নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ফোন করলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তবে দুই মন্ত্রীর কথাবার্তায় প্রশাসনিক বিষয়ের পাশাপাশি প্রাধান্য পেল বাংলার সৌজন্য। বুধবার দাদু হয়েছেন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ঘরে লক্ষ্মী আসায় তাঁর আনন্দের কথা জানিয়েছিলেন এক্স হ্যান্ডেলে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলার কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে নাতনির জন্য আশীর্বাদ চেয়ে নিলেন কেন্দ্রের এই মন্ত্রী। কথা বলার সময়েই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানতে পারেন যে শোভনদেববাবু বাংলায় ব্রাহ্মণ। সেকথা জানতে পেরেই রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীকে তাঁর নাতনিকে আশীর্বাদ করার কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ সারা দেশের কাছে সৌজন্যের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। ফলে এক সেকেন্ডও দ্বিধা না করে শোভনদেববাবু লক্ষ্মীর সুস্থ জীবনের কামনা জানিয়ে আশীর্বাদ করেন।
কিন্তু, কেন হঠাৎ করে কথা হল দুই মন্ত্রীর? সূত্রের খবর, রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার ৩০৯ কোটি টাকার ন্যায্য প্রাপ্য আটকে রয়েছে কেন্দ্রের ঘরে। নির্দিষ্ট একটি ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার ইস্যু দেখিয়ে রাজ্যের এই টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে। রাজ্য কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না। সিদ্ধান্ত নবান্নের। আর এই টাকার দাবি জানাতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন শোভনদেববাবু। বুধবার একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। তবে বৃস্পতিবার দুপুর ১২ টা ২০ মিনিটে ফোনে কথা হল দুই মন্ত্রীর। যেখানে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের বকেয়ার বিষয়টি দেখে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও যতদিন না সেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে ততদিন নিশ্চিন্ত হওয়ার জায়গা নেই। মত প্রশাসনিক মহলের।
এবিষয়ে শোভনদেববাবুর বক্তব্য, একদিন আগে ভার্চুয়াল বৈঠক যোগ দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে। আগে থেকে নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় সেই বৈঠকে যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। সামান্য এই কারণে রাজ্যের টাকা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে বিষয়টি লঘুপাপে গুরুদণ্ডের মতোই হবে। একথাও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে জানিয়ে রাজ্যের ন্যায্য প্রাপ্য দ্রুত মেটানোর দাবি জানানো হয়।