প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই অঙ্গনওয়াড়ি বা আইসিডিএস কেন্দ্রের কর্মী এবং হেল্পারদের মাইনে পাঁচ হাজার টাকা করে বাড়িয়েছে নয়া সরকার। কিন্তু রাজ্যজুড়ে এমন বহু কেন্দ্র রয়েছে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগই হয়নি। যার জেরে বর্তমানে রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র মিলিয়ে মোট শূন্যপদের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজারে। যার মধ্যে ১৫ হাজার কর্মী এবং ২৩ হাজার হেল্পার। ফলে রাজ্যের অনেক এলাকাতেই পুষ্টিকর খাবার বিতরণের পরিষেবা ধাক্কার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। যা এড়াতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যে প্রকল্প পর্যালোচনায় আসা কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা।
দুদিনের রাজ্য সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবীর নেতৃত্বাধীন প্রায় ৫০ জনের প্রতিনিধি দল। ছিলেন দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর এবং কেন্দ্রীয় সচিব অনিল মালিক। ইএম বাইপাসের ধারের একটি পাঁচতারা হোটেলে এই পর্যালোচনা বৈঠকে উঠে আসে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ বিভাগের নানা ইস্যু। আলোচিত হয় আইসিডিএস প্রকল্পের হালহকিকত নিয়েও। সেখানেই রাজ্যের তরফে জানানো হয় আইসিডিএস কর্মী এবং হেল্পারদের সম্প্রতি মাইনে বাড়ানোর বিষয়টি। এই কেন্দ্রগুলি থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করা হয়। একই সঙ্গে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা প্রদান করা হয় এই বয়সের শিশুদের। প্লেট প্রতি রাজ্য দু’টাকা করে বরাদ্দ বাড়িয়েছে বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রেকেও এর বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা জানানো হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। এই দুটি বিষয় ছাড়াও রান্না করা খাবার পরিবেশন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপক সুখ্যাতি করেছে কেন্দ্রীয় দল। কারণ, তাঁদের মতে প্রতিদিন রাজ্যজুড়ে ১ লক্ষ ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্না করা খাবার পরিবেশনের বিষয়টি শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই হয়ে থাকে। কারণ, অন্যান্য রাজ্যে পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয় উপভোক্তার হাতে। যাকে বলা হয় টেক হোম রেশন। আবার স্কুল বিল্ডিংয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালানোতে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।
কিন্তু লোকবলের অভাবে যাতে এই সমস্ত কাজ ভেস্তে না যায়, সেই কারণে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা শূন্যপদগুলি পূরণে বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। বৈঠকে উপস্থিত রাজ্যের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী মালতী রাভা রায়ও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে বলে কথা দিয়েছেন বলেই খবর। বর্তমান নিয়মে ওয়ার্কার এবং হেল্পার উভয়ের ক্ষেত্রেই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে তাঁকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা হতে হবে। কিন্তু, ওবিসি জটিলতায় এতদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। কলকাতার জন্য চালু করেও তা বন্ধ করে দিতে হয়। তবে এবার ১০০ পয়েন্ট রোস্টার হয়ে গেলেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্ভব হবে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের।