Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তোলা না পেয়ে কসবায় শূন্যে গুলি, বন্দুক উঁচিয়ে তাণ্ডব জেল ফেরত দুষ্কৃতীর, নির্মীয়মাণ সাইটে বোমা, ম্যানেজারদের মার

রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁদের ধাওয়া করে তিন দুষ্কৃতী। শূন্যে গুলি ছুড়ে ভয় দেখানো হয়।

তোলা না পেয়ে কসবায় শূন্যে গুলি, বন্দুক উঁচিয়ে তাণ্ডব জেল ফেরত দুষ্কৃতীর, নির্মীয়মাণ সাইটে বোমা, ম্যানেজারদের মার
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ১১:০৮
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের ঘটনা। কসবার তালবাগানে নির্মীয়মাণ একটি বহুতলে ইমারতি সামগ্রীর হিসেবনিকেশে ব্যস্ত ছিলেন দুই সাইট ম্যানেজার। আচমকাই সেখানে হানা দেয় চারজনের একটি দুষ্কৃতী দল। অভিযোগ, নির্মাণস্থলে ঢুকে দুই সাইট ম্যানেজারকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে তারা। সেখান থেকে কোনওরকমে পালাতে সক্ষম হন দু’জন। কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি। রীতিমতো ফিল্মি কায়দায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তাঁদের ধাওয়া করে তিন দুষ্কৃতী। শূন্যে গুলি ছুড়ে ভয় দেখানো হয়। তারপর দু’জনকেই বন্দুকের বাট দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ২২ আগস্ট দুই ম্যানেজার কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিস আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ও ব্যবহার, বোমা ছোড়া সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ও ঘটনার তদন্ত শুরু করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সমীর জানা  অপহরণের একটি মামলায় ১৪ বছর সাজা খেটে বেরিয়ে এসেছে সম্প্রতি। ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। তবে তার তিন শাগরেদকে পাকড়াও করেছে পুলিস। 

Advertisement

কসবা তালবাগানের ওই নির্মাণস্থলে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন সুইন হো লেনের বাসিন্দা সৌরভ হাতি ও দেবোপম সরকার। তাঁদের আইনজীবী ঋত্বিক মণ্ডল বলেন, ‘২২ আগস্ট দুই ম্যানেজার রাতে সাইটে যান। সেখানে সমীর জানা ও তার তিন শাগরেদ হাজির হয়। আমার মক্কেলদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে সমীর। পরে আরও একটি বোমা ছোড়া হয়।’ দুই ম্যানেজার পুলিসকে জানিয়েছেন, তাঁদের খুন করাই উদ্দেশ্য ছিল সমীরের। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা সাইট থেকে পালিয়ে পাশের গলিতে ঢুকে পড়েন। পিছু ধাওয়া করে সমীরের শাগরেদ গুড্ডু, পবন ও করন। তাদের হাতে ছিল কসাইখানার ছুরি ও আগ্নেয়াস্ত্র। দু’জনকে ধরেও ফেলে তারা। অভিযোগ, তাঁদের ঘিরে ধরে শূন্যে দু’রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সৌরভবাবুর বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে মারধর করা হয় তাঁকে। বন্দুকের বাট দিয়ে মারা হয় দেবোপমকেও। কোনওরকমে প্রাণ বাঁচান দুই ম্যানেজার।
 তদন্তকারীদের দাবি, গুলি চললে সেখানে বা আশপাশে ফাঁকা কার্তুজ পড়ে থাকার কথা। তেমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বন্দুকের বাট দিয়ে যে মারধর করা হয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে মিলেছে সেই প্রমাণ। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলের সাজা শেষ করে কিছুদিন আগেই বেরিয়েছে সমীর।  কিছুদিন আগে সে এই সাইটে তোলা চেয়ে যায়। টাকা দিতে রজি হননি সাইট ম্যানেজাররা। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, এভাবে চাপ প্রয়োগ করলে পুলিসে অভিযোগ করা হবে। তারপরই আক্রোশ মেটাতে সাইটে হামলা চালায় সমীর। পুলিস জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তদের আইনজীবী আয়ূব আহমেদ বলেন, তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। বোমা মারার কোনও নমুনাও মেলেনি। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক তিনজনকেই পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মূল অভিযুক্ত সমীর জানার খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিস। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ