


পরামর্শে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিশিষ্ট ত্বক বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুমিত সেন।
বাঙলির পায়ের তলায় সরষে। পেশাগত ব্যস্ততা সামলে একটু ফুরসত পেলেই সে বেড়িয়ে পড়ে। দেশ-বিদেশের পাহাড়, সমুদ্র বা জঙ্গল তার অবসরের প্রিয় সঙ্গী। কত নাম না জানা ঝরনা, খালবিল ও সমুদ্রের হাতছানি! বাঙালি সেসব জলাধারে চুটিয়ে স্নান করে। পাহাড়ি ঝরনার জল, নদীর স্বচ্ছ জল খেয়েও ফেলে কত সময়। তবে এতে অনেক সময়ই বিপত্তি দেখা দেয়। পেটের সমস্যা থেকে নানা সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যাও শুরু হয়। বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে এমন বিপদে পড়লে নাকাল হতে হয়। দেখা যাক, নদী, ঝরনা, পাহাড়ি ঝোরা ও খালবিলের জল পানে কী সমস্যা হয়।
• বেড়াতে যাওয়া মানেই একটি নতুন ও অপরিচিত স্থান। সেখানকার জলের ধরনের সঙ্গে শরীর মানিয়ে নাও নিতে পারে। মূলত ফুড পয়জনিংয়ের মতো ঝঞ্ঝাট দেখা দেয়।
• যেহেতু এসব জল, মূলত পাহাড়ি ঝরনার জলের উৎস কোথায় সেটি জানার উপায় নেই, তাই জলটি সাদা চোখে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার দেখলেও হয়তো দেখা গেল মূল উৎসের কাছে জলটি নোংরা বা কোনো পশুপাখি মরে পড়ে আছে। তাই এসব জল থেকে লিভার বা প্যাংক্রিয়াসে সমস্যা হতে পারে।
• হেপাটাইটিস বি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তাহলে কী করব?
• বহু জায়গায় ঝরনার জল বোতলজাত করে বিক্রি করা হয়। দেখে নিন সেই বোতলের গায়ে স্থানীয় প্রশাসনের বা সরকারের স্বীকৃতিমূলক কোনও তথ্য আছে কি না। এক্ষেত্রে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকেও খোঁজখবর নিতে পারেন।
• পাহাড়ি নদীর জল মাঝে মাঝেই পাথরের গায়ে আটকে কিছুটা জায়গায় জমে থাকে। সেখানে শ্যাওলাও জন্মায়। তাই এসব জল এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
• খালবিলের জল খাবেন না। এসব জলে স্রোত কম হওয়ায় দূষণের ঝুঁকি বেশি।
• বেড়াতে গিয়ে পরিশুদ্ধ জলের বোতল বা হোটেলের জল পরিশোধক ব্যবস্থার উপর ভরসা করুন। সঙ্গে শিশু বা বয়স্ক থাকলে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে।
তাহলে কি স্নানও বাদ?
সমুদ্র, নদী, নালা বা ঝরনার জলে স্নান করার ক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হয় না, কারণ নদী, সমুদ্র বা পাহাড়ি ছোটো নদীতে প্রচুর স্রোত থাকে। সেখানে মূলত জল পরিষ্কারই হয়। সমুদ্রের জলে বালির ভাগ থাকে। বালি অনেকটাই জল পরিশোধনের কাজ করে। সমুদ্র বা নদীতেও নানা নোংরাও ভাসে যদিও, তবে সেসব সামলে স্নান করলে ত্বক নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই। বদ্ধ জলাশয়, পুকুর, খাঁড়ি জাতীয় জলাধারে স্নান করবেন না। শ্যাওলা জন্মায় এমন নদীনালায় স্নানও পরিত্যজ্য। দীর্ঘক্ষণ সমুদ্রে বা ঝরনায় বা নদীনালায় স্নান করলে অনেক সময় ত্বকে জ্বালা করে। সমুদ্রের নুন ও বালি তার একট কারণ। তবে যে কোনো জলেই বহুক্ষণ ধরে স্নান করলে ত্বক কুঁচকে যায় ও অল্প জ্বালাভাব হয়। তাই বহুক্ষণ ধরে স্নান না করাই উচিত।
কীভাবে সাবধান হব?
অনেকের জলে অ্যালার্জি থাকে। বাইরের জলে স্নান তাঁদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। সেক্ষেত্রে নারকেল তেল মেখে জলে নামতে পারেন। এতে ত্বকের ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যায়।
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়