Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মজা করতে গুলি! নাবালকের এয়ার গানে রক্তাক্ত যুবক

বাবার কাছে নাবালক ছেলে আবদার করেছিল এয়ারগান কিনে দেওয়ার। বিত্তশালী বাবা একমাত্র সন্তানের শখ মেটাতে তা কিনেও দিয়েছিলেন।

মজা করতে গুলি! নাবালকের এয়ার গানে রক্তাক্ত যুবক
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাবার কাছে নাবালক ছেলে আবদার করেছিল এয়ারগান কিনে দেওয়ার। বিত্তশালী বাবা একমাত্র সন্তানের শখ মেটাতে তা কিনেও দিয়েছিলেন। এয়ারগান হাতে পাওয়ার পর থেকেই দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রের ইচ্ছা ছিল, সেটি থেকে গুলি ছোড়ার। আর তা করতে গিয়েই ঘটিয়ে বসাল বিপদ। তার ছোড়া গুলিতে আহত হলেন অভিষেক রায় নামে নিরীহ এক যুবক। তিনি তখন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারছিলেন। রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বেহালা থানার জেমস লং সরণি ও বনমালী ঘোষ লেনের সংযোগস্থলে। আহত যুবকের পেটে গুলি লেগেছে। তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত নাবালককে চিহ্নিত করেছে থানা। ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। 

Advertisement


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এস এন রায় রোডের বাসিন্দা অভিষেক রায় রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারতে এসেছিলেন জেমস লং সরিণতে। আড্ডা মারার পাশাপাশি সকলেই চা খাচ্ছিলেন। এই সময় আচমকাই উল্টো দিকের বাড়ি থেকে একটি প্যালেট (ছররা) ছুটে আসে। এয়ারগানের ওই প্যালেট অভিষেকের পেটে লাগে। তিনি সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। কিন্তু কোথা থেকে তা এল, প্রথমে কেউ বুঝতে পারছিলেন না। সেখানে থাকা এক যুবকের নজরে পড়ে, উল্টো দিকের বাড়ির ছাদে এক নাবালক এয়ারগান নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁরা নিশ্চিত হন, প্যালেট ওই বাড়ির ছাদ থেকেই এসেছে। অভিষেকের বন্ধুরা তাঁকে প্রথমে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে ওই যুবককে স্থানান্তরিত করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। অপারেশন করে প্যালেটটি বের করেন চিকিৎসকরা। অভিষেক সেখানেই চিকিৎসাধীন। এয়ারগান থেকে প্যালেট ছোড়া এবং তাতে একজনের জখম হওয়ার খবর পেয়ে আসে বেহালা থানার পুলিশ। ঠিক কোন বাড়ি থেকে প্যালেট ছোড়া হয়েছে, পুলিশকে তা দেখান অভিষেকের বন্ধুরা। তদন্তকারী অফিসাররা ওই বাড়িতে যান। সেখান থেকে একটি এয়ারগান বাজেয়াপ্ত করেন। 


পুলিশ ওই নাবালকের বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, ছেলে অনেকদিন ধরেই পাখি মারার বন্দুক কেনার জন্য বায়না ধরেছিল। বিত্তশালী বাবা ছেলের আবদার রাখতে দিন কুড়ি আগে একটি এয়ারগান কিনে আনেন। তার আগে এরজন্য লাইসেন্স বের করেন। পাখি মারার বন্দুকটি নাবালক ছেলের কাছেই সারাক্ষণ থাকত। কীভাবে গুলি চালাতে হয়, তা জানতে ইউটিউবে ভিডিও দেখে। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই নাবালক পরিকল্পনা করে মজা করার জন্য একদিন গুলি চালিয়ে দেখবে। ছাদ থেকে এই গুলি চালাবে রাতের দিকে। সেইমতো মজা করতেই এক গুলি চালিয়ে বসে রবিবার রাতে। শূন্যে ফায়ার করার চেষ্টা করলেও, এয়ারগানটি কন্ট্রোল করতে পারেনি। যে কারণে গুলি  ছুটে যায় উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের পেটে। তারপরেও ওই নাবালক এতটুকুও ভয় পায়নি। কিছুই হয়নি, এমন ভঙ্গিমায় এয়ারগানটি নিয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে ছাদে। ঘটনার পরেও ওই নাবালক বুঝে ওঠেনি, ঠিক কতবড় কাণ্ড ঘটে গিয়েছে। পুলিশের কাছে তার বক্তব্য, আমি তো কিছুই করিনি।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ