সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সড়ক, ফুটপাত দখল করে যে যার মতো সাজাচ্ছেন জিনিসপত্র। এমনকী যাত্রী প্রতীক্ষালয়ও হয়ে উঠেছে অবৈধ পার্কিং স্থল। রামপুরহাটের বাস স্ট্যান্ড থেকে ভাঁড়শালা মোড়, মেডিকেল কলেজ মোড়— ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ ধারে সর্বত্র একই ছবি। ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে। যানজটে আমজনতার ভোগান্তি চলছে। তেমনি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠছে রাস্তাঘাট। পুলিশ-প্রশাসন উদাসীন। অনেকেই আক্ষেপের সুরে বলছেন, ‘দেখার কেউ নেই’।
দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। স্থানীয় ও দূরপাল্লার বহু বাস এবং পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই কমে আসছে এই সড়কের গতি। সৌজন্যে ‘দখলরাজ’। রামপুরহাটের বাস স্ট্যান্ড থেকে মেডিকেল কলেজ মোড় পর্যন্ত সড়কের দু’ ধার চলে গিয়েছে দখলে। কোথাও অটো, টোটোর স্ট্যান্ড। কোথাও আবার গাড়ির অবৈধ পার্কিং প্লেস। নার্সিংহোমগুলির সাইনবোর্ডে ফুটপাত ঢাকা পড়েছে। সড়ক সংকীর্ণ হয়ে তীব্র যানজট হচ্ছে। বাসগুলি সড়কের উপর দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠাচ্ছে নামাচ্ছে। কোথাও ফুটপাত ফাঁকা থাকলেও অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের পসরায় ঢেকে গিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের দেখা মিললেও সড়কের দু’ ধারের ফুটপাত দখলমুক্ত হচ্ছে না, কমছে না যানজট।
জনবহুল মেডিকেল কলেজের সামনের কথা ধরা যাক। সেখানে সড়কের দু’ ধারে ফুটপাত হয়ে উঠেছে টোটো, চারচাকা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। প্রতীক্ষালয়গুলিতেও বাইক ও চারচাকা গাড়ির ভিড়। গাড়িগুলির সামনের অংশ চলে এসেছে সড়কের উপরে। ফলে সড়ক অপরিসর হয়ে উঠেছে। বাস এলে চলার পথ থাকে না। কারণ, সড়কের মাঝেই বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানো নামানো চলে। ফলে নিত্যদিন মেডিকেলের সামনে ব্যাপক যানজট হচ্ছে। মেডিকেলে রোগী নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্স যানজটে আটকায়। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও যানজট কমে না।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের দু’ ধার দখলমুক্ত করলেই সমস্যা মিটে যায়। বাস্তবে তা হচ্ছে না। এখানেই সমস্যার শেষ নেই। ভাঁড়শালা মোড়ে রাস্তার উপর বাজার বসে, এরই মধ্যে টোটোগুলি চলাচল করে। যানজট এতটাই হয় যে, ফাঁক গলে হেঁটে যাওয়ার উপায় থাকে না। শহরের ভিতরের দেশবন্ধু রোডের দু’ ধার স্থায়ী দোকানদারদের দখলে চলে গিয়েছে। দোকানদাররা তাঁদের পণ্য রাস্তার ওপরে রাখেন। রাস্তা দখল করে হ্যাঙারে ঝুলিয়ে জিনিস বিক্রি করা হচ্ছে। তার ওপর রাস্তার পাশে বাইক রেখে, গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাজার করার পর্ব চলে। এরই মাঝে অবৈধ কয়েক হাজার টোটোর দৌরাত্ম্য। মহাজনপট্টি মোড়ে রাস্তায় যখন তখন ট্রাক দাঁড় করিয়ে মাল ওঠানো নামানো হয়। এমন যানজট হয় যে স্কুলে সময়মতো পৌঁছতে পারেন না ছাত্রী এবং শিক্ষিকারা। শহরের চাঁদমারি রেলগেটে যানজট সমস্যা সবসময় হয়। বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস তৈরির দাবি জানাচ্ছেন। আক্ষেপের সুরে তাঁরা বলেন, আমজনতার এত ভোগান্তির পরও দেখার কেউ নেই। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, যানজট মোকাবিলায় একাধিকবার প্রশানিক বৈঠক হয়েছে। আবারও বৈঠকে বসে কড়া হাতে মোকাবিলা করতে হবে।
কিছুদিন আগে এসপির সঙ্গে দেখা করে যানজট সমস্যার কথা তুলে ধরেন এলাকার বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তারপরও পুলিশের সেভাবে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। তাঁদের সামনেই একের পর এক প্রতীক্ষালয় দখল হয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে এসপি আমনদীপ বলেন, এখনই আইসিকে ব্যবস্থা নিতে বলছি। এখন দেখার যানজট সমস্যা থেকে আমজনতা রেহাই পান কি না।