নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহালয়ার দিন থেকেই শহরে পুরোদস্তুর উৎসবের আমেজ। তার মধ্যেই দেশপ্রাণ শাসমল রোডের জনবহুল এলাকায় একটি জিমের মধ্যে চলল গুলি। জিমের মালিক তথা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে লক্ষ্য করে রবিবার দুপুরে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনার সময় জিমে কসরত করছিলেন অনেকেই। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদ নাকি অন্য কোনও শত্রুতার কারণে এই ঘটনা, তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, চারু মার্কেট থানা এলাকার এই জিমে রবিবার জয় ও তাঁর ভাই শারীরিক কসরত করছিলেন। ঘটনার সময় জিমের ট্রেনার, রিসেপশনিস্ট সহ প্রায় ১৮ জন ছিলেন। জয়ের ভাই তুষার কামদার জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট নাগাদ হেলমেটে মাথা ঢেকে দুই যুবক রিসেপশনে এসে তাঁর দাদার নাম করে জানতে চায়, তিনি আছেন কি না। রিসেপশনিস্ট জানান, স্যার আছেন। এরপর তিনি জিমের ভিতরে জয়কে বলতে যান, দু’জন তাঁর খোঁজে এসেছে। ব্যবসায়ীকে এই কথা জানানোর কয়েক সেকেন্ড আগে গুলির শব্দ শোনা যায়। জয় জানিয়েছেন, তিনি তখন কার্ডিও এক্সারসাইজ শেষ করে ওয়েট ট্রেনিং করছিলেন। আচমকা জোরালো শব্দ শুনে কীসের আওয়াজ জানতে চান জিমের এক কর্মীর কাছে। সেই কর্মী তাঁকে জানান, এক শ্যুটার মাটিতে গুলি চালিয়েছে। একথা শুনে জয় যখন হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে আসবেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করেই একটি গুলি ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। একটুর জন্য সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তড়িঘড়ি চম্পট দেয় দুই অভিযুক্ত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উইনচিটার পরে থাকা শ্যুটাররা বাইরে এসে দু’টি বাইকের পিছনে বসে পালায়। বাইক দু’টি আগেই থেকেই স্টার্ট দিয়ে অপেক্ষা করছিল। তবে জিমের ভিতরে বা বাইরে কোনও সিসি ক্যামেরা না থাকায় দুষ্কৃতীদের ছবি ধরা পড়েনি। রাস্তা ও আশেপাশের এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। গলির মুখে থাকা একটি সিসি ক্যামেরা কয়েকদিন আগে কেন খোলা হল এবং কে খুলল, তা নিয়েও খোঁজখবর চলছে। এদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ডিসি (সাউথ) প্রিয়ব্রত রায় সহ গোয়েন্দা কর্তারা।
এই জিমে পুলিশের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে অভিনয় জগতের নামকরা অনেকেই আসেন। ঘটনাস্থল থেকে ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই ব্যবসায়ীর গতিবিধির উপর অনেকদিন ধরেই নজর রাখা হচ্ছিল। রবিবার যে তিনি জিমে আসেন, সেই খবর দুষ্কৃতীরা আগে থেকেই জানত। তবে যে বা যারা এই ঘটনার পরিকল্পনা করেছে, তারা এদিন ঘটনাস্থলে না এসে শ্যুটার ভাড়া করেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ। জয় অবশ্য পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সম্প্রতি তিনি কোনও হুমকি ফোন, মেসেজ বা মেল পাননি। হোয়াটঅ্যাপেও তাঁকে কেউ কোনও হুমকি দেননি। কেউ তাঁকে ভয় দেখিয়ে টাকা চায়নি। তবে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর রিয়েল এস্টেটের একাধিক প্রজেক্ট চলছে। সেখানে জমি সংক্রান্ত কোনও বিষয় নিয়ে কারও সঙ্গে গোলমাল ছিল কি না, দেখা হচ্ছে। ব্যবসায়ীর মোবাইলের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখে ‘ক্লু’ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।