তনুশ্রী দাস: রিতুন চিরকালই ওর মায়ের কোল আঁকড়া মেয়ে। মাকে দেখতে পেলে ঝিকিমিকি তারাদের মতো হেসে উঠত ও। না দেখতে পেলে ওর বুকে জমত ভরা বর্ষার ভারী মেঘ। তিন বছর বয়সে মায়ের হাত ধরে সোদপুরে দিদার বাড়ি চলে এসেছিল। ওর বাবা রণজয়ের শোভাবাজারের বাড়িটা ছিল খুব সাজানো গোছানো, চমৎকার। মানুষগুলো দেখতেও সুন্দর। কিন্তু মানুষগুলোর আচরণ সুন্দর ছিল না। মাঝে মাঝে দেখত মা কাঁদছে। আর কখনও কখনও মাকে একটা ঘরে আটকে রাখা হতো। রিতুনকে মায়ের কাছে যেতে দেওয়া হতো না।
একদিন একফাঁকে মৈথিলী রিতুনকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘রিতুন, পালাবি এখান থেকে?’ ও বলেছিল, ‘চল।’ আর সত্যিই মৈথিলী চুপি চুপি বেরিয়ে পড়েছিল ওর হাত ধরে। ওদের বিশাল বাড়ির দারোয়ানদাদু সেদিন ছুটিতে ছিল। বাবা অফিসে আর ঠাকুমা ঘুমাচ্ছিল।
একদম সোজা দিদুনের বাড়িতে। সেদিন বিকেলে খুব হুলুস্থুলু হয়েছিল। রিতুনের বাবা, ঠাকুমা পুলিস নিয়ে এসেছিল। আর রিতুনের মা পাড়ার লোক জড়ো করেছিল। এর মধ্যে রিতুন মাকে জড়িয়ে ধরে শুধু কেঁদে গিয়েছে।
ঠাকুমা আর বাবা টানাটানি করেও ছাড়াতে পারেনি। শেষে পুলিসকাকুরাই বাবাদের বুঝিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর চলে রিতুনকে নিয়ে বাবা-মায়ের কোর্টে ছোটাছুটি। ও বাবা-মা দু’জনকেই চাইত। দু’জনের সঙ্গেই থাকতে চাইত। চার বছরের মেয়ে বুঝতে পেরেছিল, সেটা সম্ভব নয়। ও মা ছাড়া থাকবে কী করে? ও বারবার মায়ের কাছেই থাকতে চেয়েছে। রিতুনের বাবাদের প্রভাব প্রতিপত্তি হার মেনেছে একরত্তি মেয়ের জেদের কাছে।
দিদুনের বাড়িতে প্রথমদিকে মা খুব পড়াশোনা করত। তারপর ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পেল।
শোভাবাজারের বাড়িতে থাকতে যে ভারী পাথরের মতো ভয় চেপে ধরত, সেটা এখানে ছিল না। উপরি ছিল দিদুনের আদর। বাবা মাঝে মাঝে দেখা করতে আসত। শোভাবাজারের বাড়িতে একবার বাবা নিয়েও গিয়েছিল। রিতুন সেখানে গিয়ে সারাদিন কেঁদেছিল। ওর ভয় ছিল পাছে বাবা ওকে আটকে রাখে, মায়ের কাছে যেতে না দেয়। এই ঘটনার পর বাবা আর ওকে কোনওদিন বাড়ি নিয়ে যায়নি। তারপর তো বাবা বিদেশ চলে গেল। আর কোনও খোঁজখবর রাখল না। একটু একটু মনখারাপ হতো রিতুনের। তারপর আস্তে আস্তে মানিয়ে নিল।
ওর যখন আট বছর বয়স তখন ওর জীবনে নতুন একটা ঘটনা ঘটল। মৈথিলী আবার বিয়ে করল। ওদের পাড়ারই বিজনকে। রিতুনকে মা আর দিদিমা মিলে খুব বোঝালেন। মা বলল, ‘আমি তোকে বিজনের বাড়িতে নিয়ে যাব।’
রিতুনের খুব ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু ওর কাছে মা-ই সব। মায়ের সঙ্গে থাকবে বলেই ও মেনে নিল।
একটা ছোট্ট ঘরোয়া অনুষ্ঠান আর সই করে মৈথিলী চলে এল বিজনের বাড়িতে। বিজনের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। সামান্য অর্ডার সাপ্লাইয়ের কাজ করে। পৈতৃক বাড়ি। দুটো ছোট ছোট ঘর। এক চিলতে বাথরুম, রান্নাঘর। স্যাঁতসেঁতে বাড়ি। রিতুনের ভালো লাগেনি। কিন্তু মৈথিলী পরম উৎসাহে সংসার গুছিয়ে নিতে লাগল। ধীরে ধীরে বাড়িটা অনেকটাই শোভাবর্ধন করল। জানলার পর্দা আর বেডকাভারগুলো বদলানো হল। বাড়িতে একটা ছিমছাম টিভি আর ফ্রিজ এল। পরের বছর বাড়িটা রং করানো হল।
প্রথম প্রথম রিতুনের বিজনকে বাবা বলে ডাকতে অসুবিধা হচ্ছিল। মৈথিলী জোর করেছিল। বিজন বলল, ‘তুই আমায় ‘বাবলু’ বলে ডাকিস।’ রিতুনের ‘বাবলু’ নামটা বেশ পছন্দ হয়ে গেল। বিজন পরে একদিন বলেছিল, ‘আমার মা আমাকে ‘বাবলু’ বলে ডাকত। তুই আমার আরেকটা মা।’ রিতুন প্রথমে ভেবেছিল, এই লোকটাকে কিছুতেই ভালো লাগবে না, কিন্তু ওর বাবলুর মধ্যে এমন নিরীহ বেচারা বেচারা ভাব আছে যে, কিছুতেই মন্দ লাগাতে পারা যায় না।
তাছাড়া মায়ের চোখেমুখে তৃপ্তি দেখছিল ও। স্কুলের বন্ধুরা বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়াতে যায়। সিনেমায় যায়। আইসক্রিম খায়। রিতুনের জীবনেও এমন দিন আসবে ও আশাই করেনি। কনকনে শীতের সকালে রোদ উঠলে যেমন আরাম হয়, সেরকম একটা মনের আরাম হয়। এতদিন কেউ তার বাবার কথা বললে রিতুন ভেতরে ভেতরে কুঁকড়ে যেত। এখন প্রাণ খুলে নিজেও বাবলুর কথা বলে। বন্ধুরা জানে বাবলু ওর স্টেপ ফাদার। তাতে কী? তমালিকারও স্টেপ ফাদার আছে। দিয়া আর ঋতি স্টেপ মাদারের সঙ্গে থাকে। তবে ওর বাবলু একদম আলাদা। কখনও জোরে কথা বলে না। বকাঝকা করা তো দূরের কথা। রিতুন একটা আবদার করলে শত অসুবিধা থাকলেও তা মেটাবার চেষ্টা করে। রিতুনের কোনও দুষ্টুমিতে বিরক্ত হয় না। রিতুনও মনের প্রাণের কথাগুলো বাবলুকেই বলতে পারে। ও যে সূর্যার দেখে অ্যানুয়াল পরীক্ষায় দুটো অঙ্ক করে এসেছে কিংবা বড় হলে ওর কার্তিক আরিয়ানের মতো একটা বয়ফ্রেন্ড লাগবে, এই গোপন কথাগুলো মাকে বললেই মা ধমকাবে। মৈথিলী কখনও অভিযোগ করে, ‘মেয়েটাকে তুমি বিগড়ে দেবে।’ বিজন মিটিমিটি হাসে। বলে, ‘সব বাবারাই মেয়েদের একটু আধটু বিগড়ায়। ও তুমি ভেব না। আর তোমার মেয়েকে পুরোপুরি বিগড়ে দেওয়া কারওরই কম্মো নয়।’
রিতুনের এখন বয়স তেরো। দু’মাস বাদে চোদ্দো হবে। এইসময় ও একটা অদ্ভুত খবর শুনল। মৈথিলীই আনন্দ করে বলল। ওর একটা ভাই বা বোন হবে। রিতুনের আনন্দ হল না বরং বেশ দুঃখ হল। এতদিন আর যা কিছু হোক, মা ওর নিজের ছিল। মাকে ভাগ করতে ও কিছুতেই চায় না। তাছাড়া বাবলু আর মায়ের সন্তান হলে ওদের ফ্যামিলিতে রিতুন আলাদা হয়ে যাবে না তো? মাকে জিজ্ঞেস করতে কেমন সংকোচ হয়। রিতুন তো আর ছোট নেই।
বিজন বলে, ‘আমার খুব চিন্তা হয়। মৈথিলী তোমার শরীর ভালো নেই। বয়সটাও বেশি হয়ে গিয়েছে। কেন রিস্ক নিচ্ছ?’ মৈথিলী বলত, ‘সংসারটা এবার সম্পূর্ণ হবে। আমরা দু’জন আর আমাদের দু’জন সন্তান।’
রিতুন ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে, কিছুতেই যেন সেটা না হয়। এমন প্রার্থনা করতে রিতুনের নিজেরও বুক কাঁপত। কিন্তু ভেতরে ভেতরে রিতুন যে কত অসহায় বোধ করছে, তা যদি কেউ বুঝত!
ঈশ্বর মানুষের ক’টা প্রার্থনাই বা রাখেন। কিন্তু রিতুনেরটা রাখলেন। তার মূল্যও বড় বেশি নিলেন।
রিতুনের ভাইটা বাঁচল না। ডেলিভারির পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে লাগল মৈথিলীর। কিডনি দুটো অকেজো হয়ে ইউরিন বন্ধ হয়ে গেল। ডায়ালিসিস চলছিল। বিজয় বন্ডে সই করে কলকাতার নামী নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে করতে মারা গেল মৈথিলী।
রিতুনের পৃথিবীটা দুলে উঠল। মা নেই। রিতুন বেঁচে আছে কী করে? রিতুন পাগলের মতো কান্নাকাটি করতে লাগল, মা ফিরে এসো মা। আমি আর নিজের জন্য কিছু চাইব না। তোমার রিতুনকে ফেলে চলে যেও না মা।
বিজনের চারপাশ শূন্য হয়ে গেল। এই সেই মৈথিলী যাকে স্কুলের গণ্ডি পেরতে না পেরতে ভালোবেসেছিল বিজন। সুন্দরী মৈথিলী। লেখাপড়ায় ভালো সে। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অতি সাধারণ বিজনের তখন সাহস হয়নি মৈথিলীকে মনের কথা বলার। দূর থেকে দেখত। কিন্তু বিবাহবিচ্ছিন্না মৈথিলীকে ও মাঝে মাঝে বলত, কোনও দরকার হলে ওকে যেন বলে। এর বেশি চাওয়ার সাহসও ছিল না। মৈথিলী নিজেই একদিন বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিজন সেদিন প্রায় কেঁদে ফেলেছিল আনন্দে। আর মৈথিলীকে বিজন কোনওদিন দেখতে পাবে না। ওর অন্ধকার ঘর আলো করে দেওয়ার জন্য আর কোনও আকাশের পরী নেমে আসবে না। পরীরা একবারই আসে। কাউকে কাউকে ধরা দেয়। এই সংসারটা মৈথিলীর প্রাণ ছিল। নিজের প্রাণটুকুকে খইয়ে খইয়ে সংসারটাকে সাজিয়ে তুলতে চেয়েছিল মৈথিলী। এমনভাবে চলে যাওয়ার কথা ভাবেনি। মৈথিলীর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্মের পর আশা দেবী বলেছিল, ‘রিতুন এবার থেকে আমার কাছেই থাকুক।’ কিন্তু রিতুন জানিয়েছিল, ওর এখান থেকেই পড়াশোনার সুবিধা। বাবলু ওকে স্কুলে, টিউশনে নিয়ে যেতে পারবে। আশা দেবীর বয়স হয়েছে। তাছাড়া কন্যাশোক তাকে আরও বুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আর রিতুনকে নিয়ে বেশি জোরাজুরি করেননি।
রিতুন থেকে গেল ওর বাবলুর কাছে। প্রথম প্রথম ওরা যেন স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটছিল।
সবকিছু এলোমেলো অগোছালো হয়ে গিয়েছে। সংসারের প্রাণভোমরা চলে গিয়েছে। আর্থিকভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মৈথিলীর কিছু লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছিল। সেই টাকা বিজন আর আশা দেবী পরামর্শ করে এফডি করে রেখেছিল রিতুনের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।
রান্নার মাসিকে রাখা আর সম্ভব ছিল না। যা হোক দু’জনে মিলে ফুটিয়ে খাচ্ছিল। কখন কী করতে হবে খেয়াল থাকত না বিজনের। তারপর খাতায় লিখে লিখে কাজ শুরু করল। রিতুনকেও দোকানপাট, ঘর গুছানো, সব্জির খোসা ছাড়ানো, দুধ জ্বাল দেওয়া প্রভৃতি টুকটাক দায়িত্ব নিতে হল। বাদ পড়ল ওর নাচের ক্লাস। দিদুন প্রায়ই এসে এটা ওটা রান্না করে দিয়ে যেত।
এরকমই এলোমেলো সময়ে প্রিন্সিপ্যাল ম্যাম ডেকে পাঠালেন রিতুনকে। আরও দু’চারজন টিচার ছিলেন ঘরে। তাঁদের নানারকম প্রশ্ন। রিতুন এখন কার কাছে আছে? বাড়িতে কি ওর আলাদা ঘর আছে? ওকে ঘরে কী কী কাজ করতে হয়? এইসব। রিতুনের বুক ঢিব ঢিব করছিল। ও বেরিয়ে আসার সময় বার দু’য়েক ‘চাইল্ড লাইন’ কথাটা শুনল।
রিতুন বুঝতে পারছিল কিছু একটা হবে। ওর আশঙ্কাই সত্যি হল। দু’দিন বাদেই বিকেলবেলা একটা বড় কালো গাড়ি এসে থামল বিজনের বাড়ির সামনে। রিতুন স্কুল থেকে ফিরে বাড়ির বাইরে গাড়িটা দেখেই একছুটে বাড়ির ভেতর ঢুকে গেল। রণজয় তখন চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছে, ‘আইনত আপনি আমার মেয়েকে আটকে রাখতে পারেন না। দরকার হলে আমি কোর্টে যাব। ও আমার মেয়ে, আমার রক্ত। আপনি কীসের জোরে আটকান আমি দেখব।’
রিতুনের বাবলু ছলছল চোখে বসে আছে। ঠাকুমা মিষ্টি হেসে বলল, ‘রিতুন মা, ব্যাগ গুছিয়ে নাও। বেশি কিছু নিও না। পরে কিনে দেব সব। এবার থেকে তুমি তোমার নিজের বাড়িতে থাকবে। আর বিজনবাবু আপনি কিন্তু একটা বড় অপরাধ করেছেন। ওর মায়ের মারা যাওয়ার খবরটা আমাদের দেননি।’
রিতুন দেখল বাবলু চোখ মুছতে মুছতে উঠোনে গিয়ে দাঁড়াল। রিতুন বাধ্য ভালো মেয়ে। ব্যাগে শুধু কয়েকটা পড়ার বই গুছিয়ে নিল। বুকের ভেতরটায় দমচাপা কষ্ট হচ্ছে।
গাড়িতে উঠল। বাবলুর দিকে তাকাতেই ওর দমচাপা কষ্টটা বন্যার স্রোতের মতো বেরিয়ে আসবে। ও কাঁদতে চায় না। তাই তাকাল না।
গাড়িতে ওঠার পর ঠাম্মা জড়িয়ে ধরল। রণজয় নরম গলায় বলল, ‘রিতুন তুমি এখন বড় হয়েছ। যার তার বাড়িতে পড়ে থাকা ঠিক নয়। তোমারই উচিত ছিল দিদাকে বলা, আমাদের ফোন করার কথা। আর উনিও যে কি ইরেসপন্সেবল!’
রিতুনের ইচ্ছে হল বলে, বাবা তুমি তো আর আমার খোঁজও নাওনি। তাছাড়া তুমি আমেরিকা থেকে ফিরছ, তাও তো জানাওনি।
রিতুন ভাবল, কিন্তু কিছু বলল না। বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিল। রিতুন জানত না, রণজয় আমেরিকায় থাকাকালীন আবার বিয়ে করেছিল। সেই বিয়েও বছর দু’য়েকের মধ্যে ভেঙে যায়। রণজয় এখন আরও বেশি অসহিষ্ণু, অধৈর্য আর মেজাজি।
রণজয় বলল, ‘কাল কয়েকজন আন্টি আসবেন চাইল্ড লাইন থেকে। ওঁদের সামনে ঠিকঠাক কথা বলবে। তুমি বড় হয়েছ। নিজের ভালোটা বুঝবে আশা করি।’ রিতুনের মনে হল, একটা জমাট কষ্ট বুকের সিঁড়ি গড়িয়ে নামছে। ওকে সেই কষ্টটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিতে হবে। এক্ষুনি। রিতুন মুখ খুলল। বলল, ‘আমি ওঁদের বলব, ছোটবেলায় তুমি আমাকে আর মাকে আলাদা ঘরে আটকে রাখতে। আর বলব, আমি তোমাদের কাছে থাকতে চাই না। আমাকে আমার দিদার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে।’
ঠাম্মা বলল, ‘দেখেছ, কী শয়তানি বুদ্ধি। হবে না কেন? যেমন মা তেমন ছা।’
রিতুন দুষ্টু হেসে বলল, ‘ঠিক বলেছ ঠাম্মা। যেমন তুমি আর তেমন বাবা।’
রণজয়ের হাতে স্টিয়ারিং না থাকলে ও হয়তো বেয়াদব সন্তানকে ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিত। ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষল সে।
বলল, ‘অসভ্য মেয়ে কোথাকার? নেমে যা আমার গাড়ি থেকে। গেট অফ।’
রিতুন দেখল এটাই সুযোগ। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির দরজা খুলে বাইরে। তারপর দৌড়। দৌড়াতে দৌড়াতে শুধু একবার রিতুন পেছন ফিরে দেখল যে, গাড়িটা আসছে কি না। গাড়িটা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল।
বিজন ঘর অন্ধকার করে শুয়েছিল। হঠাৎ রিতুনের গলায় ‘বাবা’ ‘বাবা’ ডাক শুনে বাইরে ছুটে এল। রিতুন ঝাঁপিয়ে পড়ল বিজনের বুকে। বলল, ‘বাবা আমি কোথাও যাব না। তোমার কাছেই থাকব।’
বিজনের চোখ ভারী হয়ে চারপাশটা ঝাপসা হতে শুরু করেছিল। ও ভাবছিল, এও কি সত্যিই হয়? পরীরা কি এইভাবেই বারবার নেমে আসে আঁধার ঘরে। চারদিক আলো করে দিতে। অঙ্কন: সুব্রত মাজী