নয়াদিল্লি: দেশের অর্থনীতিতে একই দিনে জোড়া অস্বস্তি। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকেও আর্থিক বৃদ্ধির হার কমল। সেইসঙ্গে বিপুল ধস নামল শেয়ার বাজারে। শুক্রবার বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স ও জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্চের সূচক প্রায় ২ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। সেনসেক্স পড়েছে ১৪০০ পয়েন্ট। গত সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে সূচক নিম্নমুখীই থেকেছে। এরফলে বিপুল লোকসানের বোঝায় মাথায় হাত পড়েছে লগ্নিকারীদের। গত ২৭ সেপ্টেম্বরে ৮৫,৯৭৮.২৫ পয়েন্টের শিখর ছুঁয়েছিল সেনসেক্স। সেখান থেকে সূচক ১২,৭৮০.১৫ পয়েন্ট বা ১৪.৮৬ শতাংশ পড়েছে। ওই দিন নিফটি পৌঁছেছিল ২৬.২৭৭.৩৫ পয়েন্টে। এদিন পর্যন্ত হিসেবে নিফটি ৪,১৫২.৬৫ পয়েন্ট বা ১৫.৮০ শতাংশ নেমেছে। শুক্রবার সেনসেক্সে ১,৪১৪.৩৩ পয়েন্ট ধস নামে। লেনদেনের শেষে সূচক কমে হয়েছে ৭৩,১৯৮.১০ পয়েন্টে। শতাংশের বিচারে ১.৯৭ শতাংশ। নিফটিতে গত আটদিন পতনের ধারা এদিনও অব্যাহত থেকেছে। এদিন সূচক ৪২০.৩৫ অঙ্ক বা ১.৮৬ শতাংশ কমে ২২,১২৪.৭০ পয়েন্টে থিতু হয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রি, মার্কিন আর্থিক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তাই এই পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষঞ্জ মহলের একাংশ। একই অবস্থা টাকার দরেও। এদিনও ডলারের তুলনায় ২৮ পয়সা কমেছে টাকার দর। দিনের শেষে টাকার দর ৮৭.৪৬।
Advertisement
এদিনই জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (এনএসও) দেশের গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.২ শতাংশ। যা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমানের তুলনায় কম। খনন, উৎপাদন ও অন্যান্য ক্ষেত্রের বেহাল দশা বৃদ্ধির হারে বাধ সেধেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম কৃষি ক্ষেত্র। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৬ শতাংশ। সেই তুলনায় তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্বের তুলনায় জিডিপি বৃদ্ধির হার অনেকটাই কম। গত অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিক বৃদ্ধির হার ছিল ৯.৫ শতাংশ। পুরো অর্থবর্ষের জন্য জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশ থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা গত জানুয়ারিতে
ঘোষিত পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্ন ফেরি করছে মোদি সরকার। কিন্তু সেই লক্ষ্যের ভিত্তি কতটা মজবুত, তা এই বৃদ্ধির হার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শুক্রবার এক রিপোর্টে বিশ্বব্যাঙ্ক বলছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশ হয়ে উঠতে গেলে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার গড়ে ৭.৮ শতাংশ থাকতে হবে।
ঘোষিত পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্ন ফেরি করছে মোদি সরকার। কিন্তু সেই লক্ষ্যের ভিত্তি কতটা মজবুত, তা এই বৃদ্ধির হার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শুক্রবার এক রিপোর্টে বিশ্বব্যাঙ্ক বলছে, ২০৪৭ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশ হয়ে উঠতে গেলে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির হার গড়ে ৭.৮ শতাংশ থাকতে হবে।



