Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আগে ওই দোকানে যাবি না এদিকেরগুলো দেখে নিবি?’ রোদ উঠতেই ভিড়, ঢাকে কাঠি পুজোর বাজারে

ক’দিন ধরে একঘেয়ে বৃষ্টি। তবে রবিবার দুপুর তিনটে নাগাদ আকাশ পরিষ্কার।

‘আগে ওই দোকানে যাবি না এদিকেরগুলো দেখে নিবি?’ রোদ উঠতেই ভিড়, ঢাকে কাঠি পুজোর বাজারে
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক’দিন ধরে একঘেয়ে বৃষ্টি। তবে রবিবার দুপুর তিনটে নাগাদ আকাশ পরিষ্কার। বৃষ্টি থামল। রবিবারের দুপুরে বিছানায় গা এলিয়ে থাকা শরীরে বিকেলের নরম রোদ। পুজোর কেনাকাটার ইচ্ছে চাগাড় দিল মনে। ফলস্বরূপ গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, হাতিবাগানজুড়ে ভিড়। হকারদের চেনা হাঁকডাক, জিনিসপত্র নিয়ে দর কষাকষি গেল শুরু হয়ে। মাসের শেষ হলেও বাজারগুলিতে ভিড় কম হল না।

Advertisement

বেহালা থেকে গড়িয়াহাট এসেছিলেন দুই বান্ধবী। রাসবিহারী মোড় পার হতেই দু’জনের আলোচনা শুরু, ‘ট্র্যাঙ্গুলার পার্কে নেমে আগে ওই দোকানগুলো দেখবি আগে নাকি প্রথমে গড়িয়াহাটেই যাবি?’ অটোচালক হাসতে হাসতে বললেন, ‘পুজোর বাজার নাকি দিদি? শুরু হয়ে গেল শপিং? রাসবিহারী মোড়, গড়িয়াহাট, যাদবপুর, গড়িয়া সহ উত্তর ও মধ্য কলকাতার একাধিক জায়গায় পুজোর হোর্ডিংয়ের জন্য বাঁশ পোঁতা হয়ে গিয়েছে। দেশপ্রিয় পার্কে দেখা গিয়েছে, বিজ্ঞাপনের জন্য লোহার রড রাস্তার ধারে পোঁতা হচ্ছে সিমেন্ট দিয়ে। রাস্তার এই ছবির সঙ্গে সঙ্গ দিয়েছে পেঁজা তুলো মেঘ আর নীল আকাশ। সর্বত্র যেন ঘোষণা, পুজো আর বেশি দেরি নেই। ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। অর্থাৎ, তার আগে হাতে রয়েছে মাত্র তিনটি রবিবার। তার মধ্যেই রয়েছে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি। বৃষ্টির জন্য এদিকে বরবাদ হয়ে গিয়েছে বেশ কিছুদিন। শপিংয়ের ক্ষতি হয়েছে। তা এবার পুষিয়ে নেওয়ার পালা।
দু’হাতে জামাকাপড়ের ব্যাগ নিয়ে অ্যাপ ক্যাবের জন্য দাঁড়িয়ে কসবার বাসিন্দা মণিকা রায়। বললেন, ‘আমার ছেলে আর বউমা মহালয়ার দিন কলকাতায় আসবে। তাই ওদের জন্য শাড়ি-পাঞ্জাবি কিনে রাখছি। বৃষ্টি কমতেই চলে এলাম।’ রবিবার গড়িয়াহাটে তরুণ-তরুণীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আইসক্রিম হাতে কলেজ পড়ুয়াদের হইচইতে মাতোয়ারা গড়িয়াহাট চত্বর। তাঁদের কথায়, ‘আজকে দেখতে এলাম এ বছরের ট্রেন্ড। নতুন কি এসেছে দেখে দামগুলো জেনে নিলাম। আবার আসব সামনের সপ্তাহে।’ তবে সবাই যে দেখতে এসেছেন তা নয়। কিনেছেন অনেকে। সেই দলেরই এক তরুণীর কথায়, ‘আমি দেখতে এসে কিনেই ফেললাম। এ বছর অনেকগুলোই খুব ভালো এসেছে দেখছি। গড়িয়াহাটে র‌্যাপার ৮৫০ করে নিচ্ছে। বেশ পছন্দ হল।’ 
গড়িয়াহাটের ভিড় সন্ধ্যা হতে আরও বাড়ল। একই ছবি হাতিবাগান, নিউ মার্কেটেরও। হাতিবাগানে এদিন বিকেল থেকেই পুজোর বাজারের ভিড়। এক তরুণীর কথায়, ‘আজ থেকে বাজার শুরু করে দিলাম। এবার তো প্রতি সপ্তাহে আসা যাওয়া লেগেই থাকবে। আজকে কয়েকটা দুল কিনলাম শুধু।’ নিউ মার্কেটেও প্রবল ভিড়। বিক্রেতাদের বক্তব্য, ‘এরকম নিম্নচাপ চলতে থাকলে বাজার খুব একটা ভালো হবে না। তবে এরকম আবহাওয়া থাকলে মানুষ বের হবেন। বিক্রিও ভালো হবে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ