


সংবাদদাতা, বনগাঁ: দোলের দিন এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও দোকান ভাঙচুর করার অভিযোগ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ মদ্যপ অবস্থায় তাঁরা দোকানে ভাঙচুর চালান। ব্যবসায়ীকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে এলে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন অভিযুক্তরা। প্রধানকেও ইট হাতে মারমুখী হতে দেখা গিয়েছে। যদিও বাগদার এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
বাগদা কৃষক বাজারের সামনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের একটি কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয়ের উল্টো দিকে রাজু বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির একটি আসবাবের দোকান আছে। সেই দোকানের সামনে রোজ সন্ধ্যায় আড্ডার আসর বসাতেন বাগদা পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জিত সর্দারের অনুগামীরা। সেখানে নিয়মিত মদ্যপান হতো বলেও অভিযোগ। সম্প্রতি তাঁদের দোকানের সামনে বসতে বারণ করেছিলেন দোকানের মালিক। তাতেই চটে যায় প্রধানের অনুগামীরা। এরপর দোলের দিন দুপুরে ঘর থেকে বের হতেই ওই ব্যবসায়ীকে নানাভাবে হেনস্তা করেন প্রধানের অনুগামীরা। প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে বাঁচাতে এলে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে প্রধান সঞ্জিত সর্দার ইট ছুড়তে থাকেন।
এই ঘটনায় বাগদা থানার দারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীর স্ত্রী মুনমুন বিশ্বাস। তিনি বলেন, দোকানে বসে গালাগাল করেন প্রধানের অনুগামীরা। মদ্যপানও করেন। দোলের দিন দোকান বন্ধ থাকায় ওঁরা স্বামীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করছিলেন। স্বামী প্রতিবাদ করলে মারধর শুরু করেন। ঠেকাতে গেলে আমাকেও ধাক্কা দেওয়া হয়। প্রধান আমার দিকে ইট ছুঁড়ে মারেন। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান সঞ্জিত সর্দার। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি ওখানে ছিলামই না। ওই ব্যবসায়ী আমাদের এক প্রতিবন্ধী সদস্যকে মারধর করছিলেন। আমি বিষয়টি জানতে পেরে পুলিসকে খবর দিই। এরপর ঘটনাস্থলে আসি। হাতে ইট নিয়ে মারমুখী হওয়া প্রসঙ্গে প্রধান বলেন, সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। তাদের ভয় দেখাতেই হাতে ইট নিয়েছিলাম। তবে কাউকে মারা হয়নি। এ বিষয়ে বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, পুলিস তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।