নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পরিচিত চা দোকানিকে ভরসা করতে গিয়ে সম্ভ্রম হারাতে বসেছিলেন এক নার্স। পাড়াতেই চায়ের দোকান সোমনাথ পন্ডার। যাওয়া আসার পথে কখনও কখনও ওই দোকানে চা খেতেন ওই নার্স। স্বামী ভিন রাজ্যে কাজ করেন। মহিলার কাছে স্মার্ট ফোন না থাকায় তিনি স্বামীকে টাকা পাঠানোর জন্য মাঝেমাঝে সোমনাথকে নগদ টাকা দিয়ে বলতেন, স্বামীর ফোন নম্বরে পাঠিয়ে দিতে। এভাবেই দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অভিযোগ, মঙ্গলবার রাতে দোকানি চায়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে বেহুঁশ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই নার্সকে। নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হলে পুলিস অভিযুক্ত সোমনাথকে গ্রেপ্তার করে।
গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন কয়লাপট্টি এলাকা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন ওই নার্স। সেখানেই রয়েছে ওই চায়ের দোকান। তার পাশেই ট্রেন যাত্রীদের সাইকেল স্ট্যান্ড। ওই মহিলা এই পথ ধরে গেলে পঞ্চাশোর্ধ সোমনাথ প্রতিদিনই তাঁকে ডেকে কথাবার্তা বলত, চা দিত। আলাপ দৃঢ় হলে ওই নার্স এই চা দোকানির মাধ্যমেই অনলাইনে স্বামীর কাছে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। গত মঙ্গলবার রাতে একটি গয়নার দোকানে গিয়েছিলেন মহিলা। ফেরার সময় ওই চায়ের দোকানে এসে বসেন। সোমনাথকে চা দিতে বলার পাশাপাশি স্বামীর ফোনে ৫০০ টাকা পাঠানোর জন্য আর্জি জানান। অভিযোগকরিণী বলেন, ‘কথা বলতে বলতে আমাকে এক কাপ চা বাড়িয়ে দেয় সে। সেই চা খাওয়ার পর থেকেই মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। সবকিছু আবছা দেখছিলাম। চোখ খোলা রাখতে পারছিলাম না। চায়ের সঙ্গে বোধহয় কিছু মিশিয়ে দিয়েছিল। এরপর আমাকে ওই সাইকেল স্ট্যান্ড লাগোয়া ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করে সোমনাথ। কোনওমতে প্রতিরোধ করি। আমার পোশাক, মোবাইল, ব্যাগ সবই লুকিয়ে রেখেছিল। এরপর ঘুমিয়ে পড়ার ভান করে পড়ে থাকায় সোমনাথ সেখান থেকে চলে যায়। সেই সুযোগে জামা-কাপড় খুঁজে বের করে আমি পালিয়ে আসি।’ ওই রাতে প্রথমে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন ওই নার্স। বাড়ি ফিরে পরিবারকে গোটা ঘটনা জানানোর পর অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। তার ভিত্তিতে এদিন ভোররাতে তার বাড়ি থেকে পুলিস অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। বুধবার ধৃতকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কেন ওই মহিলার সম্ভ্রম নষ্ট করতে চেয়েছিল সোমনাথ, তা তাকে জেরা করে জানতে চাইবেন তদন্তকারী অফিসাররা। পুলিস জানিয়েছে, ওই দু’জনের মধ্যে অন্য কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কয়েক দশক ধরে সোমনাথ পন্ডার চায়ের দোকান এখানে। কখনও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠেনি। এই ঘটনায় হতবাক এলাকার মানুষ। -নিজস্ব চিত্র