Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেয়ারে লগ্নির নাম করে টাকা হাতানোর মাস্টারমাইন্ড অষ্টম শ্রেণি পড়া অ্যালেক্স

শেয়ারে লগ্নির নাম করে টাকা হাতানোর মাস্টারমাইন্ড অষ্টম শ্রেণি পড়া অ্যালেক্স
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অষ্টম শ্রেণি পাশ দিল্লির অ্যালেক্সই শেয়ার ট্রেডিংয়ের নামে সাইবার প্রতারণার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। উচ্চশিক্ষা না থাকলেও অত্যন্ত স্মার্ট ও শেয়ারের ‘নাড়ি-নক্ষত্র’ জানা অ্যালেক্স কারও কাছে অঙ্কিত, কারও কাছে ভবেশ নামে পরিচিত। অ্যালেক্সের কাছ থেকেই মিলেছে সাইবার প্রতারকদের ‘জ্যাকপট’ অ্যাকাউন্টের নানা নথি। তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন লোককে দিয়ে কিছু অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা ঢোকানো হয়। তা থেকে আবার দেশের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকে। সেখান থেকেই টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে চলে যায়। সেই বিশেষ একটি অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রক ছিল ওই যুবক। এখনও পর্যন্ত দেশের ১০২টি সাইবার প্রতারণার মামলার সঙ্গে এই অ্যাকাউন্টের যোগ রয়েছে। পুলিস তাকে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নিয়েছে। পুলিসের দাবি, কয়েক হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এই অ্যাকাউন্টে। আসানসোল সাইবার থানার পুলিস আসানসোল আদালতের এক কর্মীর টাকা প্রতারণার মামলায় তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে।  এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, সাইবার প্রতারণার একটি মামলায় আমরা অ্যালেক্সকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিলাম। তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুলাই মাসে আসানসোল আদালতের এক কর্মী সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে পড়েন। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসেজ আসে। সাইবার প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে কয়েক দফায় চার লক্ষ টাকা দিয়ে দেন তিনি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। যেসব অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে তার তথ্য সহ সাইবার প্রতারণা নিয়ে কেন্দ্রীয় পোর্টালে তথ্য আপলোড করে পুলিস। কোন কোন অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে সেখান থেকে আবার টাকা কোথায় গিয়েছে সেই সূত্র ধরে তদন্ত করতে করতেই ভবেশ ঠাকুরের হদিশ পায় আসানসোল সাইবার থানার পুলিস। তারপরই ভবেশের সম্পর্কে জেনে পুলিস চমকে যায়। কয়েক বছর আগে দিল্লির বেকার যুবক ভবেশ কাজের সন্ধান করছিল। সেইসময় সে সাইবার চাঁইদের নজরে পড়ে। অল্পশিক্ষিত হলেও মানুষকে বোকা বানানোর কৌশল দেখে তাকে পছন্দ হয় সাইবার প্রতারকদের। প্রথমে তাকে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে নিজেদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে দেওয়ার লোকজন জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভবেশ বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে সেই কাজ করার দায়িত্ব পায়। এই লাইনে যত সে সময় কাটাতে থাকে দক্ষ প্রতারক হয়ে ওঠে। এরপর সে নাম বদল শুরু করে। তদন্তকারীদের দাবি, অ্যালেক্স, অঙ্কিত, ভবেশ ছাড়াও তার আরও অনেক নাম রয়েছে। পুলিস জানতে পেরেছে, অ্যালেক্সদের গ্যাং দেশজুড়ে জাল ছড়িয়ে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেককে মাঝেমধ্যে শেয়ার সংক্রান্ত কিছু গ্রুপে সংযুক্ত করা হচ্ছে। সেই গ্রুপে বিভিন্ন শেয়ারের বিনিয়োগের নামে বিপুল মুনাফার গল্প চর্চা করা হয়। সেই ফাঁদে পড়ে কেউ তাদের দেখানো শেয়ারে বিনিয়োগ করলেই সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রতারিতদের টাকা দুঃস্থ সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে। তাঁদের ভুল বুঝিয়ে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খোলার নথি হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে থেকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টে টাকাগুলি ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছে। 
Advertisement
আদালতের কর্মীর টাকা লুটের তদন্ত করে অ্যালেক্সের সেই অ্যাকাউন্টের হদিশ পায় পুলিস। দশদিন ধরে নিজেদের হেফাজতে রেখে তাকে জেরা করা হয়েছে। সাইবার থানার পুলিসের দাবি, ধৃতের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অজস্র মামলা রয়েছে। অষ্টম শ্রেণি পাশ ওই যুবকই বহু উচ্চ-শিক্ষিতকে বোকা বানিয়ে ছেড়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ