Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিশুপুত্রকে চা-দোকানে ফেলে চম্পট, রানির ঘাটে উদ্ধার শিশুকে রাখা হয়েছে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে

শিশুপুত্রকে চা-দোকানে ফেলে চম্পট, রানির ঘাটে উদ্ধার শিশুকে রাখা হয়েছে স্টেট জেনারেল হাসপাতালে
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মাত্র দু’মাসের শিশু সন্তানকে চায়ের দোকানে রেখে গেলেন এক পুরুষ ও মহিলা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমনই অমানবিক ছবি দেখা গেল নবদ্বীপ রানির ঘাটে। বিষয়টি জানাজানি হতেই শিশুটিকে দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফুটফুটে এই শিশু সন্তানটিকে দেখে অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, দু’জন অপরিচিত ব্যক্তি নিজেদের স্বামী, স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন। রাত পর্যন্ত ওই শিশুটিকে তাঁরা আর নিতে আসেননি। এরপর ওই চায়ের দোকানের মালিকের স্ত্রী ওই শিশুটিকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ সময় বসে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় শিশুটিকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করার পরেও শিশুটির বাবা, মা আর ফিরে আসেননি। বর্তমানে শিশুটি নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগেই রয়েছে। শিশুটিকে দেখভাল করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স এবং অন্যান্য বাচ্চার মায়েরা।
রানির ঘাটের বাসিন্দা ওই চায়ের দোকানের মালিকের স্ত্রী চায়না মোদক বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটার সময় অল্পবয়সি দু’জন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দোকানে চা খেতে এসেছিল। ওরা দু’জন দোকানে বসে চা খায়। দোকানের পাশেই গঙ্গা। আমি তখন দোকানের বাইরে বেঞ্চে বসে গঙ্গারতি দেখছিলাম। তখন ওই মহিলা বলল, কাকি বাচ্চাটাকে একটু রাখুন, আমরা সামনের মন্দির থেকে ঘুরে আসি। আমি ওকে কোলে নিয়ে রাখলাম। তারপরে অনেক রাত পর্যন্ত তারা না আসায় স্থানীয় কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। তাঁরা খবর দেন থানায়। সবার কথা মতো আমি হাসপাতালে বাচ্চাটাকে নিয়ে যাই। ছোট বাচ্চাটি মায়ের বুকের দুধের জন্য কান্নাকাটি করছিল। তখন প্রতিবেশী মিঠু হালদার বললেন, আমার ভাসুরের মেয়ের এক মাস আগে বাচ্চা হয়েছে। তখন তাঁর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে ওঁরা বললেন, শিশুটিকে নিয়ে আসুন। রাত সাড়ে দশটার সময় স্থানীয় বসাক পাড়ায় ওকে নিয়ে গেলাম। তখন শিশুটি ওই মায়ের দুধ পেল। এর আগে যখন বাচ্চাটিকে তার বাবা, মা আমার কাছে রেখে যান, তখন ওঁদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, ওর বয়স কত? ওঁরা বললেন, এই ২২ তারিখের ২ মাস হবে। বাচ্চাটাকে রেখে চলে যাচ্ছেন বলে তাঁদের ফোন নম্বর নেওয়া হয়েছিল, ফোনও করা হয়েছিল কিন্তু সুইচড অফ ছিল। বাড়ির ঠিকানা জানতে চেয়েছিলাম, একবার বলেছিলেন বেহালা। ওঁরা সঠিক ঠিকানাটাও ঠিকমতো বলেননি। বুঝতে পারি না, মানুষ এইরকম হয় কী করে!
এ প্রসঙ্গে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতাল সুপার অনঘ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টায় পুলিস শিশুটিকে নিয়ে এসেছে। বাচ্চাটিকে শিশু বিভাগে রাখা হয়েছে। বাচ্চার ফিডিং এবং সমস্ত কিছু জামা কাপড় সবকিছু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে ব্যবস্থা করছে। সর্বক্ষণ বাচ্চাটিকে শিশু বিশেষজ্ঞের নজরে রয়েছে। আপাতত যতদিন কোনও ব্যবস্থা না হচ্ছে, ততদিন শিশুটি আমাদের কাছেই থাকবে। - প্রতীকী ছবি
সম্পর্কিত সংবাদ