Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশি নিরাপত্তা পেতেই গুলি? চারু মার্কেটের জিম কাণ্ডে ‘দুষ্কৃতী ভাড়া’, তদন্তে লালবাজার

শাসক দল ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী জয় কামদারের সরকারি নিরাপত্তার জন্য রীতিমতো তদ্বির করছেন বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশি নিরাপত্তা পেতেই গুলি? চারু মার্কেটের জিম কাণ্ডে ‘দুষ্কৃতী ভাড়া’, তদন্তে লালবাজার
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: গুলি চালানোর জন্য টাকার বিনিময়ে দুষ্কৃতী ভাড়া করা হয়েছিল— চারু মার্কেট থানার দেশপ্রাণ শাসমল রোডের জিমের শ্যুটআউট কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য হাতে এসেছে লালবাজারের। তবে কে বা কারা দুষ্কৃতী দলটিকে ভাড়া করেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

Advertisement

তবে এই  ঘটনার তদন্তে লালবাজার জানতে পেরেছে, গুলি চলার আগে জিমের মালিক তথা প্রোমোটার জয় কামদার ৪ জন সরকারি নিরাপত্তারক্ষী চেয়ে কলকাতা পুলিসের কাছে আবেদন করেছিলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিসের এক কর্তা জানাচ্ছেন, ‘গুলি কাণ্ডের সঙ্গে নিরাপত্তা চাওয়ার কোনও যোগ আছে কি না, তদন্তে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’ সেই আবেদন এখনও বিবেচনাধীন। শাসক দল ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ী জয় কামদারের সরকারি নিরাপত্তার জন্য রীতিমতো তদ্বির করছেন বলে জানা গিয়েছে। 
উল্লেখ্য, এরাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষস্তরে থাকা অন্তত হাফ ডজন আইপিএস অফিসারদের সঙ্গে জয় কামদারের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কলকাতা পুলিসে একাধিক ডিসি, রাজ্য পুলিসের একাধিক ডিআইজি প্রায় নিয়মিত জয় কামদারের ভবানীপুরের জিমে কসরত করতে যান। গুলি কাণ্ডের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা এখন জানতে চাইছেন, তবে কি গুলির চলার ঘটনাকে ঢাল করে সরকারি নিরাপত্তা পেতে চাইছেন ওই প্রোমোটার? সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠবে, কার পরামর্শে গুলি চালানোর জন্য এই দুষ্কৃতী দলটিকে ভাড়া করা হয়েছিল? এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে জয় কামদারকে ফোন করা হলে, তিনি বলেন, বাড়ির লক্ষ্মীপুজো নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি, পরে ফোন করছি। 
গত ২১ সেপ্টেম্বর ঠিক পুজোর মুখে কলকাতার চারু মার্কেট থানার দেশপ্রান শাসমল রোডে কলকাতার প্রভাবশালী প্রোমোটার জয় কামদারের জিমে দুষ্কৃতীদল গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, হামলার সময় দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে এসে, জিমের রিসেপশনিস্টকে মালিক জয় কামদারকে ডেকে দিতে বলেন। জিমের ভেতর থেকে মালিক বেরিয়ে আসার আগে মেঝেতে পরপর দু’রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতী দলটি।  তদন্তে লালবাজার জানতে পেরেছে, গুলি চালানোর পর দুষ্কৃতী দলটিকে খেয়াদহ এলাকায় দেখা গিয়েছে। কলকাতার অপরাধ জগতের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘জিমে  গুলি চালানোর জন্য অতীতে জেলখাটা একাধিক দুষ্কৃতীকে মোটা টাকার টোপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশি ঝামেলার কথা ভেবে কয়েকজন সেই প্রস্তাবে ফিরিয়ে দেয়।’ বিশেষ সূত্রে খবর, এই গুলি কাণ্ডে শাসক দল ঘনিষ্ঠ কসবার এক কুখ্যাত দুষ্কৃতীর ছায়াসঙ্গীর নাম আসছে। গোয়েন্দারা অবশ্য এখনও বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে হাতরাচ্ছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ