Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মিষ্টিতে রং, দোকানের কর্মচারীকে কান ধরে ওঠবস, বিতর্কে প্রশাসন

মিষ্টিতে রং, দোকানের কর্মচারীকে কান ধরে ওঠবস, বিতর্কে প্রশাসন
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মিষ্টির দোকানে বিক্রি হচ্ছে বাসি পচা খাবার! রকমারি মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে 'বিষ' রং! বৃহস্পতিবার সাঁইথিয়া ব্লকের আহমদপুরের একটি মিষ্টির দোকানের কর্মচারীকে প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করান জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। এর জেরে বীরভূম জেলাজুড়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তাদের ভূমিকার নিন্দা করেছেন ব্যবসায়িক সংগঠনের সদস্যরা। কর্মচারীকে কান ধরে ওঠবস করানোয় ওই দোকানের মালিকও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের কর্তাদের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। সিউড়ি মার্চেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা কোনও দোকানের কর্মীকে কান ধরে ওঠবস করাতে পারেন না। প্রয়োজনে রং বাজেয়াপ্ত করে দোকান মালিককে জরিমানা করতে পারেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। 

Advertisement

হোটেল থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টির দোকানগুলির খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে বীরভূম জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে। সিউড়ি, রামপুরহাটের পর এদিন আহমদপুরে অভিযান চালানো হয়। এদিন শুরুতেই খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা একটি মিষ্টির দোকানে হানা দেন। সেই দোকান থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া মিষ্টি সিঙ্গারা উদ্ধার করা হয়। একইভাবে একাধিক মিষ্টির দোকানে অভিযান চলে। কোথাও নষ্ট হয়ে যাওয়া জিলিপি, আবার কোনও দোকান থেকে বাসি গজা উদ্ধার করা হয়েছে। সেসব দোকানের মালিকদের ওই খাবার জিনিস ফেলে দিতে বলা হয়। একটি মিষ্টির দোকান থেকে পোড়া তেল উদ্ধার করে নষ্ট করা হয়। সেইসঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ দই নষ্ট করা হয়। 
এদিন অভিযান চলাকালীন একটি মিষ্টির দোকান থেকে শিল্পে ব্যবহৃত রং উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, ওই রং মিষ্টি তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। ঘটনায় ওই দোকানের এক কর্মচারীকে প্রকাশ্য রাস্তায় কান ধরে ওঠবস করানো হয়। তা দেখে এলাকায় তুমুল হইচই পড়ে যায়। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের চলা অভিযানে দেখা গিয়েছে একাধিক মিষ্টির দোকান ও রেস্টুরেন্টের কোনও লাইসেন্স নেই। ওই দোকান মালিকদের নোটিস করা হয়েছে। 
খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়াও অনেকেই লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করছেন। একটি দোকান থেকে শিল্পে ব্যবহৃত রং উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে নোটিস করা হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতি বদল না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিষ্টি ব্যবসায়ী অলোক দাস বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই দোকান চলছে। আমার দোকানের কর্মচারীকে কান ধরে ওঠবস করানোয় খুব খারাপ লাগছে। আধিকারিকরা আমাকে ওঠবস করাতে পারতেন। এতদিন না জেনেই ভুল করেছি। আর ভুল করব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ