সংবাদদাতা, ইটাহার: শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে এক যুবককে পিষে দিল ট্রাক। চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল এক ডেলিভারি বয়ের। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সুব্রত সরকার(২১)। তার বাড়ি রায়গঞ্জ থানার মারাইকুড়া গ্রামে। গুরুতর জখম হন গাড়ির চালক। তাঁর নাম পার্থ দে। তিনি রায়গঞ্জের শক্তিনগরের বাসিন্দা। গত দু’বছর থেকে সুব্রত ডেলিভারির কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিস সূত্রে খবর, এদিন রায়গঞ্জ থেকে ছোট চারচাকা গাড়িতে অনলাইন কুরিয়ার সামগ্রী বোঝাই করে ডেলিভারি দিতে ইটাহারের আমপাড়া এলাকায় এসেছিলেন সুব্রত। সঙ্গে ছিল ইটাহারের এক যুবক ও গাড়ির চালক। আমপাড়া এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে চারচাকা গাড়িটি দাঁড় করিয়ে রাখেন তাঁরা। এরপর ইটাহারের যুবকটি কুরিয়ারের সামগ্রী গ্রাহককে পৌঁছে দিতে আমপাড়া গ্রামের ভিতরে যান। সেই সময় গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুব্রত এবং গাড়িতে বসে ছিলেন চালক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চারচাকা গাড়িটির পিছনে এক শিশু জাতীয় সড়ক পার হচ্ছিল। সেই সময় মালদহমুখী একটি লরি ওই শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চারচাকার পিছনে ধাক্কা মারে। চারচাকা গাড়িটি উল্টে যায় জাতীয় সড়কের উপরে। পথ দুর্ঘটনার ফলে সুব্রত লরির নীচে চাপা পড়ে যান। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় সুব্রতর। গুরুতর জখম হন চালক। স্থানীয়রা ছোট চারচাকা গাড়ির চালককে উদ্ধার করে প্রথমে ইটাহার হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। পুলিস সুব্রতর বাড়িতে খবর দিয়ে মৃতদেহ ইটাহার গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে রায়গঞ্জ মেডিক্যালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিস লরি ও ছোট চারচাকা গাড়িটিকে থানায় নিয়ে আসে। সুব্রতর বাবা অনন্ত সরকার জানান, ডেলিভারির কাজটাই আমার ছেলের কাল হল।



