Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেয়ার ট্রেডিংয়ে ডবল রিটার্নের লোভ ২ মাসে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা খোয়ালেন নন্দকুমারের ব্যবসায়ী

শেয়ার ট্রেডিংয়ে ডবল রিটার্নের লোভ ২ মাসে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা খোয়ালেন নন্দকুমারের ব্যবসায়ী
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে জোড়া পেট্রল পাম্প। একগুচ্ছ তেলের ট্যাঙ্কার, মাছ ধরার ট্রলার ও মাছের ভেড়ি। তারপরও অনলাইন শেয়ার ট্রেডিংয়ে ডবল লাভের টোপ গিলেছিলেন নন্দকুমার ব্লকের বাসুদেবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ মাইতি। সেই টোপ গিলে গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দু’হাতে টাকা উড়িয়েছেন। মাত্র দু’মাসে তিনি ১কোটি ৩৬লক্ষ ১০হাজার টাকা ইনভেস্ট করার পর কানাকড়ি পাননি। প্রতারিত হওয়ার পর শেষমেশ তিনি তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। খোয়া যাওয়া টাকার অঙ্ক শুনে পুলিসের চক্ষুচড়ক গাছ। তাঁর অভিযোগ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিস। মুম্বই শহরের বান্দ্রা থেকে এই প্রতারণা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে সেগুলি ফ্রিজ করার কাজ চলছে।
Advertisement
ইদানীং শেয়ার মার্কেটিংয়ে অল্প সময়ে বড় পুঁজির টোপ দিয়ে সাইবার প্রতারকরা প্রতারণার জাল পাতছে। তাতে অনেকেই প্রভাবিত হয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খোয়াচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অজানা ব্যক্তির পাঠানো লিঙ্ক নিয়ে ধারাবাহিক সচেতনতার পরও এধরনের প্রতারণা বন্ধ হচ্ছে না। কষ্টার্জিত টাকা খোয়ানোর পর থানা-পুলিসের দ্বারস্থ হচ্ছেন প্রতারিতরা। বিশ্বজিৎবাবুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বজিৎবাবু নন্দকুমাররের একজন প্রথমসারির ব্যবসায়ী। নন্দকুমার হাইরোড মোড় এবং বেলদায় তাঁর জোড়া পেট্রল পাম্প। এছাড়াও হলদিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে তাঁর তেল ট্যাঙ্কার চলাচল করে। সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার ও মাছের ভেড়ি। গত অক্টোবর মাসে ওই ব্যবসায়ী ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার মার্কেটিং এবং স্টক মার্কেটিংয়ের অফার পান। একেবারে ডবল লাভের প্রতিশ্রুতি। অল্প সময়ে অধিক মুনাফার লোভে সেই অফারে সাড়াও দেন। মুম্বইয়ের বান্দ্রা থেকে সাধ্য বেলামি নাম করে একজন কোম্পানির অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ করেন। দু’টি নম্বর থেকে ফোন করা হতো। শেয়ার মার্কেটিং এবং স্টক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে রাতারাতি বিত্তশালী হওয়ার টোপ সামলাতে পারেননি বিশ্বজিৎবাবু। এরপর তাঁকে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়। সেই লিঙ্কের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে শুরু হয় বিনিয়োগ পর্ব। মাত্র দু’মাসে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং দু’টি বেসরকারি ব্যাঙ্ক থেকে মোট ১কোটি ৩৬লক্ষ ১০হাজার টাকা প্রতারকদের পাঠানো অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন।নন্দকুমারের ওই ব্যবসায়ী বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। নিজের ফেসবুকে শেয়ারট্রেডিং এবং স্টক মার্কেটিংয়ে ব্যবসার অফার পেয়েছিলাম। তাতে ভালো মুনাফার কথা জানানো হয়েছিল। ওই অফারে সাড়া দিতে গিয়ে এভাবে প্রতারিত হব ভাবতেও পারিনি। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ১কোটি ৩৬লক্ষ ১০হাজার টাকা দিয়েছি। ধারাবাহিকভাবে টাকা পাঠানোর পর বুঝেছি, এটা সাইবার প্রতারকদের কাজ। তাই তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেছি।
সম্পর্কিত সংবাদ