Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বরূপনগরে শুটআউট: ধৃতের বাড়ি থেকে উদ্ধার ১৭ লক্ষ টাকা ও বিলাসবহুল গাড়ি

অন্যদিকে, রবিবার রাতেই বসিরহাট থানার শাকচূড়া এলাকা থেকে গুলিকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্ত গৌতম ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বরূপনগরে শুটআউট: ধৃতের বাড়ি থেকে উদ্ধার ১৭ লক্ষ টাকা ও বিলাসবহুল গাড়ি
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্বরূপনগরে শ্যুটআউটের ঘটনায় নয়া মোড়। এক পাচারকারীকে গুলি করার অভিযোগে ধৃত মোহন্ত দাসের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল কয়েক লক্ষ টাকা, সোনার গয়না, দামি চারচাকার গাড়ি ও একটি বাইক। রবিবার রাতে বসিরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মোহন্ত দাসের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালিয়ে এইসব উদ্ধার করেছে বসিরহাট ও স্বরূপনগর থানার পুলিস। এই বিপুল পরিমাণ এই সামগ্রী কোথা থেকে এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। অন্যদিকে, রবিবার রাতেই বসিরহাট থানার শাকচূড়া এলাকা থেকে গুলিকাণ্ডে আরও এক অভিযুক্ত গৌতম ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Advertisement

গত ৬ মার্চ স্বরূপনগরের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দত্তপাড়া এলাকায় শ্যুটআউটের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ‘সোনা পাচারকারী’ ইসারুল গাজির (৩২)। দুষ্কৃতীরা পালানোর আগে ইসারুলের পরনে থাকা জ্যাকেটটি খুলে নিয়ে পালায়। স্থানীয়দের অনুমান, ওই জ্যাকেটই ছিল খুনের ‘আসল’ রহস্য। তাতে সোনা ছিল বলে দাবি করেছে স্থানীয়দের একাংশ। এই ঘটনায় মোট ছ’জনকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তারা প্রত্যেকেই ছিল ইসারুলের সিন্ডিকেটের ‘পার্টনার।’ সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে অন্যতম বসিরহাট শহরের বাসিন্দা মোহন্ত দাস। পুলিসের ধারণা, এই ঘটনায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ সে। তাকে দফায় দফায় জেরা করে এই বিশাল সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে পুলিস। রবিবার রাতে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিস উদ্ধার করে ১৭ লক্ষ টাকা, একটি চারচাকার গাড়ি, একটি বাইক ও বেশ কিছু সোনার গয়না। ইসারুল থাকত স্বরূপনগরের তারালি গ্রামে। ওই দিন সকালে হাকিমপুর থেকে বাইকে করে স্বরূপনগরে আসছিল সে। পথে দত্তপাড়ার কাছে আচমকা তাঁর বাইক থামায় দুষ্কৃতীরা। তারা ইসারুলের কাছ থেকে ‘জ্যাকেটবন্দি’ সোনা হাতানোর চেষ্টা করে। ‘বাধা’ দিলে প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। পরে, কথা কাটাকাটি চলাকালীন এক দুষ্কৃতী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেয়। স্থানীয়দের দাবি, ইসারুল দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত। পুলিস তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করেছিল। মূলত, পাচারের সিন্ডিকেট চালাত ইসারুল। যারা ধরা পড়েছে, তারাও ছিল ওই সিন্ডিকেটে।
জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন ইসারুলের জ্যাকেটের মধ্যে প্রায় এক কেজি সোনার বাট লুকনো ছিল। সেই সোনার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই চলছিল বিবাদ। সেই সোনা তারা বাজারে বিক্রিও করে দিয়েছে। তবে তার মধ্যে সিংহভাগই উদ্ধার করেছে পুলিস। বাকি অংশও উদ্ধার হবে বলে আশাবাদী পুলিস। এনিয়ে বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, গুলিকাণ্ডে মোট ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে তদন্তের কিনারা প্রায় সম্পূর্ণ। শ্যুটআউটের কারণ ছিল সোনা। রবিবার রাতে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার বাড়ি থেকে টাকা সহ বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। আমরা সব দিক 
খতিয়ে দেখছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ