নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরিহারা বহু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী। শুক্রবার কলকাতায় শহীদ মিনারের সামনে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ধর্নাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন চাকরিহারা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীরা। তাঁদের চোখেমুখে হতাশা। আগামী দিনগুলিতে জীবন কীভাবে চলবে এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না সদ্য চাকরিহারা মানুষগুলি।
ধর্ণামঞ্চে অসহায় হয়ে বসেছিলেন নদীয়ার বাসিন্দা প্রাক্তন শিক্ষক তন্ময় দত্ত। তাঁর বাড়িতে বাবা-মা, সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আছেন। বললেন, ‘বেরনোর সময় মাকে বলে এসেছিলাম কলকাতায় যাচ্ছি। মনে হয় আমরা মামলায় হেরে যাব।’ এর মধ্যেই চাকরি যাওয়ার খবর পেয়ে যান। তারপর বাবা ফোন করেছিলেন তন্ময়কে। হুগলির স্কুলে গ্রুপ ডি পদে চাকরি করতেন। বললেন, ‘বাবা বলেছেন দু’টো হাত আছে তো। কিছু একটা করে নেব।’ কেউ আবার ভাবছেন সংসার চালাতে টোটো চালাবেন।
এরকম কয়েক হাজার তন্ময় চোখের জল ফেলে দিন কাটাচ্ছেন। ‘পার্সোনাল লোন রয়েছে। আগামী মাসে কী হবে জানি না। হয়ত বাড়িতে ব্যাঙ্কের লোক আসা শুরু করে দেবে। আগামী দিনে কীভাবে পরিবারের খরচ চালাবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের গ্রুপ ডি কর্মীদের মাস মাইনে খুব বেশি ছিল না’, বলছিলেন তন্ময়। তাঁর আরও দাবি, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিলে আমাদের নিয়ে খেলছে।’ বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কিছুই এখনও ভেবে উঠতে পারেননি তাঁরা। তবে এতদিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকার পর প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দেওয়াও আর সম্ভব নয় বলে জানালেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে পিটিশনার ছিলেন তন্ময়। আরও এক পিটিশনার সুমন বিশ্বাস। তিনি জীবনবিজ্ঞান পড়াতেন। বলেন, ‘লোন নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছি। আগামী মাসে কী হবে জানি না। ভাবছি টোটো চালানো শুরু করব। এর চেয়ে বেদনার আর কিছু
হতে পারে না।’ কিন্তু সামগ্রিক পরিস্থিতি এবার কোন পথ ধরে এগবে? সুমনবাবু বললেন, ‘আমরা এখনও আইনি
দিক নিয়ে ভেবে দেখছি। যদি কোনওভাবে কিছু করা যায়। এমনিতেই আমরা সব হারিয়েছি। অতর্কিতে আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। আজকে আমার এই লোন কে শোধ করবে?’ এর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁর আবেদন, তিনি যেন যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করেন।