কৃষ্ণা রায়: সাতসকালে মহুয়ার ফোন। ছোটোবেলার বন্ধু মহুয়া। ক্লাস ফোর থেকে এক স্কুলে পড়েছি। পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গিয়েছে আমাদের বন্ধুত্বের। আজও আমাদের মধ্যে আড়াল নেই, ছোটোবেলার মতো মন খুলে সব বিষয়ে কথা বলতে পারি। ঝগড়া-ঝাঁটি, মান-অভিমান বহুবার হয়েছে। কিন্তু বন্ধুত্ব মরেনি। মহুয়ার স্বামী রঞ্জন আবার আমার কলেজের ক্লাস-মেট। ওদের প্রেমেতে দৌত্যগিরি করে বিয়ের পিঁড়ি অবধি দু’জনকে পৌঁছে দিয়েছি আমি-ই। আমাদের দুই বন্ধুর জীবিকা ছিল আলাদা। আমি বরাবর ব্যাংকে, ও সোশিওলজিতে এমএ করে কলেজে চাকরির ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ স্কুলে পড়ানোর চাকরি মেনে নিয়েছিল। আমাদের দু’জনেরই একটি করে সন্তান। ওর ছেলে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব অ্যালবামাতে বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে রিসার্চ করে। আমার মেয়ে কুর্চি নিজের পছন্দে বিয়ে করে বেঙ্গালুরুতে একটি কলেজে অধ্যাপনা করে। জামাই ইঞ্জিনিয়ার। আপাতদৃষ্টিতে সুখী বলেই মনে হয়। মহুয়াকে যেদিন সে কথা প্রথম বলেছিলাম, ও মুখ-ঝামটা দিয়ে বলেছিল, কথার কী ছিরি! মা হয়ে মেয়েকে আপাত-সুখী দেখিস কেমন করে রে? পুরোপুরি দেখতে মানে লাগছে? আমার ছেলে তার গার্লফ্রেন্ড তিন্নিকে নিয়ে বিদেশে দিব্যি বছর দুয়েক ধরে লিভ-টুগেদার করছে, রিসার্চ করছে, প্রেস্টিজিয়াস জার্নালে পেপার পাবলিশ করছে। নিজের আবিষ্কার করা একটা ড্রাগের পেটেন্ট নিয়েছে, ওর টুকরো টুকরো সাফল্যে আমি খুব খুশি রে। এর মধ্যে আমি কোনো আপাত সুখ-টুখ দেখি না।
ওকে খ্যাপানোর জন্য কখনো সখনো বলেছি, হ্যাঁ রে! ছেলের সুখেই তোর সুখ বুঝলাম, কিন্তু এই তিন্নি স্টেডি-গার্লফ্রেন্ড থাকবে তো? ওদের বিয়ে দিচ্ছিস না কেন?
মহুয়া রাগে গনগন করছে, তুই এত ব্যাক-ডেটেড? এ কি তোর-আমার সময়?
—রাগ করছিস কেন? বিয়ে দিলে পাতপেড়ে নেমন্তন্ন খেতাম। আর আমার মেয়ে যে বিয়ে করেছে, সেই তো আমার কাছে ভয়ংকর আশ্চর্যের ব্যাপার। না করলেও অবাক হতাম না। সাত বছর বিয়ের পরেও কোনো ইস্যু নেই। বললেই বলবে, আমরা ফিজিক্যালি পার্ফেক্টলি অলরাইট, কিন্তু সারাজীবন চাইল্ডলেস বাই চয়েস থাকতে চাই। আচ্ছা, মৌ, আমার কি ইচ্ছে করে না এই রিটায়ার্ড-লাইফে একটা ছোট্ট জ্যান্ত পুতুল নিয়ে নাড়াচাড়া করি? শৌভিকেরও মনে মনে এমন হয়, মুখে যদিও কোনোদিন প্রকাশ করে না।
মহুয়া সঙ্গে সঙ্গে আমায় সান্ত্বনা দিয়েছে, ছাড় তো ওসব। ওরা না চাইলে তোদের চাওয়ায় কী এসে যায়? এখন তো আমরা মনেপ্রাণে আধুনিক হয়েছি! সচেতনভাবেই মাঝে মাঝে ছেলেমেয়েদের ব্যক্তিগত ব্যাপারে অযথা নাক গলাতে চাই। এটা ভালো নয় রে। নিজে সোশিওলজি পড়েছি। রঞ্জনকে তাই তো বলি, টুপাইয়ের ব্যাপারে আমরা কিন্তু সবসময় খুব লিবারাল থাকব, যদিও আমাদের বাবা-মায়ের জীবন-দর্শন এখনও অবচেতনে আমাদের শাসন করে চলেছে। কিন্তু ছেলের ওপর নিজেদের আশা-আকাঙ্ক্ষা কখনো চাপিয়ে দেব না। সোশ্যাল-চেঞ্জকে মেনে নেব না?
সোশিওলজি পড়ার পাণ্ডিত্য নিয়ে মহুয়া কত সময়ে আমাকে কাউন্সেলিং করে। আমার খারাপ লাগে না। চিরকাল ব্যাংকে টাকা-পয়সার হিসেব নিয়ে ব্যস্ত থেকেছি। ওর মতো রোজকার জীবনে সোশ্যাল ব্যাপারে মাথা ঘামানোর মতো ইচ্ছে-টিচ্ছে আমার নেই।
....
আজ সকালে মহুয়ার গলায় বেশ উদ্বেগ, ‘তুই কি এখন একটু কথা বলতে পারবি? তোকে ছাড়া আর কাকে বিশ্বাস করে এই কথা বলব?’
—কেন রে? রঞ্জন কারও প্রেমে পড়েছে নাকি? ধারাবাহিক নজরদারি করে নিশ্চয় বেচাল কিছু ধরে ফেলেছিস! মিডল এজ ক্রাইসিস। সিমপ্লি ইগনোর করে যা। শোন, রঞ্জন তোর খুঁটিতে বাঁধা বিশ্বস্ত পার্মানেন্ট কর্মচারী, এই বয়সে ছেড়ে যাবে না।
—ইয়ার্কি ছাড় মিলি। সাতসকালে তোকে আজগুবি কোনো কিস্সা শোনাতে যাচ্ছি না। ব্যাপারটা সিরিয়াস।
—বেশ! আমিও সিরিয়াস।
—তিন্নির মা একটু আগে ফোনে জানাল, টুপাই নাকি ফ্যাকাল্টি পজিশন পেয়েছে অ্যালাবামা ইউনিভার্সিটিতেই। সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকসেপ্টও করে নিয়েছে। আমি, রঞ্জন কিচ্ছু জানি না। অথচ টুপাই আমায় নিজে বলেছিল ও পোস্ট-ডক কমপ্লিট করে ইন্ডিয়ায় এসে অ্যাকাডেমিক লাইনে থাকতে চায়। কী হঠাৎ হল বল তো?
—তিন্নির মায়ের কথা ধরছিস কেন? টুপাই নিজে কি তোদের এই ব্যাপারে কিছু জানিয়েছে?
—সেটাই তো প্রবলেম। মানছি, টুপাই একটু সেলফ-সেন্টার্ড। বইপত্র, নিজের জগতে বরাবর থাকতে ভালোবাসে। কিন্তু মাস তিনেক ধরে টুপাই আর আমাদের বিশেষ ফোন টোন করে না, ওর ব্যাপারে যা খবরাখবর পাই তিন্নি বা ওর মায়ের মাধ্যমে। রঞ্জন আগে আগে রাতে কল করত টুপাইয়ের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে। আজকাল সে ব্যবস্থাও বন্ধ। তিন্নিকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, টুপাই নাকি বলেছে, সবকিছু ঠিকই যখন আছে, তখন অত ফোন করে সময় নষ্ট করার কী আছে? খুব প্রয়োজন হলে বাবা-মা ই-মেল করতে পারে।
—তাহলে সেভাবেই ছেলের মতামত জেনে নে।
—নারে, রঞ্জনকে তো জানিস, চিরটাকাল ছেলে অন্ত-প্রাণ। প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে মেল করে, টুপাই উত্তর দেয় না। আমিও মাঝে-সাঝে করি। উত্তর নেই। বলতে বলতে মহুয়া হু হু করে কেঁদে ফেলে, ‘ছেলেটা এখন কত দূরে সরে গেছে!’
—আরে! অত ভেঙে পড়ার কিচ্ছু নেই। এখন ওদের কেরিয়ার করার সময়। আমাদের মতো লাইফ-স্টাইল তো নয়। সংসার, শ্বশুরবাড়ি সামলে চাকরি, পড়াশোনা। নিজের কথা মনে করে দেখ। তোর সেই জাঁদরেল ননদ— হামেশাই-তোর কলেজ-ইন্টারভিউয়ের আগের দিনেই হাজির হত না? এই নিয়ে কত গজগজ করেছিস! আমাদের যৌবনকাল কেটেছে দশভুজা হওয়ার সাধনায়। ছাড় তো! চল, বিকেলে একটা ভালো সিনেমা দেখে আসি।
মহুয়া ক্ষিপ্ত হয়, ‘সমস্যাটা না বুঝে আজেবাজে সাজেশন দিবি না মিলি।’
বুঝলাম সোশিওলজি-পড়া বন্ধুটি এখন অবুঝ এক জননী, যে তার আধুনিক ছেলের অ্যাকাডেমিক কেরিয়ারের অফুরন্ত চাহিদা নিয়ে মাথা ঘামাতে এক্কেবারে নারাজ। কলকাতায় অ্যাকাডেমিক লাইনে চাকরির বাজারের খবর ও রাখে না? নিজেও কি মনোমতো সুযোগ পেয়েছে? টুপাই সঠিক ডিসিশন নিয়েছে, শুধু বাবা-মাকে কেন যে কিছু জানাল না!
নরম গলায় বলি, ‘রাগ করিস না মৌ, তোর সমস্যা কেন বুঝব না? আমি জানি না তুই কতটা আপডেটেড মডার্ন-মা? তাহলে ছেলে বিদেশে পাকাপাকি চাকরি করতে চায় শুনে এত রি-অ্যাক্ট কেন করছিস? ওদেশে ওর হয়তো জব-স্যাটিসফ্যাকশন বেশি হবে। মায়েদের তাতেই কি খুশি থাকা উচিত নয়? খবরটা পেয়েছিস বলে ছেলেকে বরং একটা ফোন কর।’
—আমি করব ফোন? নেভার! টেলিফোনে মৌ এর গলাটা হঠাৎই কর্কশ হয়!
—শোন মিলি, যে মায়ের অধিকার নেই সরাসরি নিজের ছেলের খবরাখবর পাওয়ার, যাকে ছেলের ভালো-মন্দ জানার ব্যাপারে নির্ভর করতে হয় ছেলের বান্ধবী বা তার মায়ের কাছে, তার অন্তত ছেলেকে আদিখ্যেতা করে ফোনে কংগ্র্যাচুলেট করার প্রয়োজন নেই।
—বড্ড রেগে আছিস মৌ, এখন ফোনটা ছাড়। আমি বেলায় তোর বাড়ি যাব। একসঙ্গে লাঞ্চ খেতে খেতে ঠান্ডা মাথায় আলোচনা করা যাবে। সকালে চা খেয়েছিস?
—আজ তোর সময় হবে আসার?
—রিটায়ার্ড ব্যাংকারের সময়ের অভাব আছে নাকি? দুপুরে শৌভিক যাবে ওর পুরানো অফিস-কলিগদের আড্ডায়। আমি ঠিক চলে যাব। হ্যাঁরে! তিন্নির মা কোথায় থাকে রে?
—কেন? তুই তিন্নিদের বাড়ি যাবি নাকি?
—দূর? পারলে ওঁকে দুপুরে ডেকে নিতিস! একসঙ্গেই না হয় আড্ডা মারব।
—মিলি, আজ এখানে আয়, তোকে এমন মার মারব না...।
....
সকালে অনেকদিন পর মন দিয়ে বেশকিছু ভালো আইটেম রান্না করলাম। রিটায়ারমেন্টের পর আজকাল রান্নাটা নিজেই করি। বহুকালের পুরানো রান্নার লোক বয়সের কারণে তেমন কিছু আর পারে না। ভালোরকম বাজার দু’দিন আগেই করা ছিল। রান্নাটা শুধু করা হয়ে ওঠেনি। আসলে ইচ্ছেই করেনি। এখন একটা অজুহাত পেয়ে গেলাম। সেই মানুষটার পছন্দের চিংড়ি-মাছের মালাইকারি, বাসন্তী-পোলাও, চিতল-মাছের মুইঠ্যা আর তেঁতুল, কুমড়ো আম-আদা দেওয়া ঘন চাটনি টিফিন কৌটায় ভরলাম। একসময় এইসব খাবার যেদিন একসঙ্গে থালায় সাজিয়ে দেওয়া হত, তার মুখে হাজার প্রদীপের মায়াবী আলো জ্বলে উঠত।
সব কাজ সেরে মহুয়ার বাড়ি পৌঁছাতে ঘড়ির কাঁটা বেলা দেড়টা ছুঁয়েছে। ঘরে ঢুকতেই ব্যাজার মুখে ও বলল, ‘এত দেরি করলি? বাড়ি থেকে নিশ্চয়ই খেয়ে এসেছিস?’
—পাগল? আজ একসঙ্গে খাব বলে... জানি, তোর আজ রান্না-খাওয়ার মন নেই। রঞ্জন কোথায় রে?
—আছে ভেতরের ঘরে। টিভিতে পুরানো খেলা দেখছে।
—বেশ! আজ লাঞ্চের জন্য কী রেখেছিস?
—ভাত আর ডিমের ঝোল। প্লিস মানিয়ে নে।
—ব্যস! এবার আমায় আমার কাজ করতে দে।
খাবার টেবিলে সাজিয়ে দিলাম আমার নিজের হাতে পরিপাটি করে রান্না করে চার-পদ। তার সঙ্গে দোকান থেকে কেনা রাবড়ি। মহুয়া আর রঞ্জন অবাক হয়ে দেখে। মহুয়া বলল, ‘কী করেছিস মিলি! আজই এত কিছু শোনার পরেও... তুই পারলি কী করে? এসব খাবার আমাদের গলা দিয়ে নামবে?’
তিনটে থালায় যত্ন করে খাবার বাড়তে বাড়তে আপন মনেই বলি, ‘নামাতে হবে। তোরা না আমার বন্ধু?’
মুখে বলি, ‘আরও আনতে পারতাম। ননদের মেয়ে রুমি কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে হঠাৎ আজই বাড়িতে চলে এল।’
মৌ খিঁচিয়ে বলে, ‘জানি তুই ভালো রাঁধিস। তা বলে আজই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটেটা দিতে হল? সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার এই নমুনা? হত যদি নিজের?’
সামলে নিই নিজেকে, ‘সমস্যা কার জীবনে নেই মৌ? শোন তবে, আজ এই সব খাবার সাজিয়ে যার পাতে তুলে দেওয়ার কথা ভেবে যত্ন করে বাজার করেছিলাম, ফ্লাইটের টিকিট কেটে দুটো মাত্র দিনের জন্য বেঙ্গালুরু যার কাছে যাওয়ার জন্য তৈরি ছিলাম, সে বুঝলি... কী অনায়াসে গত পরশু রাতে বলে দিল, হলই বা আমার জন্মদিন, তা-বলে তোমরা দু’জন বিনা নোটিশে এসে হাজির হবে? আমাদের তো প্রাইভেসি আছে মা, সুবিধে-অসুবিধে— সেখানে দু-দুটো দিন কম? প্লিস ভবিষ্যতে আর এরকম অ্যাডভেঞ্চার তুমি বা বাবা কোরো না। মৌ-রে, কিছুতেই ভুলতে পারছি না আজ আমার মেয়ের জন্মদিন। তোরা সত্যি খাবি না?’
অনেক কষ্টে উদগত কান্না আটকাই।
‘ওহ! কুর্চির জন্মদিনের কথা আমিও ভুলে গিয়েছি রে। ওকে উইশ করে মেসেজ পাঠানো হয়নি। নিজেদের ছেলের জন্য এতই ডিপ্রেসড ছিলাম.... খাবারে, কুর্চির কল্যাণের জন্য নিশ্চয় খাব।’
‘থ্যাংক ইউ মৌ, সকালে বাড়ির কাছের সেই অনাথ-আশ্রমের বাচ্চাগুলোকেও খাবার খাইয়ে এসেছি। ওরা আজ অনাথ, ভবিষ্যতে হয়তো ওদের অবস্থা বদলে যাবে। কিন্তু আমাদের অবস্থা বদলাবে না!’
‘ছিঃ! মিলি, অত মন খারাপ করিস না। এবারে হয়তো ওদের অসুবিধে সত্যি আছে, পরের বারে হবে না।’
রঞ্জনের স্তোক-বাক্য শুনে হাসি— ‘না রে, কোনো কিছুতেই ওদের ওপর নির্ভর না করেও দেখ, ওদের পৃথিবীতে আমাদের জায়গা নেই। আজ পাশের ফ্ল্যাটের মিনুদির একমাত্র মেয়ের মৃত্যুদিন। সকালে দেখা হতে খুব কান্নাকাটি করছিলেন। আর আমরা? সন্তান থাকতেও কেমন করে যে ক্রমশ নিঃসন্তান হয়ে যাচ্ছি—
আজ ননদের মেয়ে রুমি-টাও এসে খুব কান্নাকাটি করছিল। একটা বাচ্চা পাওয়ার জন্য কত ডাক্তার দেখাচ্ছে। ওকে বলতে পারতাম, কেন কষ্ট করছিস? এত আকাঙ্ক্ষার পরিণতি যেন আমাদের মতো... কথাটা ঠোঁটেই রয়ে গেল।’
খাবারের সুঘ্রাণ ছাপিয়ে ঘরে এখন দমচাপা হাওয়া ঘুরপাক খায়। রঞ্জন হঠাৎ অধৈর্য হয়, ‘তোরা এই ভ্যাদভেদে ডায়ালগগুলো এবার বন্ধ কর। জীবনভর কত আলোমাখা সম্পর্ক ভাঙতে দেখলাম। সেখানে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভাঙা-সাঁকো আঁকড়ে বাবা-মায়েরা তাদেরই পথ চেয়ে বাঁচে না? সেখানে সোশ্যাল-চেঞ্জ কতটুকু হয়? কথা না বাড়িয়ে চল তো সব, ভালো খাবারগুলো অকারণে ঠান্ডা হচ্ছে।’