আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
'ঝর্ণা! ঝর্ণা! সুন্দরী ঝর্ণা!/তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন-বর্ণা!’ ছন্দের জাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অসামান্য রচনা। আজ সেই ঝরনার গল্পই বলব তোমাদের। তবে এই ঝরনা সাধারণ জলপ্রপাত নয়। একেবারেই ভিন্ন এর ধরন। আর তার দেখা পেতে হলে পাড়ি জমাতে হবে সুদূর মরিশাস। জলপ্রপাত বলতেই নিশ্চয়ই তোমাদের মনে বিভিন্ন ছবি ভেসে ওঠে। কখনো ঘন সবুজ বনাঞ্চলের ভেতর পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ঝাঁপিয়ে পড়া একরাশ জলের ধারা। তার প্রবল বেগ যেন চারধার কাঁপিয়ে দেয়। কিন্তু আজ যে জলপ্রপাতের কথা বলব তার অবস্থান জলের তলায়। আশ্চর্য ঘটনাই বটে। গল্পটা তবে গোড়া থেকেই শুরু করা যাক। মরিশাসে অবস্থিত মাসকারিন দ্বীপ। এখানে ভূ-ভাগ এমনই যে, মনে হয় সমুদ্রের জলের উপর একটা সবুজে ঘেরা তাক অবস্থান করছে। আর সেই কারণেই এই উপত্যকাটি ‘ওশান শেলফ’ বা সামুদ্রিক তাক নামেও পরিচিত। এই তাকটি জলের উপর ভেসে থাকে বটে, কিন্তু এর নীচেই রয়েছে অতল জলের আহ্বান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বেশ খানিকটা উঁচু এই উপত্যকা। ফলে এর উপর দিয়ে জলের স্রোত বয়ে যেতে যেতে যখন একেবারে উপত্যকার কিনারে এসে পৌঁছয়, তখন তা ঝাঁপিয়ে পড়ে জলের তলায়। হঠাৎ দেখলে মনে হয় সমুদ্রের জলের নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে একরাশ জলরাশি। যার গড়ন এবং ধরন অবিকল একটা ঝরনার মতো। যেটি আসলে দৃষ্টিভ্রমের জন্য তৈরি হয়। তবে শুধুই যে জলই ঝাঁপিয়ে পড়ে তাও নয়, নুড়ি পাথর, বালি সবই জলের স্রোতের সঙ্গে ভেসে এসে উপর থেকে প্রবল বেগে নীচে পড়ে সমুদ্র্রের জলে মিশে যায়। আর সেই বালির উপর আলো পড়লে এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি হয়। নীলচে-সবুজ জল আর হলদে সোনালি বালির উপর রোদ পড়লে তা চিকচিক করে ওঠে, সৃষ্টি হয় রূপকথার।
মরিশাসের যেকোনো সময়ই আবহাওয়া উপভোগ্য। তাই বারো মাসই এই দেশ ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। ফলে শীতে বা গ্রীষ্মে যখন হোক এই জলের নীচে ঝরনা দেখতে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে মরিশাস সকলকে অভ্যর্থনা জানাতে সদা প্রস্তুত।