সংবাদদাতা, করিমপুর: স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে একজনও শিশু চিকিৎসক নেই। হাসপাতালের বাইরেও করিমপুরে কোনও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ না থাকায় দুশ্চিন্তায় থাকেন করিমপুর এলাকার মানুষ। সন্তানের যে কোনও সমস্যা হলেই অভিভাবকদের ছুটতে হয় এলাকার কোনও জেনারেল ফিজিসিয়ান কিংবা দূরের কোনও চিকিৎসকের কাছে। বেশিরভাগ মানুষই বাচ্চাদের নিয়ে কৃষ্ণনগর, তেহট্ট বা বহরমপুরের কোনও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে ছোটেন। করিমপুরের বাসিন্দা তপন মণ্ডল বলেন, প্রথম থেকেই তার ছেলের শরীরের যেকোনও সমস্যা হলেই তিনি তেহট্টের এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। অন্য সময়ে তেমন কোনও অসুবিধা না হলেও ছেলের জ্বর বা অন্যকিছু উপসর্গ নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়েন তিনি। ছেলের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বা হঠাৎ করে জ্বর আসলে সবসময় দূরে নিয়ে যাওয়ার উপায় থাকে না। প্রসূন দত্ত বলেন, কিছুদিন আগে ছেলে জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছিল। করিমপুরে প্রতি সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এক শিশু বিশেষজ্ঞ বাইরে থেকে এসে দিনভর চিকিৎসা করেন। আমিও তার কাছেই ছেলেকে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরের দিন শরীরে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় সেই চিকিৎসককে আর পাইনি। দু’দিন অপেক্ষার পর ছেলেকে বাধ্য হয়েই কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা বাবদ বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি আসি। এখনও একটু সমস্যা হলেই ঘাবড়ে যাই। এলাকার মানুষের অভিযোগ, করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের উপর করিমপুর ও আশপাশের এলাকার কয়েক লক্ষ মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। অথচ এই হাসপাতালে শিশুদের একজন চিকিৎসক নেই। খুব শীঘ্রই এখানে অবশ্যই একজন বাচ্চাদের ডাক্তার দরকার। বাইরের চেম্বারে দু’-একজন চিকিৎসক বাইরে থেকে এলেও প্রয়োজনের সময় তাঁকে পাওয়া যায় না। শিশুদের শারীরিক সমস্যা হলে তড়িঘড়ি দূরেই কোথাও ছুটতে হয় সবাইকে।
Advertisement
করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল বলেন, গ্রামীণ হাসপাতালে সাধারণত কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকে না। তবে করিমপুরে মোট সাতজন চিকিৎসক রয়েছেন। তার মধ্যে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন। অন্য কোনও বিশেষজ্ঞ নেই।



