


আলোচনায় মালদহ জেলার হবিবপুরের আর এন রায় গ্রামীণ হাসপাতালের আয়ুর্বেদ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ বিশ্বজিৎ ঘোষ।
আম: আয়ুর্বেদ দ্রব্যগুণ মতে গাছ পাকা আম মধুরঅম্ল রসযুক্ত, গুরুপাক, বায়ু নাশক অর্থাৎ বাত প্রধান ব্যক্তিদের জন্য বেশ উপকারী। কৃত্রিমভাবে পাকানো আম অম্লরস বিহীন তবে মধুর রস যুক্ত তাই পিত্ত নাশক। পাকা আমকে দিন দুই রেখে খেলে অতি রুচিকর, লঘু, বাত পিত্ত নাশক, বীর্য্যবর্ধক, বলকারক ইত্যাদি গুণযুক্ত হয়। পাকা আমের রস অত্যন্ত পুষ্টিকারক, কফবর্ধক, তৃপ্তিজনক, গুরুপাক, বলবৃদ্ধিকর, বাতনাশক গুণযুক্ত হয়।
আম-দুধ—
দুধের সঙ্গে আম সেবন শক্তি বর্ধক, বর্ণের প্রসাদক, মধুর রস যুক্ত সুস্বাদু, পাকে গুরু, বাতপিত্ত নাশক, রুচিকারক, পুষ্টিকারক এবং বলবর্ধক।
জাম: আয়ুর্বেদ দ্রব্যগুণ মতে জাম কষায়রস, পাচক,রুক্ষ, অম্লরস, রুচিকারক, দাহ, কৃমি,শ্বাস,অতিসার, রক্তদোষ, কফরোগ ও ব্রণ নাশ করে। স্বরবর্ধক ও মল স্তম্ভকারক।
তরমুজ: কালিন্দ, কৃষ্ণবীজ, কালিঙ্গ এইসকল নামে পরিচিত তরমুজ। পাকা তরমুজ মধুর রস, লঘু, অল্প উষ্ণগুণ যুক্ত, ক্ষারবিশিষ্ট এবং কফ ও বায়ুনাশক। সেবন দেহে শীতলতা আনে, মধুর রসের কারণে গরমের সময় তৃষ্ণা মেটায় এবং তৃপ্তিকর।
লিচু: দ্রব্যগুণে লিচু মধুর রস,গুরু ও স্নিগ্ধ গুণযুক্ত এবং বল্য (শক্তিবর্ধক), বৃংহণ (পুষ্টিদায়ক), তৃষ্ণানাশক ও শীতলপ্রকৃতির ফল যা ভিটামিন সি, পটাশিয়াম,অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক শর্করা সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এছাড়া ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন গঠন ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে আর প্রাকৃতিক শর্করা শরীরে দ্রুত শক্তি ও সতেজতা প্রদান করে। বিশেষত গ্রীষ্মকালে শরীরের ক্লান্তি ও অবসন্নতা কাটাতে উপকারী। বাত-পিত্ত প্রশমন করে তবে অতিসেবনে কফবর্ধক হতে পারে।
শশা: আয়ুর্বেদ মতে শশা মধুর রসযুক্ত, লঘু-রুক্ষ গুণসম্পন্ন, পিত্তনাশক ও মূত্রল ভেষজ। চরক মতে মতে, শশা পিত্ত, দাহ ও তৃষ্ণা প্রশমনে সহায়ক। শশায় প্রায় ৯৫ শতাংশ জল থাকায় শশা শরীর ঠান্ডা রাখে, তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও সানস্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত ফাইবারসমৃদ্ধ ও কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্থূলতা কমাতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও মূত্রল গুণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
অন্যদিকে পিত্তনাশক গুণের জন্য অম্লপিত্তে শশা উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত। এছাড়াও শশার এনজাইম পরিপাকক্রিয়া উন্নত করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ও চোখের জ্বালা-লালভাব কমাতে শশার ব্যবহার বেশ উপকারী।
ফুটি: আয়ুর্বেদশাস্ত্রের রাজ নিঘন্টু অনুযায়ী, কাঁকুড় বা ফুটি মধুর রসপ্রধান, কফ-পিত্ত শামক, এবং পিপাসা ও শ্রমনাশক ফল। মহর্ষি চরকও একে মূত্ররোধজনিত রোগে উপকারী উৎকৃষ্ট ভেষজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটিকে সংস্কৃতে কর্কটী, বাংলায় ফুটি বা কাঁকুড়, হিন্দিতে কাঁকড় ও কাঁকরী, নামে পরিচিত। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ায় ফুটি চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে ও দৃষ্টিশক্তি সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এই ফলে কম ফ্যাট এবং তুলনামূলক উচ্চ পটাশিয়াম থাকায় এটি পরোক্ষভাবে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক।
অধিক জলীয় উপাদান ও অক্সিকাইন যৌগের উপস্থিতির কারণে ফুটি কিডনি স্টোন রোগীদের জন্য উপকারী এছাড়াও পর্যাপ্ত ভিটামিন এ ও সি থাকার ফলে এটি ত্বকের আর্দ্রতা, সতেজতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পেঁপে: পেঁপে বীজপুর নামে শাস্ত্রে পরিচিত। এটি স্বাদে মধুর ও স্বাদু, শীতল প্রকৃতির ও গুরুগুণ সম্পন্ন।
এটি রক্তপিত্ত, ক্ষয় রোগ, শ্বাস, কাস, হিক্কা ভ্রম ইত্যাদি রোগে পথ্য।
বেল: আয়ুর্বেদ মতে পাকা বেল মধুর ও কষায় রসযুক্ত, গুরু ও পুষ্টিকর ফল। এটি রুচিবর্ধক, বল্য ও তৃপ্তিদায়ক।
শরীরের শক্তি ও পুষ্টি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। হজমশক্তি বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় উপকারী। গ্রীষ্মকালে তৃষ্ণা ও ক্লান্তি নিবারণে পাকা বেল ও বেলের সরবত বেশ উপকারী, তবে অতিরিক্ত সেবনে অজীর্ণতা হতে পারে।