সময়ের সঙ্গে বদলেছে ধনতেরসে কেনাকাটার ধরন, অনলাইনেই ঝোঁক বেশি নব্যদের
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার সঙ্গে সন্ধ্যায় সপরিবারে পুজোয় বসা, এটাই ছিল ধনতেরসের প্রধান নিয়ম। সঙ্গে একমুঠো চাল জোগাড় করা থেকে ঝাঁটা, বাড়ন কেনা ছিল আবশ্যিক। তবে পুরনো এই নিয়মের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কান্দি মহকুমার গ্রামীণ এলাকাতেও ধনতেরসের দিনে অনলাইন থেকে উপহার কেনার চল শুরু হয়েছে।

Advertisement

প্রবীণদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দশক আগে মহকুমার এলাকার অধিকাংশ পরিবার ছিল দুঃস্থ। ধনতেরসে কেনাকাটা করা তাঁদের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। তবে ধনতেরস পালিত হতো প্রতিটি পরিবারে। আর পালন করার নিয়মটা ছিল এমনই, যেখানে ওই দিনে বাড়ির প্রত্যেক সদস্য সন্ধ্যায় ঠাকুর ঘরে হাজির হয়ে পুজোপাঠ করতেন একসঙ্গে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্য ছাড়াও গ্রামের ও দেশের মঙ্গল প্রার্থনা করা হতো। ধনতেরস উপলক্ষ্যে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনাও করা হতো। তবে কেনাকাটাও যে ছিল না, তা নয়। ভরতপুর ব্লকের হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের প্রবীণ পাগলচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ছয়ের দশকের কথা বলছি। ওইসময় অধিকাংশ পরিবার ছিল অতি দুঃস্থ। তাঁদের কাছে ধনতেরসে কেনাকাটা ছিল দুঃস্বপ্ন। তবে অনেক পরিবার কিছুটা হলেও কেনাকাটা করতেন। খড়গ্রাম ব্লকের পুনিয়া গ্রামের বদ্রীনাথ মণ্ডল বলেন, ধনতেরসে প্রত্যেক পরিবার কেনাকাটা করতে পারত না। তবে যাঁদের সাধ্য ছিল তাঁরা ঝাঁটা, বাড়ুন থেকে বড়জোর কাপড়, জামা কিনতেন। আর যাঁরা কেনাকাটা করতে পারতেন না তাঁরা গৃহস্থের বাড়ি থেকে একমুঠো চাল চেয়ে আনতেন। অনেকে আবার ওইদিন কোথাও থেকে একমুঠো চাল চুরিও করতেন। কেউ ময়ূরের পালক সংগ্রহ করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কেনাকাটার ধরন অনেক বদলেছে। নতুনদের মধ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি। নতুনদের মধ্যে ধনতেরসে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র কেনাকাটাও করতে দেখা গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আর এসব করা হচ্ছে অনলাইনে। কান্দির মাধুনিয়া গ্রামের যুবক শুভ্র হালদার বলেন, আসলে ধনতেরসে কেনাকাটা করাটা বড় ব্যাপার নয়। ওইদিন অনলাইনে প্রচুর ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। তাই কলা বেচার সঙ্গে রথও দেখা হচ্ছে। ভরতপুরের যুবক কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, সকলেই যে অনলাইনে কেনাকাটা করছেন তা নয়, আমরা ওইদিন বাজার থেকে কেনাকাটা করে থাকি। তবে উপহার সামগ্রী নয়, সোনার অলংকার না পারলেও রূপা বা কাঁসার সামগ্রী কেনাকাটা করা হয়।