সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ : ‘কোথা হা ইলিশ, প্রিয় ইলিশ, আমরা মাথা চাপড়িয়ে মরি।’ বহুবার পড়া কবিতাটা একটু ঘুরিয়ে যদি এমনভাবে লেখা যায়, তাহলে রান্নাপুজোর আগের পরিস্থিতির ঠিকঠাক বর্ণনা হবে। ভাদ্র সংক্রান্তির আগে আজ, মঙ্গলবার রান্নাপুজো। কিন্তু বাজারে ইলিশের বড়ই আকাল। চাহিদা যত বাড়ে আকাল বাড়ে তার শতগুন। ফলে পবিত্র পুজোর আগে কপাল চাপড়ে মরছে বাংলা। এবছর আবহাওয়া খামখেয়ালি। সমস্যায় মৎস্যজীবীরা। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করে দাঁড়াতে পারছে না। জাল ফেলা হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জেলেরা ফিরছেন উপকূলে। সমুদ্র উত্তাল বলে মাছ ধরাতেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা। উপকূলে দাঁড়িয়েই হতাশ সময় কাটছে তাঁদের। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও বিক্রি হচ্ছে। আর সেগুলি ৫০০ টাকা করে কিলো। কেন এই দশা? কারণ, ১-সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরা যাচ্ছে না। ২-পুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসার কথা রয়েছে। ১ হাজার ২০০ মেট্রিক এদেশে আসার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রশাসন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা বাজারে আসেনি। ৩-ভরসা বলতে মায়ানমারের ইলিশ। চাহিদা তুঙ্গে বলে গতবছরের থেকে বড় ইলিশের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। ফলে মাথা চাপড়ে মরা ছাড়া কোনও গতিই কার্যত নেই। ভাদ্র সংক্রান্তিতে উনুনকে পুজো করবে গোটা বাংলা। তারপর সারারাত রান্না করা হবে কচুর শাক, চালকুমড়োর ঘণ্ট, মটর ডাল, চালতার টক। অতি অবশ্যই সঙ্গে ইলিশ ও চিংড়ির পদ। পান্তাভাত দিয়ে সে রান্না খাওয়া হবে পরের দিন বিশ্বকর্মা পুজোতে। সে দিন উনুন ছোঁওয়া নিষেধ। যেমন উনুন, পড়ে থাকবে তেমনই। অরন্ধন আচার বঙ্গে এমনভাবেই পালন করে বাঙালি। সে পুজোর আবশ্যিক মাছ ইলিশই বাজার থেকে হাওয়া! ফলে হাত কামড়ানো ছাড়া আর কিই বা করতে পারে বাঙালি! মৎস্যজীবী বিপুল দাস বলেন, ‘মাত্র দু’ঝুড়ি ইলিশ পেয়েছি। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার খরচটুকুও ওঠেনি।’ খুচরো বাজারের এক ব্যবসায়ী অমল দাস বলেন, ‘রান্না পুজোর কারণে ইলিশের বিপুল চাহিদা। কিন্তু আমদানি না থাকার কারণে সবাই সমস্যায়।’ ক্রেতা নির্মল মিশ্র বলেন, ‘রান্না পুজোয় অনেক অতিথির নিমন্ত্রণ থাকে। ভেবেছিলাম পুজোর আগে ২০ কিলো ইলিশ কিনব। কিন্তু বাজারে ইলিশই নেই। দাম শুনে ভিরমি খেতে হচ্ছে।’ সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘ট্রলারগুলি সমুদ্রে ইলিশ পাচ্ছে না।’ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ‘স্বাদহীন হলেও মায়ানমারের ইলিশই ভরসা। বিশ্বকর্মা পুজোয় যেমন ভুগতে হল তেমনই এই আকালের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পুজোর সময়ও। তখনও দাম চড়া থাকার আশঙ্কা করছি ।’



