সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন চারিচারা পাড়া বাজারে রাস্তার উপরেই বসে শাক-সব্জি ও ফলের দোকান। নির্দিষ্ট সময়ে ওই রাস্তায় বন্ধ থাকছে যান চলাচল। তার জেরে হয়রান হতে হচ্ছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। রাস্তার দখল নিয়ে শুরু হয়েছে বাজার কমিটি ও পুরসভার দড়ি টানাটানি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ চারিচারা বাজারে আগে এত দোকানপাট ছিল না। কিন্তু, ইদানীং রাস্তাজুড়ে বাজার বসছে। ফলে, যাতায়াতের সময় অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বাজারের চাপে কার্যত রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে যেতে অনেকটাই পথ ঘুরতে হচ্ছে। এমনকী, ওই রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যেতেও অসুবিধা হচ্ছে। রাস্তার পাশেই রয়েছে বাজারের নিজস্ব জায়গা। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তা থেকে সরে গিয়ে সেই জায়গায় বসুক বাজার। বাজার সংলগ্ন রাস্তায় থাকুক সিভিক ভলান্টিয়ার। তাহলে অন্তত যানজট নিয়ন্ত্রণ সহ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যাবে।
বহু বছর ধরেই চারিচারা বাজার মোড়ে বালকনাথ শিবমন্দিরের সামনে থেকে বিদ্যাসাগর ক্লাবের গলির মুখ পর্যন্ত রাস্তাজুড়ে অস্থায়ীভাবে প্রায় ৫০-৬০টি ফল, ফুল ও সব্জির দোকান বসে। সকাল সাড়ে ৬টা থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত বাজার বসে। অভিযোগ, দুপুর ২টোর পরেও ওই রাস্তার উপর বেশকিছু দোকান থেকে যায়। সেই দোকান তুলতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। তারপর এই রাস্তা দিয়ে শুরু হয় যানবাহন চলাচল। দণ্ডপাণিতলা মোড় থেকে বকুলতলা গার্লস স্কুলের নিকটবর্তী নেতাজি সুভাষ রোডের তেমাথার মোড়ের পাশে ১৭নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে এই চারিচারা বাজার। প্রতিদিন নবদ্বীপ সহ পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার বহু মানুষ এই বাজারে দোকান পেতে বসে। স্থানীয় অভয়মা তলার বাসিন্দা নিগম চক্রবর্তী বলেন, চারিচারা বাজারের বেশকিছুটা অংশ বালকনাথ শিব কমিটির। কিন্তু বাজারের রাস্তাটি পুরসভা করেছে। এই রাস্তার অধিকাংশ দখল করে বাজার বসছে। কোনও দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে দমকলের গাড়িও এখানে ঢুকতে পারবে না। স্থানীয় হাইল্যান্ড কলোনির প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষিতীশ বিশ্বাস বলেন, পুরো রাস্তা দখল না করে অন্তত একটা পাশ ছেড়ে দেওয়া হোক। তাহলে ভালো হয়।
চারিচারা বাজার বালকনাথ শিব কমিটির সম্পাদক অলোক দাস বলেন, প্রায় ২০০বছরের প্রাচীন এই বাজার। বালকনাথ শিব মন্দিরের সামনে ১নম্বর হোল্ডিংয়ের অন্তর্গত জায়গায় টিনের শেড দেওয়া রয়েছে। সেই জায়গাটি আমাদের শিবমন্দির কমিটির। যে রাস্তায় বাজার বসে, দুপুর ২টোর পর সেটি সাধারণ মানুষের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা বলেন, বাজার কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাপারটা দেখব। রাস্তা যত উন্মুক্ত থাকবে, ততই মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে। • নিজস্ব চিত্র