Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জুয়ার ঠেকের দখল নিতেই ভাটপাড়ায় গুলি, গ্রেপ্তার ৬

রবিবার দুপুরে ভাটপাড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রায় বাহাদুর রোডের নিমবাগানে বাইকে এসে দুষ্কৃতীরা পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল।

জুয়ার ঠেকের দখল নিতেই  ভাটপাড়ায় গুলি, গ্রেপ্তার ৬
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: জুয়ার ঠেকের দখল নিয়ে তপ্ত ভাটপাড়া। রবিবার দুপুরে ভাটপাড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রায় বাহাদুর রোডের নিমবাগানে বাইকে এসে দুষ্কৃতীরা পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। পুলিশ দু’জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। সেই সূত্র ধরেই কাঁকিনাড়া ও ভাটপাড়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে রাতভর চলে তল্লাশি। ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে জুয়া ও সাট্টার ঠেক ভেঙে দেয় পুলিশ। ধৃতেরা হল, সুমিত বিশ্বাস, বিকাশ ঘোষ, ঝন্টু দাস, বিপ্লব এবং সুশান্ত পাল ওরফে বাবুসোনা। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, ধৃতরা নৈহাটির এক শ্রমিক নেতার ঘনিষ্ঠ। ওই শ্রমিক নেতাকেও পুলিশ ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।  
এছাড়া মুগলি নামে আরও এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য একটি মারধরের ঘটনার প্রেক্ষিতে জগদ্দলের এক তৃণমূল নেতার ঘনিষ্ঠ মোগলি ওরফে সানি যাদবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। যার বিরুদ্ধে খুন, মারধর, তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ আছে। সম্প্রতি সে জেল থেকে ছাড়া পায়। দিন কয়েক আগে রেল সাইডিংয়ের এক ঠিকাদারের থেকে তোলা চেয়ে না পাওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। পুলিশ তদন্তে নেমে জেনেছে, এলাকার দখলদারি নিয়ে মোগলি ও বাবুসোনার গ্যাংয়ের মধ্যে গোলমাল চলছিল। কারণ ছিল ওই এলাকায় বেআইনি জুয়া, সাট্টার দখলদারি। বারাকপুর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ টিম হানা দিয়ে বেআইনি ওই ঠেক ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। ফলে কিছুদিন তা বন্ধ থাকার সুযোগে আগে যারা ওই জুয়া, সাট্টার ঠেকের নিয়ন্ত্রক ছিল তাদের সরিয়ে অন্য একদল সেখানে ঢুকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছিল। আর তাতেই দুপক্ষের বিবাদ বাধে। 
পুলিশ সূত্রে খবর, এই বিবাদের মাঝেই গত ৩ জানুয়ারি রেলের এক ঠিকাদারের কাছে মোগলি তোলা চায়। তাঁকে মারধর করে। মুগলি গ্যাংকে সবক শেখাতে রবিবার দুপুরে ওই এলাকায় বাইক নিয়ে ঢুকে শূন্যে পরপর গুলি চালায় বাবুসোনার দলবল। 

Advertisement


বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ধৃতদের বারাকপুর আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজত হয়। ভাটপাড়া থানার পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ তাঁরা কোথা থেকে পেয়েছিল। তাদের সঙ্গে আর কে কে জড়িত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ