে আমরা একটু অন্যভাবে সাজিয়েছিলাম। তাতে বই বিক্রেতাদের সুবিধা হয়েছে। কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ভিড় হতে দেওয়া হয়নি। সর্বত্রই ভিড় ছড়িয়েছিল। বইপ্রেমীরা সময় নিয়ে বই দেখেছেন, কিনেছেন।’
মেলায় এসেছিলেন বহরমপুরের বাসিন্দা অলকানন্দা রায়। দু’হাতে ব্যাগভর্তি বই। তিনি বলছিলেন, ‘শেষ দিনের মেলায় এসেছি বাড়তি ছাড়ের আশায়। আগে দু’দিন এসে দু’ একটি করে বই কিনেছি। এদিনই আমি অধিকাংশ বই কিনলাম।’ সালুয়াডাঙার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাফা কামালের কথায়, আমিও এদিন বেশ কিছু বই কিনেছি। প্রতিবছর বইমেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। প্রতিবছর তো কলকাতার বই মেলায় যাওয়া হয় না।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ