Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৈধ নথি ছাড়াই দোকানে মিলছে বিদ্যুৎ সংযোগ, মোটা টাকা দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, অভিযোগ বিরোধীদের

বৈধ নথি ছাড়াই দোকানে মিলছে বিদ্যুৎ সংযোগ, মোটা টাকা দিতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের, অভিযোগ বিরোধীদের
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: না আছে হোল্ডিং নম্বর, না আছে ট্রেড লাইসেন্স! তা সত্ত্বেও ফুটপাত দখল করে গজিয়ে ওঠা দোকানগুলিতে মিলছে বিদ্যুতের সংযোগ। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের একশ্রেণির কাউন্সিলারদের মদতেই মিলছে এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে, তারজন্য ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে মোটা টাকা। গত বৃহস্পতিবার ভোরে পুরুলিয়া শহরের দেবেন মাহাত গভর্মেন্ট হাসপাতালের ফটকের পাশের একটি দোকানে আগুন লেগে যায়। তারপরেই এই অনিয়ম নিয়ে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, দোকানটি একেবারে ট্রান্সফর্মার ঘেঁষে অবস্থিত। ওই দোকানে বিস্কুট, কেক, থেকে শুরু করে চপ, পকোড়া বিক্রি হতো। দোকানে মজুত ছিল একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার। দমকল আধিকারিকদের দাবি, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে ওই দোকানে। 
প্রসঙ্গত, ওই এলাকায় ব্যবসা করার অনুমতি দেওয়া হয় না। প্রশ্ন উঠছে, শহরের ‘নন ভেন্ডিং’ জোনে থাকা ওই দোকানটি কীভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পেল? যদি কাছেই ফায়ার ব্রিগেড না থাকত তাহলে তো আগুন ট্রান্সফর্মারেও লেগে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে আরও বড়সড় বিপদ ঘটত। ট্রান্সফর্মা ফেটে আগুন লেগে যেতে পারত হাসপাতালেও। পুরসভা সূত্রের খবর, পুরুলিয়া শহরের হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে কোর্ট চত্বরে থাকা বিভিন্ন ফুটপাতের দোকানগুলিতে এভাবেই অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে জড়িয়ে রয়েছেন কাউন্সিলারদের একাংশ। ব্যবসায়ীদের কোনও নথি না থাকা সত্ত্বেও স্রেফ টাকার বিনিময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। 
চেয়ারম্যানের অবশ্য দাবি, ফুটপাতের ওই দোকানগুলির বিরুদ্ধে তিনি একাধিকবার পদক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাধা পেয়েছেন। ফুটপাত দখল করে স্থায়ী দোকানের পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা যাতে ঠ্যালা গাড়ি নিয়ে এসে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসা করেন, সেই নির্দেশও দিয়েছিলেন। যদিও ব্যবসায়ীরা তা মানেননি। এনিয়ে তৃণমূলের শহর সভাপতি তথা কাউন্সিলার প্রদীপ ডাগা বলেন, পুরুলিয়া শহর তৃণমূল কংগ্রেস এই ধরনের কোনও বেআইনি কাজে মদত দেয় না। কোনও নেতা কিংবা কাউন্সিলার যতই বড় দাপুটে এবং প্রভাবশালী হোক না কেন, যদি এই বেআইনি কাজ করে থাকেন, দলের তরফে আমি এর তীব্র বিরোধিতা করছি। এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ইলেক্ট্রিক ট্রান্সফর্মায় যদি বিস্ফোরণ হতো তাহলে হাসপাতাল চত্বরে অনেক বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। সেই দুর্ঘটনার দায় কি সেই কাউন্সিলাররা নিতেন? পৌর প্রতিনিধি হিসেবে আমি পুরপ্রধানকে আবেদন করব যে হাসপাতাল চত্বর থেকে এই সমস্ত দোকান অবিলম্বে সরিয়ে সরিয়ে দেওয়া হোক। পুরসভা সূত্রের খবর, অগ্নিকাণ্ডের জেরে শুক্রবার হাসপাতাল রোডের দোকানগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ আপাতত কেটে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ