নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্র্যাডিশন বজায় রইল। ২৭ বছর আগে দিল্লিতে বিজেপির শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এক নারী। সুষমা স্বরাজ। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের ভরকেন্দ্রই ছিল রাজধানী দিল্লি। ২৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর অবশেষে যখন অভিশাপ কাটিয়ে দিল্লিতে বিজেপির জয় এল, তখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসছেন আবার এক নারী। রেখা গুপ্তা। নারী-মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহ্য দিল্লির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত হয়ে চলেছে। বিজেপির সুষমা স্বরাজ, কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিত, আম আদমি পার্টির আতিশী মারলেনা এবং এবার বিজেপির রেখা গুপ্তা। অর্থাৎ, সুষমা যে ব্যাটন ছেড়ে গিয়েছিলেন, তা হাতে নিলেন রেখা।
Advertisement
কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? এই টেনশন ও সাসপেন্স শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিলই। যদিও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের নির্দেশ ছিল, নারী মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত করা হোক। সঙ্ঘের নির্দেশ ‘মান্য করে’ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হওয়া বৈঠকে স্থির হয়ে যায় ৫০ বছর বয়সি রেখা গুপ্তার নাম। উপ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হারানো পরবেশ ভার্মা। দু’বারের কাউন্সিলার এবং প্রথমবার প্রার্থী হয়েই শালিমার বাগ কেন্দ্র থেকে ২৯ হাজার ৫৯৫ ভোটে জয়ী হাই প্রোফাইল নেত্রী রেখা। অতএব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া ভারত পাচ্ছে আপাতত আরও একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী। দেশে দু’জন। মদনলাল খুরানা এবং সাহিব সিং ভার্মা ছাড়া দিল্লিতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী-তালিকার ইতিহাসে আধিপত্য বজায় থাকছে নারীশক্তিরই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাস দিল্লিকে নারী মুখ্যমন্ত্রী উপহার দিয়েই চলেছে। শীলা দীক্ষিত ছিলেন মিরান্ডা হাউস কলেজের ছাত্রী। আতিশী সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের। আজ দিল্লির রামলীলা ময়দানে সকাল ১১টায় মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে চলেছেন বিজেপি সরকারের যে মুখ্যমন্ত্রী, সেই রেখা গুপ্তা শুধু দৌলত রাম কলেজের ছাত্রী ছিলেন না, ১৯৯৬ সালে এবিভিপির হয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রীও হয়েছিলেন।
১১ বছর ধরে গোটা দেশ শাসন করার স্বপ্ন এবং দাপট প্রদর্শনের দাবি করলেও নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উচ্চাশার প্রদীপের নীচেই ছিল অন্ধকার। অর্থাৎ যে শহরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, যেখানে বসে ভারতজয়ের ব্লু-প্রিন্ট রচনা করা হয়, সেই রাজধানী দিল্লিই ছিল এতদিন অধরা। ২০২৫ সালের এই শাপমুক্তি যেন তাঁর স্বস্তির ক্লাইম্যাক্স। আজ রামলীলা ময়দানে নতুন বিজেপি সরকার গঠন ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে মেগা ইভেন্টের আয়োজন। ‘ল্যুটিয়েন্স’ দিল্লির যে একের পর এক বিখ্যাত ‘গোল চক্কর’, তার প্রায় প্রতিটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার ছবি সমেত ফ্লেক্স, ব্যানার বসে গিয়েছে। তার প্রতিটিতেই উল্লেখ রয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সকাল ১১টায় শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার দিনভর দফায় দফায় দিল্লির রামলীলা ময়দানে গিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদারক করেছেন শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি পর্ব। রাতে নাম ঘোষণার পর লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবিও জানিয়ে এসেছেন রেখা। রামলীলায় এদিন এনডিএ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আমন্ত্রিত। শপথ নেবেন বিজেপির নতুন তারকা, নতুন প্রজন্মের রেখা গুপ্তা। কিন্তু আগাম বলে দেওয়া যায়, মধ্যমণি হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি! তিনিই যে দিল্লিতে বিজেপির শাপমুক্তি ঘটালেন, এই প্রচারের জন্য এর থেকে বড় প্ল্যাটফর্ম আর কী হতে পারে!
১১ বছর ধরে গোটা দেশ শাসন করার স্বপ্ন এবং দাপট প্রদর্শনের দাবি করলেও নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক উচ্চাশার প্রদীপের নীচেই ছিল অন্ধকার। অর্থাৎ যে শহরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, যেখানে বসে ভারতজয়ের ব্লু-প্রিন্ট রচনা করা হয়, সেই রাজধানী দিল্লিই ছিল এতদিন অধরা। ২০২৫ সালের এই শাপমুক্তি যেন তাঁর স্বস্তির ক্লাইম্যাক্স। আজ রামলীলা ময়দানে নতুন বিজেপি সরকার গঠন ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে মেগা ইভেন্টের আয়োজন। ‘ল্যুটিয়েন্স’ দিল্লির যে একের পর এক বিখ্যাত ‘গোল চক্কর’, তার প্রায় প্রতিটিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার ছবি সমেত ফ্লেক্স, ব্যানার বসে গিয়েছে। তার প্রতিটিতেই উল্লেখ রয়েছে, আজ, বৃহস্পতিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সকাল ১১টায় শপথ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার দিনভর দফায় দফায় দিল্লির রামলীলা ময়দানে গিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদারক করেছেন শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি পর্ব। রাতে নাম ঘোষণার পর লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনার সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবিও জানিয়ে এসেছেন রেখা। রামলীলায় এদিন এনডিএ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা আমন্ত্রিত। শপথ নেবেন বিজেপির নতুন তারকা, নতুন প্রজন্মের রেখা গুপ্তা। কিন্তু আগাম বলে দেওয়া যায়, মধ্যমণি হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি! তিনিই যে দিল্লিতে বিজেপির শাপমুক্তি ঘটালেন, এই প্রচারের জন্য এর থেকে বড় প্ল্যাটফর্ম আর কী হতে পারে!



