সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: দোকানে আসা আট বছরের দুই বালিকাকে অশ্লীল ভিডিয়ো দেখানো এবং তাদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগে রঘুনাথগঞ্জের মিঠিপুরে উত্তেজনা ছড়াল। সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সরিফ শেখ ওরফে সানিকে আটকে রেখে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। রাতেই তার নামে জঙ্গিপুর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এক বালিকার মা। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত যুবকের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা জঙ্গিপুর ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা জানান, এর আগেও ওই যুবক এক মহিলাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে জেল খেটেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবক রঘুনাথগঞ্জ থানার জয়রামপুরের বাসিন্দা। তার বাড়িতে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে রয়েছে। গিরিয়া হাইস্কুলের কাছে সে একটি মনোহারি দোকান চালায়। নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পকসো ধারা অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।
ওইদিন সন্ধ্যায় আটবছর বয়সী দুই বালিকা মালপত্র কিনতে সরিফ শেখের দোকানে যায়। দোকানটি মার্কেট কমপ্লেক্সের তিনতলায়। অভিযোগ, ওই দোকানদার প্রথমে দুই বালিকার সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয়। পরে তাদের মোবাইলে অশ্লীল ভিডিয়ো দেখায়। সেই সঙ্গে তাদের গোপনাঙ্গ স্পর্শ করে। ওই বালিকারা যাতে বিষয়টি কাউকে না জানায়, সেজন্য তাদের ভয় দেখায়। সেই সময় মার্কেট কমপ্লেক্সের তিনতলায় লোকজন না থাকায় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। ওই দুই বালিকা বাড়ি ফিরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। এরপর তাদের বাড়ির লোকজন দোকানের সামনে এসে স্থানীয়দের বিষয়টি জানান। খবর জানাজানি হতেই বহু মানুষ দোকানের সামনে ভিড় জমান। তাঁরা অভিযুক্ত যুবককে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
নির্যাতিতা নাবালিকার মা বলেন, ছোটো মেয়েটার সঙ্গে যে এমন জঘন্য ব্যবহার করেছে পুলিশ তাকে চরম শাস্তি দিক। না হলে সে ফের কারও সঙ্গে এমনটা ঘটাতে পারে। এলাকার যুবকরা সরিফ শেখের বিরুদ্ধে ফাঁড়িতে গণস্বাক্ষর সহ স্মারকলিপি জমা দেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই গিরিয়া হাইস্কুলের ছাত্রীদের কটূ মন্তব্য করেছিল সরিফ শেখ। সেঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরে পুলিশ এসে তাকে সতর্ক করেছিল। এছাড়া, দু’বছর আগে জঙ্গিপুরে সে মনোহারি দোকান দিয়েছিল। সেখানেও এক মহিলাকে দোকানে ডেকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছিল। পরে সে মিঠিপুরে এসে দোকান খোলে।