Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গভীর রাতে গঙ্গার ঘাটে শ্যুটআউট! ভায়রাভাইকে গুলি করে খুনের চেষ্টা ‘দাগী’ দুষ্কৃতীর

গভীর রাতে শহরে শ্যুট আউট! তাও আবার গঙ্গার ঘাটে একেবারে সিনেমার কায়দায়! প্রথমে শূ্ন্যে গুলি ছুড়ে স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গভীর রাতে গঙ্গার ঘাটে শ্যুটআউট! ভায়রাভাইকে গুলি করে খুনের চেষ্টা ‘দাগী’ দুষ্কৃতীর
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গভীর রাতে শহরে শ্যুট আউট! তাও আবার গঙ্গার ঘাটে একেবারে সিনেমার কায়দায়! প্রথমে শূ্ন্যে গুলি ছুড়ে স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ফাঁকা ঘাটে নিজের ভায়রাভাইকে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে অভিযুক্ত। ঘটনাস্থল থেকে স্কুটারে চেপে দ্রুত চম্পট দেয় সে।

Advertisement

শনিবার রাতে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগান এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুলি চলার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় উত্তর বন্দর থানার পুলিশ। জখম ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় তারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সেখানে ভরতি করা হয়েছে গুলিবিদ্ধকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, জখম ব্যক্তির নাম সন্তোষ চৌধুরী। জোড়াবাগান থানা এলাকারই বাসিন্দা তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর পেটে গুলি লেগেছে। অস্ত্রোপচার করে গুলি বার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযুক্ত দুষ্কৃতী সম্পর্কে সন্তোষের ভায়রাভাই। তার নাম অমিত সোনকার ওরফে কার্তিক সোনকার ওরফে খরগোশ। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ফেরার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের খাতায় একাধিক পুরানো মামলা রয়েছে। পুলিশের পরিভাষায় তাকে ‘দাগী’  বলা যায়। 
হাসপাতালে গিয়ে ইতিমধ্যে আহত ব্যক্তির বয়ান সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জেনেছে, শনিবার রাত ১২টা নাগাদ প্রসন্নকুমার ঠাকুর ঘাটে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত অমিত তথা খরগোশের সঙ্গে তার স্ত্রীর সাংসারিক বিবাদ চলছিল। সেই বিবাদকে কেন্দ্র করে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গেও বচসা হয় তার। সেই বচসা মেটাতে কথা বলার জন্য ভায়রাভাই সন্তোষকে ওই ঘাটে ডাকে খরগোশ। রাত ১২টা নাগাদ ঘাটে যান সন্তোষ। অভিযোগ, তখন স্কুটারে চেপে সেখানে পৌঁছে আচমকাই কোমর থেকে পিস্তল বার করে আকাশের দিকে তাক করে পরপর গুলি ছুড়তে থাকে খরগোশ। রাত হলেও তখন গঙ্গার ঘাটে অনেকেই ছিল। গুলির শব্দে সবাই পড়িমরি করে পালায়। সন্তোষও পালানোর চেষ্টা করেন। তখনই একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে ভায়রাভাইয়ের পেটে গুলি চালায় অভিযুক্ত। পেট চেপে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সন্তোষ। চম্পট দেয় অভিযুক্ত। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়রাই ফোন করে থানায় খবর দেয়। লালবাজার সূত্রে খবর, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আহতের পরিবারের তরফে উত্তর বন্দর থানায় ঘটনার বিবরণসহ লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে পুলিশ খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে। অভিযুক্তের সন্ধানে শুরু হয়েছে তল্লাশি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ